Navi Mumbai murder case, husband killed wife arrested | নবী মুম্বই কাণ্ডে চাঞ্চল্য: স্বামী খুন করে দেহ টুকরো, ১১ মাস পর গ্রেফতার স্ত্রী ও প্রেমিক

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই : মহারাষ্ট্রের নবী মুম্বইয়ে (Navi Mumbai) এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নতুন মোড় এল প্রায় এক বছর পর। নিখোঁজ এক যুবকের রহস্যজনক অন্তর্ধানের তদন্ত ঘিরে সামনে এল শিহরণ জাগানো তথ্য। অভিযোগ, স্বামীকে খুন করে তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে জঙ্গলে ফেলে দিয়েছিলেন স্ত্রী। সেই ঘটনায় ১১ মাস পর গ্রেফতার করা হল অভিযুক্ত মহিলা এবং তাঁর প্রেমিককে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়, তদন্তে নেমে একাধিক তথ্য সামনে এনেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, নিহত ব্যক্তির নাম বলিরাম সূর্যনাথ কুশাওয়াহা (Baliram Suryanath Kushwaha)। গত বছরের অগস্ট মাসে আচমকাই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর খোঁজ চললেও কোনও হদিস মেলেনি। তদন্তকারীরা শুরু থেকেই পরিবারের সদস্যদের উপর নজর রাখছিলেন। বিশেষ করে বলিরামের স্ত্রী সুনীতা (Sunita) -এর গতিবিধি খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | ৪০ বছর পর ঐতিহাসিক সফর: কৌশলগত অংশীদারিত্বে উন্নীত ভারত-নিউজিল্যান্ড সম্পর্ক 

তদন্ত এগোতে থাকায় ধীরে ধীরে সন্দেহ ঘনীভূত হয় সুনীতাকে কেন্দ্র করে। সোমবার তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরে জেরার মুখে ভেঙে পড়েন। তাঁর বক্তব্যের সূত্র ধরে সামনে আসে এক অটোচালকের নাম, রাহুল দশরথ প্রজাপতি (Rahul Dashrath Prajapati)। পরে তাকেও আটক করা হয়। দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাতেই বেরিয়ে আসে পুরো ঘটনার বিবরণ। তদন্তকারীদের দাবি, সুনীতা ও রাহুল দু’জনেই অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন। জানা গিয়েছে, রাহুলের সঙ্গে সুনীতার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বলিরাম সেই সম্পর্কের কথা জানতে পেরে আপত্তি জানান। এর পর থেকেই তাঁদের মধ্যে অশান্তি শুরু হয়। অভিযোগ, সেই পরিস্থিতিতে বলিরামকে সরানোর পরিকল্পনা করেন সুনীতা এবং তাঁর প্রেমিক।

পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের ৯ অগস্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়। তার আগে নিজের দুই সন্তানকে আত্মীয়ের বাড়িতে পাঠিয়ে দেন সুনীতা। ওই রাতেই ঘুমন্ত অবস্থায় বলিরামকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এই পুরো ঘটনায় সক্রিয় ভূমিকা ছিল রাহুলেরও। ঘটনার পর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অধ্যায় শুরু হয়। তদন্তকারীদের দাবি, অপরাধের চিহ্ন মুছে ফেলতে দু’জনে মিলে বলিরামের দেহ টুকরো টুকরো করে কাটেন। তারপর সেই দেহাংশ বস্তায় ভরে লুকিয়ে রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে রাহুলের অটো ব্যবহার করে সেই দেহাংশ নিয়ে যাওয়া হয় গাওলি দেব পাহাড়ি জঙ্গল এলাকায়। সেখানে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দেওয়া হয় দেহাংশ, যাতে সহজে কোনও প্রমাণ উদ্ধার না করা যায়।

বলিরাম নিখোঁজ হওয়ার পর কিছুদিনের মধ্যেই নিজের সন্তানদের নিয়ে ভাড়াবাড়িতে চলে যান সুনীতা। পরে তিনি একাই থাকতে শুরু করেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করে। বিশেষ করে বলিরামের ভাই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে থাকেন। অবশেষে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি নতুন করে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন এবং সরাসরি সুনীতার বিরুদ্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

এই নতুন অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে গতি আসে। সুনীতাকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তখনই ঘটনার জট খুলতে শুরু করে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাহুলের অবস্থান চিহ্নিত করে পুলিশ। সোমবার তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বর্তমানে দু’জনই পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত আরও প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে। জঙ্গলের বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালানো হচ্ছে দেহাংশ বা অন্য কোনও প্রমাণের সন্ধানে। ফরেনসিক দলকেও কাজে লাগানো হয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে একটি নিখোঁজ ঘটনা যে এমন ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ডে পরিণত হয়েছে, তা সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে এলাকায়। পরিবার-পরিজনের কাছেও এই ঘটনা ছিল অকল্পনীয়। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা এই মামলাটি আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছিলাম। পরিবারের নতুন অভিযোগের পর তদন্তে নতুন দিশা মেলে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অভিযুক্তদের জেরা করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গিয়েছে, তদন্ত চলছে।’

আইন অনুযায়ী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে খুন, প্রমাণ লোপাট ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আদালতে তোলা হলে তাঁদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় আবারও উঠে এসেছে পারিবারিক সম্পর্কের জটিলতা ও তার ভয়াবহ পরিণতির দিকটি। তদন্ত এগোলে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। আপাতত পুলিশের নজর প্রমাণ সংগ্রহ এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার দিকে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Atmanirbhar Bharat Defence, PM Narendra Modi | আত্মনির্ভরতার জোরে বদলেছে ভারতের প্রতিরক্ষা শক্তি, বললেন মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন