Mamata Banerjee removal controversy | তৃণমূলে তুমুল ঝড়: ‘অপসারিত’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়! বিদ্রোহী শিবিরের বৈঠকে অরূপ রায় নতুন চেয়ারম্যান, অভিষেকও সরলেন পদ থেকে

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হঠাৎ করেই চাঞ্চল্যকর মোড়। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা এবার প্রকাশ্যে বিস্ফোরিত। বিদ্রোহী বিধায়কদের ডাকা একটি বৈঠক ঘিরে উঠে এল একাধিক বড় দাবি। সেই বৈঠক থেকেই ঘোষণা করা হয়, ‘অপসারিত’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একইসঙ্গে দলীয় কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের কথা জানিয়ে নতুন কমিটি গঠনের ঘোষণা করলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও তাঁর অনুগামীরা। সোমবার বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শেষে নিউ টাউনের একটি বিলাসবহুল হোটেলে বসে এই বৈঠক। দাবি করা হয়েছে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৬০ জন বিধায়ক এবং কলকাতার প্রায় ৭০ জন প্রাক্তন কাউন্সিলর। এই বৈঠক থেকেই ৩০ সদস্যের একটি নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন হাওড়া মধ্যের বিধায়ক অরূপ রায় (Arup Roy)। বিদ্রোহী শিবিরের তরফে জানানো হয়েছে, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Abhishek Banerjee)। নতুন সাধারণ সম্পাদক নিয়োগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন : Zurich Switzerland travel, study in Zurich Switzerland | তুষার, বিশ্ববিদ্যালয় আর সিনেমার স্মৃতিতে মোড়া, জুরিখ কেন ভারতীয়দের কাছে আজও ‘স্বপ্নপুরীর শহর’?

ঋতব্রতদের দাবি, দলীয় সংবিধানের ২০ নম্বর ধারাকে সামনে রেখেই এই পদক্ষেপ। তাঁদের বক্তব্য, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি তিন বছর অন্তর জাতীয় কর্মসমিতির বৈঠক হওয়া প্রয়োজন, কিন্তু ২০২২ সালের পর আর এমন বৈঠক হয়নি। সেই যুক্তিতে পুরনো জাতীয় কর্মসমিতিকে ভেঙে দিয়ে নতুন কর্মসমিতি গঠন করা হয়েছে। এই নতুন কাঠামোয় সহ-সভাপতি হিসেবে রাখা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস (Arup Biswas), পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) ও রথীন ঘোষকেও (Rathin Ghosh) একই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন জাভেদ খান (Javed Khan), সন্দীপন সাহা (Sandipan Saha) ও সাবিনা ইয়াসমিন (Sabina Yasmin)। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আখরুজ্জামান (Akhruzzaman)। বৈঠকের মঞ্চে টাঙানো ব্যানারে ছিল না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি, সেখানে দেখা যায় মহাত্মা গান্ধী (Mahatma Gandhi), ড. বি.আর. আম্বেডকর (B.R. Ambedkar), রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (Rabindranath Tagore) এবং কাজী নজরুল ইসলাম (Kazi Nazrul Islam)-এর ছবি। এই পদক্ষেপ নিয়েও শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

তৃণমূলের অন্দরে এই ভাঙনের সূত্রপাত অনেক আগে থেকেই। বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না পাওয়ার পর থেকেই অসন্তোষ বাড়তে থাকে। তারই মধ্যে ‘সই-কাণ্ড’ ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা ও অন্যান্য পদ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কিছু বিধায়কের সই জাল করা হয়েছে। এই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। বিষয়টি নিয়ে দলের ভিতরে দীর্ঘদিন টানাপোড়েন চলতে থাকে। পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয় যখন একসঙ্গে বহু বিধায়ক বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দেন। প্রথমে প্রায় ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনে ঋতব্রতকে বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি ওঠে। এরপর ধাপে ধাপে পরিস্থিতি বদলাতে থাকে। মমতা-ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত একাধিক নেতা, যেমন ফিরহাদ হাকিম বিদ্রোহীদের সঙ্গে নাম লেখান। এতে দলের ভিতরের সমীকরণ দ্রুত পাল্টে যায়। শুধু রাজ্যের পরিষদীয় দলেই নয়, প্রভাব পড়ে সংসদীয় দলেও। দাবি করা হয়েছে, লোকসভার প্রায় ২০ জন সাংসদ দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অফ ইন্ডিয়াতে (Nationalist Citizens Party of India) যোগ দেন। পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দুশেখর রায় (Sukhendu Sekhar Ray), সুস্মিতা দেব (Sushmita Dev) তাঁদের পদ থেকে ইস্তফা দেন বলেও জানানো হয়েছে।

তৃণমূলের সংগঠনের নিচুতলাতেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। বিভিন্ন জেলায় দলত্যাগের ঘটনা সামনে আসতে থাকে। প্রশ্ন উঠতে শুরু করে আসল তৃণমূল কোনটি? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সংগঠন, না কী ঋতব্রতদের দাবি করা নতুন কাঠামো? এই দ্বন্দ্বের মধ্যেই সোমবারের বৈঠকে বিদ্রোহীরা ঘোষণা করেন, ‘তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল’। এই বৈঠকে উপস্থিতি নিয়েও চর্চা তুঙ্গে। সেখানে দেখা গিয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) -এর পুত্র সৌরভ বসুকেও (Sourav Basu), তিনি কলকাতা পুরসভার ৮৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। ফলে রাজনৈতিক মহলে এই উপস্থিতি নতুন জল্পনা তৈরি করেছে। অন্যদিকে, এই গোটা ঘটনাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূলের মূল শিবির। কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘তৃণমূল আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সমার্থক। দলের যে কাঠামো, তাতে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কোনও অধিকার বিদ্রোহীদের নেই।’ তাঁর মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, মূল নেতৃত্ব এখনও এই ঘটনাকে অগ্রাহ্য করার পথেই হাঁটছে। রাজনৈতিক মহলে এখন নজর, এই সংঘাত কোন দিকে মোড় নেবে। দলীয় প্রতীক, সংগঠন ও জনসমর্থনের লড়াই কি আরও তীব্র হবে? নাকি আইনি ও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নতুন পথে যাবে? আপাতত রাজ্যের রাজনীতিতে এই ঘটনাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Humayun Kabir Offers Rejinagar Seat to Mamata Banerjee, Bengal Political Twist 2026 | শেষ পর্যায়ে মমতার পাশে হুমায়ুন!

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন