Iran Invites PM Modi to Khamenei Funeral | Burial in Mashhad Raises Global Focus : খামেনেইয়ের শেষকৃত্যে মোদীকে তেহরানের আমন্ত্রণ, মাশহাদে সমাহিত হবেন ইরানের প্রভাবশালী নেতা, যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে নজর বিশ্বজুড়ে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ইরানের রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটে বড়সড় তাৎপর্যপূর্ণ এক অধ্যায় শুরু হতে চলেছে। চার মাস আগে নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই (Ayatollah Ali Khamenei)-এর শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজন করতে চলেছে তেহরান। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে (Narendra Modi) আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইরান সরকার, এমনটাই জানা গিয়েছে সরকারি সূত্র মারফত। আগামী ৪ জুলাই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষকৃত্যের প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং ৯ জুলাই তাঁর নিজ শহর মাশহাদে (Mashhad) সমাহিত করা হবে এই প্রভাবশালী নেতাকে। এই আমন্ত্রণ আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান (Masoud Pezeshkian) নাকি নিজেই প্রধানমন্ত্রী মোদীকে এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন। ভারতের সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য এবং কৌশলগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে। সেই প্রেক্ষাপটে এই আমন্ত্রণকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় উঠেছে।

আরও পড়ুন : Alireza Beiranvand story, Iran goalkeeper journey | খালি হাতে তেহরান থেকে বিশ্বমঞ্চ! রোনাল্ডোর পেনাল্টি রুখে ইতিহাস, ইরানের বেইরানভান্দের লড়াই আজও অনুপ্রেরণার মতো বিস্ময়

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনের (Pentagon) ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ (Operation Epic Fury)-এর সময় খামেনেই নিহত হন। ওই হামলায় ইরানের একাধিক উচ্চপদস্থ সামরিক আধিকারিকও প্রাণ হারান। তাঁদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হলেও খামেনেইয়ের শেষকৃত্য দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত ছিল। এই বিলম্বকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও নানা প্রশ্ন উঠেছিল। প্রথম দিকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ইরানের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মাশহাদেই তাঁকে সমাহিত করা হবে। কিন্তু বাস্তবে তা কার্যকর হতে এত সময় লাগার পেছনে একাধিক কারণ সামনে এসেছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক রদবদল এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছিল। খামেনেইয়ের মৃত্যুর পর তাঁর পুত্র মোজ়তবা খামেনেইকে (Mojtaba Khamenei) অস্থায়ীভাবে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু তিনিও পরবর্তী হামলায় গুরুতর জখম হন বলে খবর। ফলে নেতৃত্বের প্রশ্নে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এই সময় খামেনেইয়ের দেহ কোথায় রাখা হয়েছে, কী অবস্থায় রয়েছে, তা নিয়েও কোনও নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ইরানের একটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, নতুন নেতৃত্বের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থেই শেষকৃত্য বিলম্বিত করা হয়েছিল। কারণ, এই ধরনের অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগম হয়, যা নিরাপত্তার দিক থেকে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ইতিহাস বলছে, ইরানে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কেবল ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং তা রাজনৈতিক শক্তির প্রদর্শনও হয়ে ওঠে। ২০২০ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত কাসেম সোলেমানি (Qasem Soleimani) -এর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমেছিলেন। একাধিক শহরে শোকযাত্রা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচিত হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার প্রেক্ষিতেই খামেনেইয়ের শেষকৃত্য নিয়ে তেহরান শুরু থেকেই সতর্ক অবস্থান নেয়। পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে জুন মাসে। ১৩ জুন ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শেষকৃত্যের সময়সূচি ঘোষণা করে। তার কিছু দিন পর, ১৭ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) ও প্রেসিডেন্ট পেজ়েশকিয়ানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির পর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় শেষকৃত্যের আয়োজন এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। মাশহাদে খামেনেইয়ের সমাধিস্থল নির্বাচনও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি তাঁর জন্মস্থান এবং ইরানের অন্যতম ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সেখানে সমাহিত করার মাধ্যমে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জনমানসে গভীর প্রভাব তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই অনুষ্ঠানে উপস্থিতি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। তবে তিনি গেলে তা ভারত-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিক খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ভারতের অবস্থান আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। খামেনেইয়ের মৃত্যু এবং তাঁর শেষকৃত্যকে ঘিরে যে আন্তর্জাতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে, তা সহজেই বোঝা যায়। একদিকে এটি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির মোড় ঘোরানোর ঘটনা, অন্য দিকে বিশ্ব কূটনীতির ক্ষেত্রেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে। এখন নজর ৪ জুলাইয়ের দিকে, যখন শুরু হবে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, এবং ৯ জুলাই, যখন মাশহাদের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন ইরানের এই প্রভাবশালী নেতা।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Warships Launch, INS Dunagiri | গার্ডেনরিচে দেশীয় প্রযুক্তির তিন যুদ্ধজাহাজ উদ্বোধন, নৌশক্তি বাড়াতে বড় বার্তা দিলেন মোদী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন