সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের মঞ্চে ফুটবল যতটা কৌশল ও দক্ষতার খেলা, ততটাই আবেগেরও প্রকাশ। সেই আবেগই এ বার প্রকাশ পেল লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi) -এর আচরণে, যখন সুইৎজারল্যান্ড (Switzerland) -এর বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন রেফারির সঙ্গে প্রকাশ্যেই তর্কে জড়িয়ে পড়লেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক। মাঠের সেই মুহূর্ত দ্রুত সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা ঘিরে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা। রবিবারের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে গোলের খোঁজে বারবার চেষ্টা করেও সফল হচ্ছিলেন না মেসি। আর্জেন্টিনার (Argentina) আক্রমণভাগে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি সত্ত্বেও সুইৎজ়ারল্যান্ডের রক্ষণভাগ শক্ত হাতে প্রতিরোধ গড়ে তুলছিল। একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও গোলের মুখ খুলতে না পারায় কিছুটা অস্থির দেখাচ্ছিল তাঁকে। সেই মানসিক চাপই যেন দ্বিতীয়ার্ধে এক বিতর্কিত মুহূর্তে বিস্ফোরিত হয়।
ঘটনাটি ঘটে সুইৎজারল্যান্ডের একটি ফ্রিকিকের সময়। আর্জেন্টিনার ডিফেন্স লাইনে তৈরি করা মানব দেওয়ালে দাঁড়িয়েছিলেন মেসিও। সেই সময় ম্যাচের দায়িত্বে থাকা পর্তুগালের (Portugal) রেফারি জোয়াও পিনেইরো (João Pinheiro) কিছু নির্দেশ দেন খেলোয়াড়দের। সেই নির্দেশের ধরন বা ভাষা পছন্দ হয়নি মেসির। তিনি সঙ্গে সঙ্গে আপত্তি জানান এবং রেফারির দিকে তাকিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন পিনেইরো কিছুটা কড়া সুরে মেসিকে কিছু বলেন। তাতেই নিজের সংযম ধরে রাখতে পারেননি আর্জেন্টিনার তারকা। আঙুল উঁচিয়ে রেফারির দিকে তাকিয়ে মেসি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ঠিক ভাবে কথা বলুন। অসম্মান করে আমার সঙ্গে কথা বলবেন না। আমি আপনার সঙ্গে ভদ্র ভাবে কথা বলছি, আপনাকেও একইভাবে কথা বলতে হবে।’ মাঠের মধ্যে এই দৃশ্য দেখে এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে পড়েন উপস্থিত খেলোয়াড়রা।
মেসির এই প্রতিক্রিয়ার পর আর পরিস্থিতি বাড়তে দেননি রেফারি। তিনি বিষয়টি সেখানেই থামিয়ে দেন এবং খেলা এগিয়ে নিয়ে যান। তবে সেই মুহূর্ত ক্যামেরায় ধরা পড়ে যায় এবং পরবর্তীতে তা ভাইরাল হয়ে যায় বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে। জোয়াও পিনেইরো আন্তর্জাতিক ফুটবলে কড়া রেফারি হিসেবে পরিচিত। ৩৮ বছর বয়সী এই রেফারির বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক ম্যাচে বেশি কার্ড দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। তিনি আগেও বেশ কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জন্য শিরোনামে এসেছেন। চলতি বিশ্বকাপেও তাঁর রেফারিং নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুইৎজ়ারল্যান্ড বনাম বসনিয়া (Bosnia) ম্যাচে তিনি বসনিয়ার তারিক মুহারেমোভিচ (Tarik Muharemović)-কে লাল কার্ড দেখিয়েছিলেন, যা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল।
তবে অন্য একটি ম্যাচে তুলনামূলক শান্ত রেফারিংও দেখা গিয়েছে তাঁর কাছ থেকে। কানাডা (Canada) বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) ম্যাচে তিনি মাত্র দু’টি হলুদ কার্ড দেখান এবং ম্যাচটি নির্বিঘ্নে পরিচালনা করেন। ফলে পিনেইরোর রেফারিং নিয়ে মতভেদ বরাবরই রয়েছে। ম্যাচের আগে থেকেই পিনেইরোর রেফারিং স্টাইল সম্পর্কে অবগত ছিলেন মেসি ও তাঁর সতীর্থরা। সেই কারণে মাঠে কোনও প্রভাব বিস্তার করতে না দেওয়ার দিকেই নজর ছিল আর্জেন্টিনা শিবিরের। ফুটবল মহলের একাংশের মতে, সেই প্রস্তুতিরই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে এই ঘটনায়। সুযোগ পেতেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দেন মেসি।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo) -এর দেশের রেফারির সঙ্গে মেসির এই বাকবিতণ্ডা ফুটবলপ্রেমীদের কাছে নতুন আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। যদিও মাঠের উত্তেজনায় এমন ঘটনা নতুন নয়, তবুও মেসির মতো শান্ত স্বভাবের খেলোয়াড়ের কাছ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া নজর কেড়েছে অনেকের। ম্যাচের ফলাফল বা স্কোরলাইন যতই গুরুত্বপূর্ণ হোক, এই ধরনের মুহূর্তই অনেক সময় ম্যাচের বাইরেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে প্রতিটি আচরণ, প্রতিটি প্রতিক্রিয়া নজরে থাকে কোটি কোটি দর্শকের। এই ঘটনার পর মেসির আচরণ নিয়ে মতামত ভাগ হয়ে গিয়েছে। কেউ তাঁর অবস্থানকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ মনে করছেন, মাঠে আরও সংযত থাকা উচিত ছিল। তবে একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এই ঘটনা বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : FIFA World Cup 2026 Messi | ৩-১ জয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, টানা দ্বিতীয়বার শেষ চারে লিওনেল মেসি




