Sheikh Hasina latest news, Bangladesh politics update | ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন শেখ হাসিনা! আদালতে আত্মসমর্পণের ইঙ্গিত, মৃত্যুর আশঙ্কা নিয়েও বার্তা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফের আলোড়ন তুললেন ক্ষমতাচ্যুত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। দীর্ঘদিন ভারতে অবস্থান করার পর তিনি জানিয়েছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরতে চান। শুধু ফেরা নয়, আদালতে আত্মসমর্পণের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স (Reuters)-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান আওয়ামী লীগ (Awami League) -এর নেত্রী। গত দু’বছর ধরে ভারতে আশ্রিত রয়েছেন শেখ হাসিনা। ২০২৪ সালের অগস্টে গণআন্দোলনের চাপে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার পর দেশ ছাড়েন তিনি। এরপর থেকে দিল্লির একটি সুরক্ষিত স্থানে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। এই সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। সেই রায়ের প্রেক্ষিতেই তাঁর দেশে ফেরা নিয়ে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক স্তরে আলোচনা চলছিল।

আরও পড়ুন : India Australia sports ties, PM Narendra Modi | এমসিজিতে মোদী-আলবানিজের ক্রীড়া রোডম্যাপ ঘোষণা, চেন্নাইয়ে প্রথম বিদেশি লিগ ম্যাচে নতুন ইতিহাস

এ বার সেই জল্পনার মাঝেই নিজেই দেশে ফেরার কথা জানালেন হাসিনা। তাঁর কথায়, ‘আমি ফিরলে হয়তো আমাকে গ্রেফতার করা হবে, এমনকী মেরে ফেলাও হতে পারে। তবুও আমাকে যেতে হবে।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। তিনি জানিয়েছেন, নিজের দলের নেতা-কর্মীদের অবস্থার কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে হাসিনা আরও বলেন, ‘আমার দলের বহু নেতা-কর্মী এখন দমন-পীড়নের মধ্যে রয়েছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমার দায়িত্ব।’ তাঁর দাবি, দেশের বিচারব্যবস্থার উপর তাঁর আস্থা রয়েছে। সেই কারণেই আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে চান তিনি। শুধু একা নন, তাঁর সঙ্গে পলাতক অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদেরও নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেন তিনি। হাসিনা বলেন, ‘যদি মৃত্যুই আসে, আমি চাই তা আমার নিজের দেশের মাটিতেই হোক। যেখানে আমার বাবা-মায়ের কবর রয়েছে, যেখানে তাঁদের স্মৃতি রয়েছে।’ তাঁর এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

উল্লেখ্য, শেখ হাসিনার পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কমলকেও (Asaduzzaman Khan Kamal) একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। যদিও তাঁর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনা প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল আওয়ামী লীগ। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ আন্দোলন ক্রমে তীব্র আকার নেয়। আন্দোলন দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, সেই সময় বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। সেই রায়ের ভিত্তিতেই মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়। যদিও ভারতে অবস্থানকালে তিনি নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়। পরে সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি (BNP) ক্ষমতায় আসে এবং তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলনামূলক স্থিতিশীল হলেও হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশে হাসিনার ফেরা ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে। তাঁকে ফেরত না দেওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে মতপার্থক্য চলছিল। ভারত সরকার আগেই জানিয়েছিল, প্রত্যর্পণের আবেদন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন তিনি নিজে ফেরার কথা বলায় পরিস্থিতি অন্য মাত্রা পেয়েছে। সাক্ষাৎকারে হাসিনা জানিয়েছেন, ‘ঢাকা কর্তৃপক্ষ আমাকে ফেরাতে চাইছে। বারবার চিঠি পাঠানো হচ্ছে। আমি নিজেই ফিরব।’ তবে তিনি কোনও নির্দিষ্ট তারিখ জানাননি। ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এই বিষয়গুলি কোনও গোপন আলোচনার বিষয় নয়।’ তাঁর দাবি, দেশের মানুষেরই ঠিক করা উচিত আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ কী হবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রায় সব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেকেই আত্মগোপনে আছেন। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সবাইকে নিয়ে ফিরব এবং আদালতে আত্মসমর্পণ করব।’ ভারতে অবস্থানকালে আওয়ামী লীগকে সংগঠিত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হাসিনা। সমাজমাধ্যমে একাধিক বার বক্তব্য রেখেছেন। এমনকি বিভিন্ন এলাকায় ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমেও দলের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন বলে দাবি। বাংলাদেশের রাজনীতিতে তাঁর প্রত্যাবর্তন কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন দেখার। এক দিকে আদালতের রায়, অন্য দিকে রাজনৈতিক সমীকরণ, দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে শেখ হাসিনার এই ঘোষণা আগামী দিনগুলিতে নতুন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Bangladesh Government 180 Day Plan: ১৮০ দিনের নকশা সামনে আনছে বিএনপি, হাসিনা মামলার বিচার নিয়ে প্রতিক্রিয়া তারেক সরকারের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন