সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : বিশ্বকাপের মঞ্চে হতাশাজনক বিদায়ের পরেই সেনেগাল (Senegal) শিবিরে তৈরি হল বড়সড় অস্থিরতা। বেলজিয়াম (Belgium) -এর বিরুদ্ধে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলের ভেতরে অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে আসে। জাতীয় দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার পাপে গিউয়ে (Pape Gueye) সরাসরি কোচিং স্টাফদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দল ছাড়ার ঘোষণা করেছেন। তাঁর সাফ জানানো, বর্তমান কোচ ও টেকনিক্যাল টিমে পরিবর্তন না এলে তিনি আর দেশের জার্সি গায়ে মাঠে নামবেন না। এই ঘোষণার পর থেকেই সেনেগাল ফুটবল মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসর থেকে বিদায়ের হতাশা কাটার আগেই দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। গিউয়ের সিদ্ধান্ত যে হঠাৎ করে নেওয়া নয়, তা তাঁর মন্তব্য থেকেই বোঝা যাচ্ছে। যদিও ঠিক কোন ঘটনার জেরে এই চরম অবস্থান, তা এখনও পরিষ্কার হয়নি।
বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেনেগাল শুরুটা দারুণ করেছিল। হাবিব দিয়ারা (Habib Diarra) এবং ইসমাইলা সার (Ismaila Sarr)-এর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দলটি। কিন্তু ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টা লড়াই শুরু করে বেলজিয়াম। রোমেলু লুকাকু (Romelu Lukaku) ও ইউরি টিয়েলেম্যান্স (Youri Tielemans) গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত সময়ে নাটকীয় মোড় নেয় ম্যাচ। শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে জয় ছিনিয়ে নেয় বেলজিয়াম। সেই হারই সেনেগালের বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি টানে।
এই ম্যাচে পাপে গিউয়েকে শুরু থেকে নামানো হয়নি। ৬৬ মিনিটে তাঁকে মাঠে নামানো হয়। তার আগের ইরাক (Iraq) -এর বিরুদ্ধে ম্যাচেও তিনি প্রথম একাদশে ছিলেন না। যদিও বদলি হিসাবে নেমে ওই ম্যাচে জোড়া গোল করে নজর কেড়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিক ভাবে প্রথম একাদশে সুযোগ না পাওয়াকে কেন্দ্র করেই তাঁর অসন্তোষ তৈরি হয়েছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। ম্যাচ শেষে কোচ পাপে চাও (Pape Thiaw) গিউয়ের বদলি হিসেবে নামানো এবং পরে তাঁকে তুলে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, খেলোয়াড় ক্লান্ত থাকায় সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন গিউয়ে নিজে। মিক্সড জোনে তিনি জানান, ‘আমি শারীরিক ভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলাম। মাঠে থাকতে কোনও অসুবিধা ছিল না। কোচ নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাতেই হয়। তবে এই বিষয়ে ওঁকেই প্রশ্ন করা উচিত, উত্তরও ওঁর কাছেই পাওয়া যাবে।’
গিউয়ের এই মন্তব্যে দলের ভেতরের মতভেদের ইঙ্গিত মিলেছে। তাঁর সাম্প্রতিক ঘোষণায় সেই বিরোধ আরও প্রকট হয়েছে। জাতীয় দলের মতো বড় মঞ্চে এমন সিদ্ধান্ত স্বাভাবিক ভাবেই বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দলের বাকি ফুটবলারদের উপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন (Senegal Football Federation) এখনও এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, সামনে একাধিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা রয়েছে, যেখানে দলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে বিদায়ের পর সাধারণত দল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু তার আগেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় চাপ বেড়েছে কর্তৃপক্ষের উপর। গিউয়ের মতো অভিজ্ঞ ফুটবলারের অনুপস্থিতি দলকে দুর্বল করতে পারে। ফলে তাঁর সিদ্ধান্ত বদলানো সম্ভব কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। অন্যদিকে, কোচিং স্টাফদের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গিউয়ের অভিযোগের পর তাঁদের অবস্থান নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে ফেডারেশনের উপরই।
বিশ্ব ফুটবলে এর আগে এমন ঘটনা নতুন নয়, যেখানে কোচ এবং খেলোয়াড়দের মধ্যে মতবিরোধ বড় আকার নিয়েছে। তবে বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতা শেষে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সেনেগালের ক্ষেত্রে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেনেগাল দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হল স্থিরতা ফিরিয়ে আনা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি ড্রেসিংরুমের পরিবেশও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিকেই এখন নজর রাখছে ফুটবল মহল। তবে, গিউয়ের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ এবং ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত দুই দিকেই নজর রয়েছে। এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহের উপর।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Male abuse India, men domestic violence | সম্পর্কের আড়ালেই পুরুষ নির্যাতন: ভারতে বাড়ছে অভিযোগ, কেন সামনে আসছে না ঘটনা



