সাশ্রয় নিউজ ★ মুর্শিদাবাদ : মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga) এলাকায় নাবালিকা খুনের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ সূত্র পেয়ে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মৃতার এক আত্মীয়, তিনি সম্পর্কে মাসতুতো দাদা বলে উল্লেখ। এই গ্রেফতারির পর তদন্তে নতুন দিশা মিললেও খুনের আসল কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, সম্পর্কের জটিলতা বা পুরনো বিরোধ এই ঘটনার পেছনে থাকতে পারে। শনিবার দুপুরে বেলডাঙার মোহলা গ্রাম পঞ্চায়েত (Mohla Gram Panchayat) এলাকায় ঘটে যায় এই নৃশংস ঘটনা। নিহত কিশোরীর নাম কাবেরী (Kaveri)। অভিযোগ, বাড়িতে একা থাকার সুযোগ নিয়ে ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় কাবেরীর বলে পুলিশ সূত্রে উল্লেখ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পরিবারের তরফে অভিযোগ, পুরো ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। কাবেরীর দাদুর কাছে সকালে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, তিনি নাকি একটি গেমে জিতেছেন ও তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল টাকা পাঠানো হয়েছে। এই কথা শুনে দাদু বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি স্ত্রীকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে খোঁজ নিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। ঠিক সেই সময় বাড়িতে একা ছিল কাবেরী। এই সুযোগেই দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে খুন করে বলে অভিযোগ পরিবারের। ঘটনার সময় কাবেরীর মা কর্মসূত্রে বহরমপুর (Berhampore)-এ ছিলেন। বাড়িতে উপস্থিত ছিল না তার ভাইও। ফলে সম্পূর্ণ ফাঁকা বাড়িতে নাবালিকাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। পরিবারের দাবি, ‘পরিচিত কেউ পরিকল্পনা করেই আমাদের বাড়ি ফাঁকা করেছিল, তারপরই এই ঘটনা ঘটানো হয়।’ এই বক্তব্যের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে বেলডাঙা থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পরপরই এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু হয়। পরিবারের সদস্যদের বয়ান, মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস এবং স্থানীয় সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য মিলিয়ে ধীরে ধীরে সন্দেহের তীর ঘোরে পরিচিত মহলের দিকে। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে কয়েকটি সূত্র মেলে, যার জেরেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের মধ্যে একজন মৃতার আত্মীয় হওয়ায় ঘটনাটি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না। পাশাপাশি খুনের উদ্দেশ্য নিয়েও চলছে বিস্তারিত অনুসন্ধান। পারিবারিক বিবাদ, ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অন্য কোনও কারণ সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশ সূত্রে খবর। এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট কারণ সামনে না এলেও একাধিক দিক থেকে তদন্ত এগোচ্ছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, কাবেরী তার মামার বাড়িতেই থাকত। দাদু, দিদা, মা ও ভাইয়ের সঙ্গে সে সেখানেই বসবাস করত। বহু দিন আগে পারিবারিক অশান্তির জেরে তার মা শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করেন। কাবেরী স্থানীয় একটি স্কুলের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী ছিল। পড়াশোনায় ভাল এবং শান্ত স্বভাবের মেয়ে হিসেবে পরিচিত ছিল এলাকায়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীরা অভিযুক্তদের কড়া শাস্তির দাবি তুলেছেন। অনেকেই বলছেন, ‘এত কম বয়সে একটি মেয়ের এভাবে প্রাণ হারানো মেনে নেওয়া যায় না।’ ঘটনার পর থেকে এলাকায় পুলিশী নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ফোনের মাধ্যমে বাড়ি ফাঁকা করার যে কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে, তা নিয়েও চিন্তা বাড়ছে। এই ধরনের প্রতারণামূলক ফোন কীভাবে অপরাধের অংশ হয়ে উঠছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তদন্তকারীরা ফোন নম্বরটির উৎস খুঁজে দেখছেন এবং প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছেন। এই খুনের ঘটনায় ধৃতদের জেরা করে আরও তথ্য পাওয়ার চেষ্টা চলছে। আদালতে পেশ করে তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও তথ্য সামনে আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে। বেলডাঙার এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে এবং পরিকল্পনা আরও সূক্ষ্ম হচ্ছে। পরিবারের দাবি, যদি সেই ফোন না আসত, তবে হয়তো এই মর্মান্তিক পরিণতি এড়ানো যেত। আপাতত শোকস্তব্ধ পরিবার, আর প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে তদন্তকারী দল।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : West Bengal anti social activities bill 2026, Suvendu Adhikari new law details | ‘গুন্ডাদমনে’ কড়া পথে বাংলা! এক বছর আটক, সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত : নতুন আইনে বড় পদক্ষেপ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরকারের




