Ketan Agarwal murder Lohagad Fort, Siya Goyal Chetan Choudhary case | প্রেম, প্রতারণা ও পরিকল্পিত খুন! পুনের লোহাগড়ে কেতন কাণ্ডে ফাঁসছে নতুন তথ্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ পুণে : মহারাষ্ট্রের পুণে জেলার লোণাবলা সংলগ্ন লোহাগড় দুর্গ এখন জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। পর্যটকদের ভিড়ে মুখর এই ঐতিহাসিক স্থানে ঘটে যাওয়া এক রহস্যময় মৃত্যুর ঘটনা কয়েক দিনের মধ্যেই রূপ নিয়েছে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে। নিহত যুবক কেতন অগ্রবাল (Ketan Agarwal)-এর মৃত্যু নিয়ে প্রথমে দুর্ঘটনার তত্ত্ব সামনে এলেও, তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই সামনে এসেছে পরিকল্পিত খুনের অভিযোগ। আর সেই অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়া গয়াল (Siya Goyal) এবং তাঁর প্রেমিক চেতন চৌধরী (Chetan Choudhary)

আরও পড়ুন : Ketan Agrawal Murder: Instagram Post by Siya Goyal Under Scanner | ‘আমার জন্মদিনে তুমি নেই’ : ইনস্টাগ্রামে আবেগ, আর পিছনে খুনের ছক! কেতন অগ্রবাল হত্যাকাণ্ডে সামনে এল চাঞ্চল্যকর ডিজিটাল প্রমাণ

১৮ জুনের ঘটনা। সেদিন কেতন তাঁর বাগ্‌দত্তা সিয়ার সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন লোহাগড় দুর্গে। পাহাড়ি রাস্তা, খাদের ধারে দাঁড়িয়ে ছবি তোলা, সব কিছুই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ করেই খাদে পড়ে যান কেতন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। প্রথমদিকে পুলিশ এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবেই দেখেছিল। কিন্তু কেতনের পরিবারের পক্ষ থেকে সন্দেহ প্রকাশ করা হলে তদন্তের দিশা বদলে যায়। পরিবারের দাবি ছিল, কেতনের মৃত্যু ‘স্বাভাবিক’ নয়। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পিছনে অন্য কিছু লুকিয়ে রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ পুনরায় তদন্ত শুরু করে। মাত্র পাঁচ দিনের মধ্যে, ২৩ জুন সিয়া এবং চেতনকে গ্রেফতার করা হয় খুন ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগে। বর্তমানে তাঁরা পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং জেরা চলছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে উঠে এসেছে সম্পর্কের জটিল সমীকরণ। পুলিশ জানতে পেরেছে, গত তিন বছর ধরে চেতনের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন সিয়া। তা সত্ত্বেও চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি কেতনের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌দান হয়। দুই পরিবারের মধ্যে বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল। এই অবস্থাতেই কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ। তবে এই পরিকল্পনার সূচনা কার মাথায় এসেছিল, তা নিয়েই এখন ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। পুলিশের জেরায় সিয়া ও চেতন একে অপরের দিকে অভিযোগের তীর ছুড়ছেন। চেতন দাবি করেছেন, ‘আমি খুন করতে চাইনি। আমরা পালিয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সিয়াই চাপ দিচ্ছিল।’ অন্য দিকে সিয়ার বক্তব্য, ‘চেতনই প্রথম এই পরিকল্পনা করে। আমি চাইনি এটা হোক।’ এই পরস্পরবিরোধী বয়ান তদন্তকারীদের সামনে নতুন প্রশ্ন তুলছে।

পুলিশ সূত্রের মতে, দু’জনেই নিজেদের দায় এড়াতে এই কৌশল নিয়েছেন। এক তদন্তকারী আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘দু’জনেই একে অপরকে দায়ী করছে। কিন্তু প্রমাণ বলছে, ঘটনাটি যৌথ পরিকল্পনার ফল।’ তদন্তকারীরা আরও জানিয়েছেন, কেতনকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা একবার নয়, একাধিক বার করা হয়েছিল। অন্তত তিন বার এই ধরনের চেষ্টা হয় বলে তাঁদের দাবি। শেষ পর্যন্ত লোহাগড় দুর্গেই সেই পরিকল্পনা কার্যকর করা হয়। ঘটনার দিন ঠিক কী হয়েছিল, তা জানতে বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান, মোবাইল ফোনের তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, সব কিছুই পরীক্ষা করে দেখছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে, কেতনকে ধাক্কা দিয়ে খাদে ফেলে দেওয়া হয়। তবে সেই ধাক্কা কে প্রথম দিয়েছিল, তা নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায়নি। তদন্তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এসেছে। মে মাসের শেষ থেকে জুনের শুরুতে পুনের একটি ক্যাফেতে দেখা করেছিলেন সিয়া এবং চেতন। ৩১ মে থেকে ৪ জুনের মধ্যে ওই বৈঠক হয় বলে জানা গেছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, সেই সাক্ষাৎ কি এই ঘটনার পরিকল্পনার অংশ ছিল কি না। ওই সময় তাঁদের কথোপকথন, অবস্থান,,সব কিছু খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে।

গ্রেফতারের পর থেকে দু’জনের আচরণেও পার্থক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কখনও আবেগপ্রবণ, কখনও আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা, এই দুইয়ের মধ্যে দোদুল্যমান তাঁদের বক্তব্য। পুলিশ মনে করছে, ঘটনাটি প্রকাশ্যে চলে আসবে এবং এত বড় আকার নেবে, তা হয়তো আগে আন্দাজ করতে পারেননি অভিযুক্তরা। ফলে ধরা পড়ার পর নিজেদের রক্ষা করতে গিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সমাজে নানা প্রশ্ন উঠছে, সম্পর্কের জটিলতা, বিশ্বাসঘাতকতা, এবং অপরাধের মনস্তত্ত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে প্রেম, অন্যদিকে সামাজিক বন্ধন এই দ্বন্দ্বের মধ্যে এমন চরম সিদ্ধান্ত কীভাবে তৈরি হল, তা নিয়েও ভাবনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের আরও খবর, পুলিশ এখন প্রমাণ সংগ্রহে জোর দিচ্ছে। চার্জশিট দাখিলের আগে সমস্ত তথ্য একত্র করা হচ্ছে। কেতন অগ্রবালের পরিবারের পক্ষ থেকে কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। তাঁদের কথায়, ‘আমরা সত্য জানতে চাই এবং দোষীদের শাস্তি চাই।’ লোহাগড় দুর্গে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা এখন শুধু একটি অপরাধের কাহিনি নয়, বরং আধুনিক সম্পর্কের অন্ধকার দিকের প্রতিফলন হিসেবেও উঠে আসছে। তদন্ত যত এগোবে, ততই নতুন তথ্য সামনে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Lohagad Fort Murder Mystery, Fiancee Siya Goyal Arrested in Ketan Agrawal Case | বাগ্‌দত্ত কেতন, প্রেমিক চেতন! ২৩৮ ঘণ্টার গোপন ফোনালাপ ফাঁস, লোহাগড় দুর্গে ‘দুর্ঘটনা’ আসলে খুন! সিয়া গয়ালকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর মোড়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন