Saayoni Ghosh latest news, Saayoni Ghosh Delhi controversy | দিল্লিতে পা রাখতেই নীরবতা ভাঙলেন সায়নী ঘোষ! জল্পনার আগুনে ঘি, ‘সময় এলে সব বলব’ মন্তব্যে বাড়ল রহস্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তুলেছেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ (Saayoni Ghosh)। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর নীরবতা ঘিরে যখন জোর জল্পনা চলছিল, ঠিক সেই সময় দিল্লিতে পা রাখতেই মুখ খুললেন তিনি। তবে তাঁর মন্তব্যে মিলল না সরাসরি কোনও উত্তর, বরং রহস্য আরও ঘনীভূত হল। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। একসময় অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিত সায়নী ঘোষ, পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়ে দ্রুত নিজের জায়গা তৈরি করেন। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) -এর হয়ে যাদবপুর থেকে সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয়তা নজর কেড়েছিল। সাধারণ জীবনযাপন, সাদামাটা পোশাক এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, এই সব বৈশিষ্ট্য তাঁকে আলাদা পরিচিতি দেয়। অনেকেই তাঁর এই ভাবমূর্তির সঙ্গে তুলনা টানতেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)-এর সঙ্গে।

আরও পড়ুন : Anupriya Patel on Biopharma Revolution: ‘১০০ বায়োলজিক্স ২০৪৭-এর লক্ষ্য’! ভারতকে বিশ্বনেতা করতে বড় রূপরেখা জানালেন অনুপ্রিয়া প্যাটেল

সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় রাজনীতি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে তৃণমূলের হয়ে সরব ভূমিকা নিতে দেখা গিয়েছিল সায়নীকে। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থানকে সমর্থন করে একাধিক বার সামাজিক মাধ্যমে নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন। গত ২ জুন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্ণা আন্দোলনের একটি ভিডিও শেয়ার করে তিনি দলীয় অবস্থানের প্রতি সমর্থনও জানান। সেই সময় পর্যন্ত তাঁর অবস্থান নিয়ে কোনও প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু তারপর থেকেই আচমকা বদলে যায় পরিস্থিতি। হঠাৎ করেই জনসমক্ষে কম দেখা যেতে থাকে তাঁকে। সামাজিক মাধ্যমেও কার্যত নীরব হয়ে যান তিনি। রাজনৈতিক অন্দরে তখন থেকেই শুরু হয় নানা জল্পনা। এই নীরবতার কারণ কী, তা নিয়ে উঠতে থাকে প্রশ্ন। এদিকে দিল্লিতে বিক্ষুব্ধ সাংসদদের কার্যকলাপ ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব (Bhupender Yadav) -এর সঙ্গে বৈঠক, এনডিএ (NDA)-তে যোগদানের সম্ভাবনা এবং সেই সংক্রান্ত আলোচনার খবর সামনে আসতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই তালিকায় সায়নী ঘোষের নাম জড়াতেই জল্পনা আরও তীব্র হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেন, তবে কি রাজনৈতিক অবস্থান বদলের পথে হাঁটছেন তিনি? এই আবহেই রবিবার দিল্লিগামী সাংসদদের সঙ্গে বিমানবন্দরে দেখা যায় সায়নীকে। দীর্ঘ নীরবতার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। তবে প্রত্যাশিত উত্তর মেলেনি। বরং তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সায়নী বলেন, ‘এখন কিছু বলব না। সময় এলে সব বলব। ধীরে ধীরে সব জানতে পারবেন।’ তাঁর এই বক্তব্যে পরিষ্কার কোনও দিকনির্দেশ না থাকলেও, তা ঘিরে জল্পনা আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা এড়িয়ে যান। এতেই শেষ নয়, সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের কাছে জবাবদিহি করব না। যদি কাউকে জবাব দিতে হয়, তা হলে আমার সংসদীয় এলাকার মানুষকে দেব।’ তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। কেউ কেউ এটিকে আত্মবিশ্বাসী অবস্থান হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকেই মনে করছেন, এর মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক কৌশল।

সায়নীর এই অবস্থান তৃণমূল কংগ্রেসের ভিতরে কোনও প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় রাজনীতিতে যে টানাপোড়েন চলছে, তারই প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন দলের সাংসদদের উপর। সেই প্রেক্ষাপটে সায়নীর এই নীরবতা এবং পরবর্তী মন্তব্যকে অনেকেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি শেষ পর্যন্ত কোন পথে হাঁটবেন, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।

অন্যদিকে, তাঁর অনুগামীদের একাংশ এখনও আশাবাদী যে তিনি দলেই থাকবেন এবং আগের মতোই সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। আবার বিরোধী শিবিরে চলছে জোর আলোচনা, তাঁর এই অবস্থান ভবিষ্যতে বড় কোনও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত কি না। সায়নী ঘোষকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্যের জাল। দিল্লিতে তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। এখন দেখার, সময় এলে তিনি ঠিক কী জানান এবং তাঁর রাজনৈতিক যাত্রাপথ কোন দিকে মোড় নেয়।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Abhishek Banerjee letter to Speaker, TMC rebel MPs news | তৃণমূলে ভাঙন জল্পনার মাঝেই কড়া বার্তা! ‘একটাই দল, আলাদা গোষ্ঠী নয়’ : স্পিকারকে চিঠি অভিষেকের, দিল্লিতে রাজনৈতিক টানাপোড়েন তুঙ্গে

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন