BJP training Mahaabhiyan 2026 West Bengal, cadre training BJP India | ক্ষমতায় এসে নতুন রণকৌশল বিজেপির! ‘প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান’-এ ২৪ ঘণ্টার আবাসিক শিবিরে গড়ে উঠবে দক্ষ কর্মী বাহিনী

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিসরে বড়সড় সাংগঠনিক বদলের ইঙ্গিত দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। দীর্ঘদিন বিরোধী রাজনীতির পর ক্ষমতায় আসার পরে দল এখন নতুন লক্ষ্য সামনে এনেছে শুধু সংগঠন বিস্তার নয়, পাশাপাশি দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও প্রস্তুত কর্মী গড়ে তোলা। সেই উদ্দেশ্যেই শুরু হয়েছে ‘পণ্ডিত দীনদয়াল উপাধ্যায় কর্মী প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান ২০২৬’ (Pandit Deendayal Upadhyaya Karyakarta Prashikshan Mahaabhiyan 2026)। দেশজুড়ে এই কর্মসূচি চালু হলেও পশ্চিমবঙ্গে এর বাস্তবায়ন বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরপরই।

আরও পড়ুন : Zurich Switzerland travel, study in Zurich Switzerland | তুষার, বিশ্ববিদ্যালয় আর সিনেমার স্মৃতিতে মোড়া, জুরিখ কেন ভারতীয়দের কাছে আজও ‘স্বপ্নপুরীর শহর’?

দলের কেন্দ্রীয় স্তরের নির্দেশ মেনে রাজ্যে ইতিমধ্যেই রাজ্য ও জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এবার শুরু হচ্ছে মণ্ডল স্তরের আবাসিক প্রশিক্ষণ শিবির। বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন থেকে শুরু হওয়া এই পর্যায়ে আগামী পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যের ১৩১৩টি মণ্ডলে ২৪ ঘণ্টার ‘প্রশিক্ষণ বর্গ’ সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিবির বিকেল ৫টা থেকে শুরু হয়ে পরের দিন একই সময়ে শেষ হবে। ফলে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাত কাটানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দলের অন্দর সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই প্রশিক্ষণ শিবিরের কাঠামো অনেকটাই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ (Rashtriya Swayamsevak Sangh)-এর প্রচলিত প্রশিক্ষণ পদ্ধতির অনুসরণে তৈরি। শিবিরে অংশ নেবেন বুথ সভাপতি, শক্তিকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা, মণ্ডল কমিটির সদস্যরা, এমনকি সংশ্লিষ্ট এলাকার জেলা ও রাজ্য স্তরের নেতারাও। সকলের জন্য একই ধরনের থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। দলের মতে, ‘একসঙ্গে নির্দিষ্ট সময় কাটানো এবং একই পরিবেশে থাকা কর্মীদের মধ্যে একাত্মতা ও দায়িত্ববোধ বাড়ায়।’

প্রশিক্ষণ বর্গে মোট আটটি সত্র রাখা হয়েছে, যেখানে দলের আদর্শ, ইতিহাস, কর্মপদ্ধতি, সংগঠন সম্প্রসারণের কৌশল, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে ধারণা, সমাজমাধ্যমের ব্যবহার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ‘নমো অ্যাপ’ (NaMo App) ও ‘সরল অ্যাপ’ (Saral App)-এর প্রয়োগ, বুথ ব্যবস্থাপনা এবং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতিটি সত্রের জন্য এক ঘণ্টা বরাদ্দ থাকছে, প্রথম ৪০ মিনিটে বিষয় উপস্থাপন, পরের ২০ মিনিট প্রশ্নোত্তরের জন্য নির্ধারিত। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচীর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতি। বক্তৃতা শোনার পাশাপাশি কর্মীরা নিজেদের প্রশ্ন রাখতে পারবেন এবং সরাসরি উত্তর পাবেন। দলের তরফে জেলায় জেলায় প্রায় ৭০ জনের প্রশিক্ষক দল তৈরি করা হয়েছে, যারা মণ্ডল স্তরে গিয়ে এই শিবির পরিচালনা করবেন। তাঁদের জন্য আলাদা করে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে এই উদ্যোগ নিয়ে তুলনা টানা হচ্ছে সিপিএম (Communist Party of India Marxist)-এর এক সময়ের ‘পার্টি ক্লাস’-এর সঙ্গে। সেই ক্লাসগুলিতে দলীয় নীতি, আদর্শ, সাংগঠনিক আচরণ এবং জনসংযোগের পদ্ধতি শেখানো হত। যদিও সময়ের সঙ্গে সেই প্রথার গুরুত্ব কমে যায়, পরে আবার ‘পাঠচক্র’ নামে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা হয়েছিল। বিজেপির এই নতুন উদ্যোগকে অনেকেই সেই ধারার আধুনিক রূপ হিসেবে দেখছেন। তবে বিজেপির এই কর্মসূচিতে আরও একটি বড় পরিবর্তন নজরে এসেছে, আর্থিক ব্যবস্থাপনা। নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই শিবির আয়োজনের জন্য কেন্দ্র বা রাজ্য স্তর থেকে সরাসরি অর্থ পাঠানো হবে না। বরং স্থানীয় স্তরে কর্মী ও সমর্থকদের স্বেচ্ছা অনুদান সংগ্রহ করে আয়োজন করতে হবে। অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে জমা দিতে বলা হয়েছে। যদিও এই অর্থে পুরো আয়োজন সম্ভব নয়, তাই স্থানীয় উদ্যোগের উপরই নির্ভর করতে হবে। এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলীয় অভ্যন্তরে দীর্ঘদিনের আলোচনার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আগে অধিকাংশ কর্মসূচির জন্য উপরমহল থেকে অর্থ আসত, যা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠত। অনেকের মতে, তাতে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের স্বনির্ভরতা কমে যায় এবং সংগঠনের ভিত দুর্বল হয়। এখন সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে এসে স্থানীয় স্তরে আর্থিক অংশগ্রহণ বাড়াতে চাইছে দল।

এক কেন্দ্রীয় নেতার কথায়, ‘কঠিন সময়ে দলের পাশে থেকে অনেক সাহায্য এসেছে। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তাই সংগঠনকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে।’ এই দৃষ্টিভঙ্গিই নতুন কর্মসূচির মূল ভিত্তি হিসেবে উঠে আসছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ক্ষমতায় আসার পর কোনও দল যদি শুধুমাত্র প্রশাসনিক কাজে মন দেয় এবং সংগঠনের দিকে নজর কমায়, তাহলে ভবিষ্যতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিজেপি সেই সম্ভাবনা এড়াতে আগেভাগেই সাংগঠনিক শক্তি মজবুত করার পথে হাঁটছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজনৈতিকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজ্যে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, তা আগামী দিনে বোঝা যাবে। উল্লেখ্য, এই ‘প্রশিক্ষণ মহাঅভিযান’ দলীয় সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা নতুন করে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মাঠে-ময়দানে কাজ করার পাশাপাশি সংগঠনের ভিতকে সুদৃঢ় করাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য, এই বার্তা পরিষ্কারভাবে উঠে আসছে এই কর্মসূচীর মাধ্যমে।

ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী 
আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari, West Bengal BJP Government | অগ্রাধিকারের তালিকা স্পষ্ট করলেন শুভেন্দু বছর ঘুরলেই মূল্যায়নের ডাক, নতুন সরকারের এক মাসে কোন পথে এগোচ্ছে বাংলা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন