NEET UG 2026 re-exam, Telegram ban India, NEET 2026 | পুনঃপরীক্ষার আগে ভারতে টেলিগ্রাম সীমিত, প্রশ্নফাঁস রুখতে কড়া পদক্ষেপ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশজুড়ে আলোচিত নিট-ইউজি ২০২৬ (NEET-UG 2026) পুনঃপরীক্ষাকে ঘিরে বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্থায়ী ভাবে টেলিগ্রাম (Telegram) মেসেজিং অ্যাপের ব্যবহার সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার, ১৬ জুন এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থা (National Testing Agency বা NTA) -এর সুপারিশের ভিত্তিতে ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক (Ministry of Electronics and Information Technology) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি সূত্রে খবর, তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০ (Information Technology Act, 2000) -এর ৬৯এ ধারার অধীনে এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, ২২ জুন ২০২৬ পর্যন্ত নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভারতে টেলিগ্রাম প্ল্যাটফর্মে প্রবেশাধিকার সীমিত থাকবে। এই সময়সীমার মধ্যে রয়েছে ২১ জুন অনুষ্ঠিতব্য নিট-ইউজি পুনঃপরীক্ষার দিন এবং তার পরবর্তী সময়ও। প্রশাসনের মতে, পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে বেআইনি চক্র ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার

জাতীয় পরীক্ষণ সংস্থার তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সুশৃঙ্খল পরীক্ষার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং প্রতারণামূলক কার্যকলাপ রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ একই সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেখানে টেলিগ্রামকে ভারতে পূর্বে পাঠানো বার্তা সম্পাদনার (message editing) সুবিধা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে ৩০ জুন পর্যন্ত। এই ফিচার ব্যবহার করে পরীক্ষার পরে ভুয়ো ‘প্রশ্নফাঁস’-এর প্রমাণ তৈরি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এনটিএ-র বক্তব্য অনুযায়ী, ‘এই প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যকে কাজে লাগিয়ে সংগঠিত প্রতারণা চক্র পরীক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করছিল।’ ফলে সেই সম্ভাবনা বন্ধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সংস্থার মতে, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং পরীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট-ইউজি পরীক্ষা নিয়ে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। প্রশ্নফাঁস, নম্বর জালিয়াতি এবং বিভিন্ন অসঙ্গতির অভিযোগ সামনে আসার পর ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়। এর জেরে লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। পরবর্তীতে সেই পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ জুন। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি কোনওরকম ঝুঁকি নিতে চাইছে না বলেই মনে করা হচ্ছে। পরীক্ষার আগে এবং পরে সামাজিক মাধ্যমে ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে পড়া আটকাতে প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, এমন পদক্ষেপ পরীক্ষার পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়ক হবে।

এনটিএ আরও জানিয়েছে, ভারতীয় সাইবার ক্রাইম কোঅর্ডিনেশন সেন্টার (Indian Cyber Crime Coordination Centre), যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Ministry of Home Affairs) অধীনস্থ, এই পুরো কার্যক্রমে সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে কাজ করছে। টেলিগ্রামকে কেন্দ্র করে যে প্রতারণা ও বিভ্রান্তিমূলক প্রচার চালানো হচ্ছিল, তার বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এনটিএ -এর পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রককে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য। সংস্থার দাবি, ‘এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ২১ জুনের পরীক্ষা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে সহায়তা করবে।’ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে পরীক্ষার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এমন পদক্ষেপকে সমর্থন জানানো হচ্ছে, অন্যদিকে ডিজিটাল স্বাধীনতা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উপর প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। তবে প্রশাসন আপাতত পরীক্ষার স্বচ্ছতা বজায় রাখাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

পরীক্ষার্থীদের একাংশের মতে, পুনঃপরীক্ষা ঘিরে যে মানসিক চাপ তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে এই ধরনের ব্যবস্থা অন্তত প্রশ্নফাঁসের আশঙ্কা কমাবে। অন্য দিকে, অনেকে মনে করছেন, প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি পরীক্ষার সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় আরও কড়াকড়ি প্রয়োজন। ২১ জুনের পরীক্ষা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য। তার আগে টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে প্রশাসন যে কঠোর বার্তা দিতে চেয়েছে, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। এখন দেখার, এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয় এবং পরীক্ষার দিন পরিস্থিতি কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : online content blocking, Ministry of Home Affairs India | সহযোগ পোর্টালের দৌলতে অনলাইন কনটেন্টে কড়া নজর, এক বছরে ২,৩১২টি ব্লক আদেশ, সবচেয়ে বেশি নির্দেশ মেটা-কে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন