সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বিধায়কদের দায়িত্ব ও আচরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত বিধায়কদের প্রশিক্ষণ শিবিরে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা (Om Birla) যেমন শাসক ও বিরোধী সব পক্ষের জনপ্রতিনিধিদের জন্য সংসদীয় আচরণের পাঠ তুলে ধরলেন, শুক্রবার অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণ শিবিরের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে ওম বিড়লা বিধায়কদের উদ্দেশে বলেন, ‘বিধানসভায় যতক্ষণ থাকবেন, ততক্ষণ শেখার সুযোগ রয়েছে। আপনার বলার সুযোগ থাকুক বা না থাকুক, উপস্থিত থাকা জরুরি।’ তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে আইনসভাকে শুধুমাত্র বিতর্কের ক্ষেত্র হিসেবে না দেখে, শেখা ও বোঝার একটি জায়গা হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা। তিনি মনে করিয়ে দেন, একজন বিধায়কের কাজ শুধুমাত্র বক্তব্য রাখা নয়, পাশাপাশি মানুষের সমস্যা বোঝা এবং তার সমাধানের পথ খুঁজে বের করা।
বিধায়কদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মানুষ তাঁদের প্রতিনিধিদের কাছে অনেক প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে গেলে তথ্যভিত্তিক আলোচনা ও নিয়মিত অধ্যয়ন অপরিহার্য।’ তিনি পুরোনো বিতর্ক ও আলোচনার নথি পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন, যাতে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আরও দক্ষতা অর্জন করা যায়। বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর সময়ের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ওম বিড়লা বলেন, ‘আমরা এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর যুগে রয়েছি। ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নীতি ও বাজেট সম্পর্কে সহজেই জানা যায়।’ তাঁর মতে, প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
পশ্চিমবঙ্গের ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলার মাটি শিল্প, শিক্ষা ও উদ্যোগের ক্ষেত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত। এই ঐতিহ্যকে নতুনভাবে সামনে আনা প্রয়োজন।’ একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-এর কাজের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর মধ্যে একটি দূরদর্শিতা রয়েছে। তিনি গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যেই থেকে কাজ করার কথা বলছেন।’ বিধানসভায় উপস্থিতির গুরুত্ব নিয়েও তিনি জোর দেন। তাঁর বক্তব্য, ‘নিজের কাজের মান উন্নত করতে হলে বিধানসভার ভেতরের আলোচনায় নিয়মিত অংশগ্রহণ করা দরকার। যত বেশি সময় সেখানে কাটানো যাবে, তত বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন সম্ভব।’
উল্লেখ্য, এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari), বিধানসভার স্পিকার, রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং (Harivansh Narayan Singh) এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু (Kiren Rijiju)। জন প্রতিনিধিদের সাংবিধানিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই এই প্রশিক্ষণ শিবিরের মূল লক্ষ্য বলে জানা গিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ শিবির জন প্রতিনিধিদের কাজের গুণগত মান বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari women help desk, cyber help desk | রাজ্যের সব থানায় মহিলা ও সাইবার হেল্প ডেস্ক চালু, কড়া বার্তা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর




