সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক স্পোর্টস ডেস্ক ★ লস অ্যাঞ্জেলেস: বহু প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অলিম্পিক মঞ্চে ফিরছে ক্রিকেট, আর তার আগেই নারী ক্রিকেটে লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ২০২৮ (LA28)-এর জন্য প্রথম চারটি দল নিশ্চিত হয়ে গেল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC)-এর নির্ধারিত যোগ্যতা অর্জন পদ্ধতি অনুসারে অস্ট্রেলিয়া (Australia), ইংল্যান্ড (England), দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) এবং ভারত (India) ইতিমধ্যেই নিজেদের জায়গা পাকা করে ফেলেছে। টি-২০ ফরম্যাটে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই প্রতিযোগিতায় মোট ছয়টি দল অংশ নেবে, যার মধ্যে চারটি এখন নিশ্চিত। এই যোগ্যতা নির্ধারণের পদ্ধতি গড়ে উঠেছে মূলত বিদ্যমান আইসিসি টুর্নামেন্টগুলিতে দলের পারফরম্যান্স এবং আইসিসি মহিলা টি-২০ আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং (ICC Women’s T20I Rankings)-এর উপর ভিত্তি করে। এই প্রক্রিয়ায় পাঁচটি অলিম্পিক আসন নির্ধারিত হবে, আর বাকি একটি স্থান ঠিক হবে ২০২৭ সালে আয়োজিত প্রথম ‘আইসিসি অলিম্পিক্স কোয়ালিফায়ার’ (ICC Olympics Qualifier)-এর মাধ্যমে।
সাম্প্রতিক মহিলা টি-২০ বিশ্বকাপে (Women’s T20 World Cup) অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড নিজেদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে অপরাজিত থেকে অলিম্পিকের টিকিট নিশ্চিত করেছে। দুই দলেরই ধারাবাহিক জয় তাদের বিশ্বমঞ্চে আধিপত্যেরই প্রতিফলন। অপরদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা বড় ম্যাচে নিজেদের দক্ষতা আবারও প্রমাণ করে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও পথটা আলাদা মাত্রা পেয়েছে। যদিও টি-২০ বিশ্বকাপে ভারত প্রত্যাশামতো এগোতে পারেনি, তবুও বর্তমান ওডিআই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে এশিয়ার নির্দিষ্ট কোটা দখল করে তারা অলিম্পিকে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনায় ভারতীয় নারী ক্রিকেট দলের ধারাবাহিক উন্নতির প্রতিফলন মিলেছে আন্তর্জাতিক মঞ্চে। এই যোগ্যতা নির্ধারণের পথে একটি বিশেষ পরিস্থিতিও উঠে এসেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ (West Indies) দলকে ঘিরে। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের একাধিক দেশের প্রতিনিধিত্বকারী এই দলটি সরাসরি অলিম্পিকে অংশ নিতে পারে না, কারণ এটি কোনও একক আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (IOC)-স্বীকৃত জাতীয় অলিম্পিক সংস্থা (NOC)-এর প্রতিনিধিত্ব করে না। ফলে ২০২৬ সালের শেষে যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ যোগ্যতার নিরিখে এগিয়ে থাকে, তাহলে আইসিসি একটি পৃথক ‘ক্যারিবিয়ান কোয়ালিফায়ার’ আয়োজন করবে, যার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে কোন দেশ অলিম্পিক বাছাইপর্বে অংশ নেবে।
চারটি দল নিশ্চিত হওয়ার পর এখন নজর বাকি দুটি স্থানের দিকে। বিশ্ব ক্রিকেটের বিভিন্ন দল ইতিমধ্যেই সেই লক্ষ্যেই নিজেদের প্রস্তুতি জোরদার করেছে। ২০২৭ সালের কোয়ালিফায়ার টুর্নামেন্ট সেই দৌড়ে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিক ২০২৮-এ ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তন ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে উঠতে চলেছে, কারণ শেষবার ১৯০০ সালে অলিম্পিকে ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই সময় গ্রেট ব্রিটেন (Great Britain) একমাত্র সোনার পদক জিতেছিল। এক শতাব্দীরও বেশি সময় পর আবার অলিম্পিকের মঞ্চে ক্রিকেটের অন্তর্ভুক্তি বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
২০২৮ অলিম্পিকে পুরুষ ও মহিলা উভয় বিভাগেই ছয়টি করে দল অংশ নেবে। টি-২০ ফরম্যাটে ১২ থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত ম্যাচগুলি অনুষ্ঠিত হবে। ক্যালিফোর্নিয়ার পোমোনাতে (Pomona) বিশেষভাবে নির্মিত স্টেডিয়ামে এই ম্যাচগুলির আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ক্রিকেটের মতো জনপ্রিয় খেলাকে অলিম্পিকের মতো বিশ্বমঞ্চে ফের দেখা যাওয়া নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্ছ্বাস ছড়িয়েছে ক্রীড়া মহলে। বিশেষ করে নারী ক্রিকেটের দ্রুত উন্নতি এবং বিশ্বজুড়ে তার গ্রহণযোগ্যতা এই অন্তর্ভুক্তির অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী দলগুলির আগাম যোগ্যতা অর্জন অলিম্পিক ক্রিকেট প্রতিযোগিতাকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন বাকি দুই স্থানের জন্য লড়াইয়ে কোন দল এগিয়ে আসে, সেটাই দেখার। ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য ২০২৮ সালের এই আসর এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের শক্তির ভারসাম্য, নতুন প্রতিভার উত্থান এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার নতুন কাঠামো অলিম্পিক ক্রিকেট আগামী দিনে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠতে চলেছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Jay Shah on Women Cricket Policy, Motherhood and Cricket | মা হওয়ার পরও থামবে না ক্রিকেট, আইসিসির ১৬ সপ্তাহের বিশেষ পরিকল্পনা




