সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নয়াদিল্লি/গুরগাঁও: অনলাইন ডেটিং অ্যাপে সঙ্গী খোঁজার প্রবণতা যত বাড়ছে, ততই নতুন নতুন প্রতারণার ফাঁদও সামনে আসছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় হরিয়ানার এক মহিলা বিচারক ভয়াবহ আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। অভিযোগ, একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া এক ব্যক্তির প্রলোভনে পড়ে ধাপে ধাপে প্রায় ৫২ লক্ষ টাকা হারিয়েছেন তিনি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ এবং তাঁর জামিনের আবেদনও খারিজ করেছে দিল্লির একটি আদালত। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই মহিলা বিচারক সরাসরি অভিযোগ দায়ের করেননি। বরং তাঁর পরিচারিকা থানায় গিয়ে অভিযোগ জানান। এই বিষয়টি নিয়েই আদালত প্রশ্ন তুলেছে। বিচারকের মতো দায়িত্বশীল পদে থাকা একজন ব্যক্তি কেন নিজে অভিযোগ না করে অন্যের মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করলেন, তা নিয়ে বিচারক মণ্ডলীর তরফে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারিক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। ‘অভিমন্যু বশিষ্ঠ’ (Abhimanyu Vashishtha) নাম ব্যবহার করে তিনি ওই ডেটিং প্ল্যাটফর্মে বিচারকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রথমে সাধারণ আলাপচারিতা, তারপর ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, এই পদ্ধতিতেই আস্থা অর্জন করেন তিনি। পুলিশের কথায়, অভিযুক্ত অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা চালিয়েছেন। তিনি বিচারককে বিভিন্ন বিনিয়োগ প্রকল্পের প্রস্তাব দেন এবং দাবি করেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে বিনিয়োগের অর্থ দ্বিগুণ করে দেওয়া সম্ভব। শুরুতে ছোট অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়, পরে ধাপে ধাপে বড় অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করানো হয়। বিশ্বাস তৈরি হয়ে যাওয়ায় বিচারক বারবার টাকা পাঠাতে থাকেন।
ঘটনার মোড় ঘোরে যখন প্রতিশ্রুত অর্থ ফেরত না পেয়ে সন্দেহ শুরু হয়। তখনই বিষয়টি সামনে আসে। যদিও তখন পর্যন্ত অভিযুক্ত বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন। পরে পুলিশ তদন্তে নেমে অভিযুক্তের খোঁজ পায় এবং দিল্লি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে এই মামলার শুনানির সময় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে। বিশেষ করে তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। যে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে এই পরিচয়, সেই প্ল্যাটফর্মে হওয়া কথোপকথনের তথ্য কেন সংরক্ষণ করা হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি হোয়াট্সঅ্যাপ (WhatsApp) চ্যাট বা ফোনকলের রেকর্ড সংগ্রহ করা হয়নি কেন, সেই বিষয়েও জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি তদন্তের গতিপথকে প্রভাবিত করতে পারে। বিচারকের ব্যক্তিগত পরিচয় বা মর্যাদা রক্ষার জন্য এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকতে পারে, কিন্তু তাতে তদন্তের স্বচ্ছতা বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এই ঘটনা আবারও অনলাইন প্রতারণার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির দিকে আঙুল তুলেছে। বিশেষ করে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয় হওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আর্থিক লেনদেনে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রেই অপরিচিত ব্যক্তিরা ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেন এবং পরে আর্থিক ফাঁদ পেতে প্রতারণা চালান। সাম্প্রতিক সময়ে এমন প্রতারণার ঘটনা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়ছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাগুলি বারবার সতর্কবার্তা দিলেও অনেকেই এই ফাঁদে পা দিচ্ছেন। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডেটিং প্ল্যাটফর্মে অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দ্রুত ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়া এবং আর্থিক লেনদেন করা বিপজ্জনক হতে পারে। এই ঘটনার পর পুলিশ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। অচেনা কারও সঙ্গে আর্থিক লেনদেন না করা, কোনও বিনিয়োগের প্রস্তাব এলে তা যাচাই করা এবং সন্দেহজনক কিছু মনে হলে দ্রুত পুলিশের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও বলা হয়েছে। হরিয়ানার এই ঘটনাটি কেবল একটি প্রতারণার কাহিনি নয়, বরং ডিজিটাল যুগে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবার ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রযুক্তির সুবিধার পাশাপাশি তার অপব্যবহারও যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই ঘটনা তারই উদাহরণ।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : hot-tech dating trend, online dating lifestyle | হট-টেক ডেটিং-এ বদলে যাচ্ছে প্রেম, জীবন আর সমাজের মানসিকতা




