সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (Surya Kant) -এর কাছে যৌথভাবে চিঠি পাঠাল ২৩টি বিরোধী দল। এই চিঠিতে একটি নির্দল সাংসদও সই করেছেন। অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে পক্ষপাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। আট পাতার ওই চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তোলা হয়েছে। চিঠির বিষয়বস্তু প্রকাশ্যে এনে এআইসিসির (AICC) সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপাল (K C Venugopal) সমাজমাধ্যমে লেখেন, ‘গণতন্ত্রকে পক্ষপাতদুষ্ট কার্যকলাপ থেকে রক্ষা করার দায়িত্ব বিচারব্যবস্থার উপরই বর্তায়।’ তাঁর বক্তব্য, দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর আস্থা বজায় রাখতে হলে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি।
চিঠিতে বিরোধী দলগুলি উল্লেখ করেছে, ভোটার তালিকার সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব দেখা যাচ্ছে। তাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। ফলে নির্বাচনী ফলাফলের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘লক্ষ লক্ষ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক।’ বিরোধীদের আরও অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে নির্দিষ্ট কিছু রাজ্যে শাসকদল বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে বিহার (Bihar) এবং পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) -এর মতো রাজ্যের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, এই ধরনের পদক্ষেপ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল চেতনার পরিপন্থী। চিঠিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যকলাপকে ‘অসাংবিধানিক’ বলে অভিহিত করে বিচার বিভাগীয় হস্তক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে। বিরোধীদের বক্তব্য, যখন কোনও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়, তখন আদালতের নজরদারিই একমাত্র ভরসা হয়ে ওঠে। সেই কারণেই এই বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের আওতায় আনার দাবি তোলা হয়েছে।
কেসি বেণুগোপাল তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, ‘১৪০ কোটির বেশি মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দায়িত্ব পালনে কোনও ধরনের বিচ্যুতি হলে তা দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিচারব্যবস্থার সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।’ চিঠিতে বিরোধী দলগুলির তরফে কয়েকটি নির্দিষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। প্রথমত, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে আদালতের নির্দেশ প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, কোনও বৈধ ভোটারের নাম যাতে অন্যায়ভাবে বাদ না যায়, তা নিশ্চিত করার জন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলে এই চিঠি নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। শাসকদল এবং নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে বিরোধীদের এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে এই ধরনের অভিযোগ নতুন নয়, তবে এতগুলি দলের একসঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে আবেদন বিরল ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বিরোধী শিবির এই বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নজর এখন সুপ্রিম কোর্টের দিকে। প্রধান বিচারপতি এই চিঠির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। আদালত কি এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে, নাকি নির্বাচন কমিশনের উপর আস্থা রাখার পরামর্শ দেবে, সেই উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। উল্লেখ্য, দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা আগামী দিনে আরও বড় রাজনৈতিক বিতর্কের রূপ নিতে পারে। বিরোধীদের এই উদ্যোগ সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :
Opposition writes to CJI Surya Kant over voter list controversy, seeks intervention




