সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ বিশাখাপত্তনম : বিশাখাপত্তনম (Visakhapatnam) উপকূলের অদূরে গভীর সমুদ্রে একজন মৎস্যজীবীর জীবন-মরণ লড়াইয়ের নাটকীয় পরিসমাপ্তি ঘটাল ভারতীয় নৌবাহিনী (Indian Navy)। মাছ ধরতে গিয়ে বিপদে পড়া ওই জেলেকে দ্রুত এয়ারলিফট করে নিরাপদে ফিরিয়ে আনে নৌবাহিনীর অ্যাডভান্সড লাইট হেলিকপ্টার মার্ক থ্রি (ALH Mark III)। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চালানো এই উদ্ধার অভিযানে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রাণে বাঁচেন। সূত্রের খবর, নিয়মিত কাজের মতোই সেদিনও সমুদ্রে পাড়ি দিয়েছিলেন ওই মৎস্যজীবী। কিন্তু মাঝসমুদ্রে পৌঁছনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই আবহাওয়ার আচমকা বদল পরিস্থিতিকে ভয়াবহ করে তোলে। প্রবল হাওয়া ও উত্তাল ঢেউয়ের চাপে তাঁর নৌকা নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে। ধীরে ধীরে দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়েন তিনি। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে ভাসতে থাকায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে।
স্থানীয় মৎস্যজীবী মহলের পক্ষ থেকে প্রথমে তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি। তখনই নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত পদক্ষেপ করে ভারতীয় নৌবাহিনী। উদ্ধার অভিযানের জন্য পাঠানো হয় অত্যাধুনিক এএলএইচ মার্ক থ্রি হেলিকপ্টার। নৌবাহিনীর এই হেলিকপ্টারটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। আকাশপথে অনুসন্ধান চালিয়ে জেলেটিকে চিহ্নিত করা হয়। উত্তাল সমুদ্রের উপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ভাসতে থাকা মানুষটিকে উদ্ধার করা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও দক্ষতার সঙ্গে উদ্ধারকাজ চালান পাইলট ও ক্রু সদস্যরা। হেলিকপ্টার থেকে বিশেষ দড়ি নামিয়ে তাঁকে উপরে তোলা হয়।
উদ্ধারের সময় সমুদ্রের আবহাওয়া ছিল অস্থির। প্রবল বাতাসের সঙ্গে উঁচু ঢেউয়ের মধ্যে এই ধরনের অভিযান পরিচালনা করা সহজ নয়। তবুও নৌবাহিনীর কর্মীরা স্থিরতা বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করেন। জেলেকে হেলিকপ্টারে তোলার পরই তাঁর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়। দেখা যায়, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে তাঁর শরীরে জলের ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং তিনি অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন। হেলিকপ্টারেই প্রাথমিক চিকিৎসা শুরু হয়। নৌবাহিনীর মেডিকেল টিম তাঁকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট দেয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ন্ত্রণে আসে। এরপর তাঁকে বিশাখাপত্তনম নৌঘাঁটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয় উন্নত চিকিৎসার জন্য। সূত্রের খবর, চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে বর্তমানে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। পরিবারের সদস্যরা নৌবাহিনীর এই তৎপরতায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কথায়, ‘সময়ের মধ্যে সাহায্য না পেলে বড় বিপদ হয়ে যেতে পারত।’
সমুদ্রপথে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষের জন্য এই ধরনের পরিস্থিতি নতুন নয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মৎস্যজীবী জীবিকার তাগিদে সমুদ্রে নামেন। কিন্তু আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তন, যান্ত্রিক গোলযোগ বা দিকভ্রষ্ট হওয়ার মতো ঘটনায় তাঁদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধারই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। ভারতীয় নৌবাহিনী নিয়মিতভাবেই এই ধরনের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে থাকে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে জেলেদের সুরক্ষায় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নৌবাহিনীর হাতে থাকা উন্নত প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষিত কর্মীরা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম। উল্লেখ্য যে, এএলএইচ মার্ক থ্রি হেলিকপ্টারটি এই ধরনের অভিযানের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এর আধুনিক নেভিগেশন ব্যবস্থা, শক্তিশালী ইঞ্জিন এবং উদ্ধার সরঞ্জাম সমুদ্রের মাঝখানে বিপদে পড়া মানুষকে খুঁজে বের করা ও উদ্ধার করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেয়। এই অভিযানে সেই সক্ষমতারই প্রমাণ মিলল।অন্যদিকে, বিশাখাপত্তনম উপকূলের এই ঘটনাটি আবারও দেখাল, সময়মতো পদক্ষেপ এবং সঠিক সমন্বয় থাকলে বড় বিপদ থেকেও ফিরে আসা সম্ভব। জেলেটির জীবন রক্ষার এই ঘটনা এখন স্থানীয় মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mundra drug seizure 1100 crore, Gujarat cocaine haul news | মুন্দ্রা উপকূলে বিশাল মাদক চক্র ভেঙে দিল অভিযান! ১১০০ কোটির কোকেন উদ্ধার, ব্রাজিল-পাকিস্তান ঘুরে ভারতে ঢোকার চেষ্টায় ধৃত তিন বিদেশি




