Suvendu Adhikari commission, West Bengal corruption probe | দুর্নীতির অভিযোগে বড় পদক্ষেপ, তৃণমূল আমলের কাজ খতিয়ে দেখতে কমিশন গঠন শুভেন্দু সরকারের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার। তৃণমূল কংগ্রেসের শাসনকালের বিভিন্ন অভিযোগ ঘিরে তদন্তের পথে হাঁটল মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-এর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন। ২০১১ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত সময়সীমায় রাজ্যের একাধিক দফতরে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে কমিশন গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে। নবান্ন (Nabanna)-এর তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই তদন্তের দায়িত্বে থাকছেন কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)-এর অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Biswajit Basu)।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari Rathyatra grant, Shravan Mela helicopter flower shower | রথযাত্রা : ৬০ কমিটিকে অনুদান, শ্রাবণে জলযাত্রীদের জন্য কপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

সরকারি সূত্রে খবর, শিক্ষা, খাদ্য ও জোগান, ত্রাণ ও বিপর্যয় মোকাবিলা, পুরসভা ও পঞ্চায়েত নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্ষেত্র, আবাসন এবং মৎস্য দফতর-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিভাগের কাজের মধ্যে যে অভিযোগগুলি সামনে এসেছে, সেগুলিকে কেন্দ্র করেই এই কমিশন কাজ শুরু করবে। দীর্ঘ সময় ধরে জমে থাকা অভিযোগগুলিকে প্রশাসনিক স্তরে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। নবান্ন থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত দেড় দশকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্প, বরাদ্দ এবং পরিষেবা বণ্টনের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগগুলির উৎস, প্রক্রিয়া এবং সম্ভাব্য দায় নির্ধারণের জন্যই কমিশন কাজ করবে। অভিযোগের পরিধি বিস্তৃত হওয়ায় তদন্তের ক্ষেত্রও যথেষ্ট বড় হতে চলেছে বলে প্রশাসনিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।

ভোটে জয়-লাভের পর থেকেই দুর্নীতি ইস্যুতে কড়া অবস্থানের কথা তুলে ধরেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকার দুর্নীতির প্রশ্নে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলবে। বিধানসভাতেও সেই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই ভাবছেন, দু’মাস জেলে থাকলাম, তার পর আইনি লড়াই করে বেরিয়ে এলাম! তাঁদের মনে রাখতে হবে, এ বার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করব। সম্পত্তি নিলাম করব।’ এই মন্তব্যে প্রশাসনিক স্তরে কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। শুধু আইনি ব্যবস্থাই না, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সম্পত্তি নিয়ে কড়া পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘হরিশ চ্যাটার্জি, হরিশ মুখার্জি রোড-সহ আমতলার প্রাসাদগুলিতে কলকাতায় উড়ালপুলের নিচে থাকা মানুষদের থাকার ব্যবস্থা করব।’ তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল।

এবার সেই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেই কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, কমিশন নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে তদন্তের কাজ সম্পন্ন করে রিপোর্ট জমা দেবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধীদের একাংশের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এলেও তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়নি। ফলে এই কমিশন সেই সমস্ত অভিযোগের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারে। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর তরফে এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি।

কমিশনের নেতৃত্বে থাকা বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু (Biswajit Basu) -এর অভিজ্ঞতা এই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করছেন প্রশাসনিক মহলের একাংশ। দীর্ঘ বিচারিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করবেন, এমন প্রত্যাশা করা হচ্ছে। শিক্ষা ও নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগ, খাদ্য বণ্টনে অনিয়ম, ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, পুরসভা ও পঞ্চায়েত স্তরে প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি, এই সব বিষয়ই কমিশনের আওতায় আসতে পারে। পাশাপাশি আবাসন প্রকল্প এবং মৎস্য দফতরের কিছু কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল বলে জানা গিয়েছে। ফলে তদন্তের পরিধি যথেষ্ট বিস্তৃত এবং বহুমাত্রিক হতে চলেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপ আগামী দিনে রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড় প্রভাব ফেলতে পারে। একদিকে যেমন দায় নির্ধারণের প্রশ্ন উঠবে, তেমনই ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নে আরও সতর্কতা অবলম্বনের পরিবেশ তৈরি হতে পারে। দুর্নীতির অভিযোগের ক্ষেত্রে কড়া পদক্ষেপের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই এই সিদ্ধান্তের অন্যতম লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই প্রশাসনিক সংস্কারের কথা বলা হচ্ছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এই কমিশন গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি এবং চূড়ান্ত রিপোর্টের উপরই নির্ভর করবে পরবর্তী রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণ।

রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছেও এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে ওঠা অভিযোগগুলির নিষ্পত্তি হলে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। এখন নজর থাকবে কমিশনের কাজের গতি এবং তার ফলাফলের দিকে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi Auckland speech, India New Zealand ties | ‘২৫ বছর আগে বন্ধুর দেওয়া মাফলার এখনও আছে’ : অকল্যান্ডে আবেগঘন মোদী, প্রবাসী ভারতীয়দের সামনে পুরনো স্মৃতি ও নতুন সম্পর্কের বার্তা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন