সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নিট (NEET) পরীক্ষা ঘিরে বিতর্ক এবং লাদাখ (Ladakh)-এর পরিবেশগত প্রশ্ন দু’টি ইস্যুকে সামনে রেখে রবিবার থেকে অনশনে বসলেন সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া না-মেলায় নিজের ঘোষণামতো দিল্লির যন্তরমন্তর (Jantar Mantar)-এ তিনি অবস্থান শুরু করেন। সকালেই রাজঘাট (Rajghat)-এ মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi)-এর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্দোলনের সূচনা করেন ওয়াংচুক এবং তাঁর সহযোগীরা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিট প্রশ্নফাঁস নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ওয়াংচুক আগেই জানিয়েছিলেন, ‘২৭ জুনের মধ্যে কেন্দ্র যদি কোনও সদুত্তর না দেয়, তবে আমি অনশন শুরু করব।’ নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনও প্রতিক্রিয়া না আসায় তিনি অনশনে বসার সিদ্ধান্ত কার্যকর করেন। তাঁর এই পদক্ষেপে নতুন মাত্রা পেয়েছে নিট-বিতর্ক।
রবিবার সকালে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (Cockroach Janata Party)-এর প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক (Abhijit Dipak)-এর সঙ্গে রাজঘাটে যান ওয়াংচুক। সেখানে গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর যন্তরমন্তরে এসে অনশন শুরু করেন। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বহু ছাত্র-ছাত্রী, যুবক এবং আন্দোলনকারীর ভিড় জমে। আন্দোলনের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন একাধিক কৃষকনেতাও, যা এই প্রতিবাদকে আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে গিয়েছে। নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান (Dharmendra Pradhan)-এর পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকেই যন্তরমন্তরে আন্দোলন চালাচ্ছে ‘ককরোচ’ দল। তাদের দাবি, প্রশ্নফাঁসের মতো গুরুতর অভিযোগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর আস্থা নষ্ট করছে। অভিজিৎ দীপক জানিয়েছেন, ‘আমাদের আন্দোলন শুধু নিট নিয়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।’ একই সঙ্গে মহারাষ্ট্রে টেট (TET) পরীক্ষা বাতিলের প্রসঙ্গও তুলে ধরেছেন তিনি, যা এই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।
ওয়াংচুক এর আগেও একাধিকবার নিট-বিতর্কে নিজের মত প্রকাশ করেছেন। ৬ জুন যন্তরমন্তরে আয়োজিত এক বিক্ষোভ কর্মসূচিতেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। সেই সময় আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অভিজিৎ দীপককে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তখনই ওয়াংচুক জানিয়েছিলেন, ‘যদি আন্দোলন দমাতে গ্রেফতারির পথ নেওয়া হয়, তবে আমি অনশন শুরু করব।’ রবিবারের এই কর্মসূচী সেই সতর্কবার্তারই পরিণতি বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার একটি ভিডিয়ো বার্তায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন ওয়াংচুক। সেখানে তিনি কেন্দ্রের কাছে দু’টি বিষয়ে জবাব চান। প্রথমত, নিট প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায় নির্ধারণ; দ্বিতীয়ত, লাদাখের পরিবেশ ও সংস্কৃতি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ। তাঁর কথায়, ‘শুধু পরীক্ষা নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা এবং পরিবেশের সুরক্ষাও জরুরি।’ এই দুই বিষয়েই তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। যন্তরমন্তরে অনশন শুরু হওয়ার পর থেকেই পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আন্দোলনকারীদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে, এবং বিভিন্ন সংগঠন এই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। ছাত্রদের একাংশের বক্তব্য, ‘প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আমাদের পরিশ্রমের মূল্য নষ্ট হচ্ছে।’ অন্যদিকে, কৃষকনেতাদের উপস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আন্দোলনটি কেবল শিক্ষাক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৃহত্তর সামাজিক ইস্যুতে রূপ নিচ্ছে।
প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। তবে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। যন্তরমন্তর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। অনশন কত দিন চলবে এবং সরকার কী পদক্ষেপ নেয়, তার উপরই নির্ভর করছে আন্দোলনের ভবিষ্যৎ।কিন্তু, ওয়াংচুকের এই অনশন এমন সময়ে শুরু হল, যখন দেশজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। একই সঙ্গে পরিবেশগত ইস্যুগুলিও গুরুত্ব পাচ্ছে। লাদাখের ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রক্ষার দাবিও দীর্ঘদিনের। এই দুই প্রসঙ্গ একসঙ্গে সামনে এনে ওয়াংচুক যে বার্তা দিতে চাইছেন, তা ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। রবিবারের এই কর্মসূচী ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের ক’য়েক জন নেতা ইতিমধ্যেই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলে খবর। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান এখনও অজানা। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে নজর রয়েছে সকলের।
যন্তরমন্তরের মাটিতে শুরু হওয়া এই অনশন আগামী দিনে আরও বড় আন্দোলনে রূপ নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ছাত্র, যুবক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের অংশগ্রহণ এই কর্মসূচিকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। আপাতত ওয়াংচুকের অনশন এবং সরকারের প্রতিক্রিয়ার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে দেশ।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Solar Energy Agriculture India, Narendra Modi | সৌরশক্তিতে কৃষির বদল, ভারতের মডেল বিশ্বে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী



