সাশ্রয় নিউজ স্পোর্টস ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ (FIFA World Cup 2026)-এর মঞ্চে আবারও নিজের শ্রেষ্ঠত্বের ছাপ রেখে চলেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi)। বয়স যতই বাড়ুক, মাঠে তাঁর প্রভাব যে এখনও অটুট, তা আরও একবার প্রমাণিত হল জর্ডন (Jordan)-এর বিরুদ্ধে ম্যাচে। বেঞ্চ থেকে নেমেই ফ্রিকিক থেকে গোল করে একদিকে যেমন দলকে এগিয়ে দিলেন, অন্যদিকে গড়ে ফেললেন একাধিক নজির। রবিবারের এই ম্যাচে প্রথম একাদশে মেসিকে রাখেননি কোচ লিয়োনেল স্কালোনি (Lionel Scaloni)। ম্যাচের গতি ও পরিস্থিতি বিচার করে দ্বিতীয়ার্ধে তাঁকে নামানো হয়। ৬০ মিনিটে মাঠে নামার পর থেকেই আক্রমণে গতি বাড়ায় আর্জেন্টিনা (Argentina)। ৮০ মিনিটে একটি ফ্রিকিক পায় দল, আর সেই সুযোগকে নিখুঁতভাবে কাজে লাগিয়ে বল জালে জড়ান মেসি। তাঁর এই গোল শুধু ম্যাচের ফল নির্ধারণ করেনি, ইতিহাসের পাতায়ও নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।
আরও পড়ুন : Sunny Leone horror experience | বিছানায় নড়তে পারছিলেন না! সানি লিওন জানালেন তাঁর ভয়াবহ রাতের কথা
এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে মেসির মোট গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ মঞ্চে এমন ধারাবাহিকতা তাঁকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই ছ’টি গোল করে ফেলেছেন তিনি। প্রতি ম্যাচেই তাঁর উপস্থিতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ তৈরি করছে। সবচেয়ে বড় কীর্তি হল, বিশ্বকাপের ইতিহাসে টানা সাতটি ম্যাচে গোল করার নজির গড়েছেন মেসি। এর আগে কোনও ফুটবলার এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেননি। এই রেকর্ড তাঁকে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁর পারফরম্যান্সে পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, তিনি এখনও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রভাবশালী নাম।
ফ্রিকিক থেকে গোল করার ক্ষেত্রেও মেসি ছুঁয়ে ফেলেছেন এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন। বিশ্বকাপে সরাসরি ফ্রিকিক থেকে সবচেয়ে বেশি গোল করার তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করেছেন। জর্ডনের বিরুদ্ধে এই গোলটি ছিল তাঁর বিশ্বকাপে দ্বিতীয় ফ্রিকিক গোল। এর আগে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও একই ভাবে গোল করেছিলেন। এই কীর্তির ফলে ইতিহাসের চতুর্থ ফুটবলার হিসাবে বিশ্বকাপে একাধিক ফ্রিকিক গোল করার তালিকায় ঢুকে পড়লেন মেসি। এর আগে ব্রাজ়িলের রিভেলিনো (Rivelino), ফ্রান্সের বর্নার্ড চেঙ্গিনি (Bernard Genghini) এবং ইংল্যান্ডের ডেভিড বেকহ্যাম (David Beckham) এই তালিকায় ছিলেন। রিভেলিনো ১৯৭০ ও ১৯৭৪ বিশ্বকাপে, চেঙ্গিনি ১৯৮২ বিশ্বকাপে এবং বেকহ্যাম ১৯৯৮ ও ২০০৬ বিশ্বকাপে ফ্রিকিক থেকে গোল করেছিলেন।
মেসির এই সাফল্য শুধু পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তাঁর খেলার ধারাবাহিকতা এবং দক্ষতার প্রমাণ বহন করে। ম্যাচে নামার পর খুব কম সময়ের মধ্যেই খেলার রাশ নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ক্ষমতা এখনও তাঁর রয়েছে। জর্ডনের বিরুদ্ধে ম্যাচেও সেটাই দেখা গিয়েছে। আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে মেসির উপস্থিতি দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। তরুণ ফুটবলারদের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া নজর কেড়েছে। বলের নিয়ন্ত্রণ, পাসিং এবং গোল করার দক্ষতা এসব মিলিয়ে তিনি এখনও দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ।
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ধরে রাখা সহজ নয়। কিন্তু মেসি বারবার সেই কঠিন কাজটাই করে দেখাচ্ছেন। প্রতিটি ম্যাচে তিনি নতুন কিছু যোগ করছেন নিজের রেকর্ডের ঝুলিতে। তাঁর খেলা শুধু দর্শকদের বিনোদন দিচ্ছে না, বরং ফুটবল ইতিহাসেও নতুন মাত্রা যোগ করছে। স্কালোনির কৌশলগত সিদ্ধান্তও এই ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। শুরুতে বেঞ্চে রেখে পরে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। মেসি যখন মাঠে নামেন, তখন প্রতিপক্ষ কিছুটা ক্লান্ত। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ আর্জেন্টিনার সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি হয়ে উঠেছেন মেসি। তাঁর ফর্ম বজায় থাকলে দল আরও অনেক দূর যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিটি ম্যাচে তাঁর পারফরম্যান্স এখন আলাদা করে নজর কাড়ছে। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে মেসির এই ধারাবাহিকতা বিশেষ আকর্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে। মাঠে তাঁর প্রতিটি ছোঁয়া, প্রতিটি গোল যেন নতুন গল্প তৈরি করছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে নিজের নাম আরও উজ্জ্বল করে তুলছেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Messi vs Ronaldo Debate 2026, Roberto Martinez Reaction | FIFA World Cup News : মেসি না রোনাল্ডো! কার দিকে ঝুঁকছে বিশ্বকাপ ২০২৬? পর্তুগাল কোচ রবার্তো মার্তিনেজের মন্তব্যে নতুন বিতর্ক



