সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক যুগের সমাপ্তি যেন আরও একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখালেন কেন উইলিয়ামসন (Kane Williamson)। শুক্রবার আচমকাই সব ধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা করেন নিউজিল্যান্ডের এই তারকা ব্যাটার। ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালীন এমন সিদ্ধান্ত অনেককেই বিস্মিত করেছে। তাঁর এই বিদায়ের পরই আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক বিরাট কোহলি (Virat Kohli)। দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বীকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে তিনি লিখেছেন, ‘জীবন তো সবে শুরু হল’, যা মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায় সমাজমাধ্যমে। ক্রিকেটবিশ্বে ‘ফ্যাব ফোর’ নামে পরিচিত চার ব্যাটারের মধ্যে অন্যতম ছিলেন উইলিয়ামসন ও কোহলি। এই তালিকায় আরও রয়েছেন ইংল্যান্ডের জো রুট (Joe Root) এবং অস্ট্রেলিয়ার স্টিভ স্মিথ (Steve Smith)। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই চার তারকার পথ আলাদা হয়ে গিয়েছে। কোহলি ইতিমধ্যেই টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন এবং সীমিত ওভারের নির্দিষ্ট ফরম্যাটে খেলছেন। অন্যদিকে উইলিয়ামসন সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেই বিদায় জানিয়ে নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন।
সমাজমাধ্যমে কোহলির বার্তাটি ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে নাড়া দিয়েছে। তিনি লেখেন, ‘বিপক্ষ হিসেবে শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক বন্ধুত্বে পরিণত হয়েছে। তোমাকে ব্যাট করতে দেখা এবং তোমার বিরুদ্ধে খেলতে পারা আমার কাছে দারুণ অভিজ্ঞতা।’ আরও বলেন, ‘মাঠের বাইরে আমাদের যে কথাবার্তা, ভাবনার আদান-প্রদান হয়েছে, তা সবসময় মনে থাকবে। তোমার ভবিষ্যতের জন্য শুভেচ্ছা রইল। তুমি যা করার ছিল, করে ফেলেছ। এখন উপভোগ করার সময়।’ উইলিয়ামসনের ক্রিকেটযাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের নভেম্বরে, ভারতের বিরুদ্ধে আহমেদাবাদে টেস্ট অভিষেক ম্যাচ দিয়ে। প্রথম ম্যাচেই শতরান করে নিজের আগমনের বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। কয়েক মাসের মধ্যেই এক দিনের ক্রিকেটেও অভিষেক ঘটে তাঁর, সেখানেও ভারতের বিরুদ্ধেই প্রথম ম্যাচ খেলেন। শুরু থেকেই ধারাবাহিকতা, ধৈর্য এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার জন্য আলাদা জায়গা করে নেন তিনি।
পরিসংখ্যানের দিক থেকে উইলিয়ামসনের কেরিয়ার যথেষ্ট সমৃদ্ধ। ১১০টি টেস্ট ম্যাচে তিনি ৯৫১৫ রান করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ৩৩টি শতরান এবং ৩৮টি অর্ধশতরান। এক দিনের ক্রিকেটে ১৭৫টি ম্যাচে তাঁর সংগ্রহ ৭২৫৬ রান, সঙ্গে ১৫টি শতরান ও ৪৭টি অর্ধশতরান। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে বিদায় নিচ্ছেন তিনি। শুধু ব্যাটিং নয়, নেতৃত্বের ক্ষেত্রেও উইলিয়ামসন নিজের ছাপ রেখে গেছেন। তাঁর অধিনায়কত্বে নিউজিল্যান্ড একাধিক বড় মঞ্চে নজর কাড়ে। ২০১৯ সালের এক দিনের বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি, যদিও অল্পের জন্য ট্রফি হাতছাড়া হয়। ২০২১ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দল ফাইনালে ওঠে। সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে, যেখানে তাঁর নেতৃত্বেই ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতে নিউজিল্যান্ড। উইলিয়ামসনের শান্ত স্বভাব, কৌশলী ব্যাটিং এবং পরিমিত নেতৃত্ব তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। মাঠে তাঁর আচরণ ও প্রতিপক্ষের প্রতি সম্মান দেখানোর মানসিকতা তাঁকে সমর্থকদের কাছেও প্রিয় করে তুলেছে। কোহলির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও সেই পারস্পরিক সম্মানের জায়গা থেকেই গড়ে উঠেছে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে এই অবসর একটি বড় শূন্যতা তৈরি করল। কারণ, ‘ফ্যাব ফোর’-এর লড়াই গত এক দশক ধরে ক্রিকেটকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। সেই তালিকার একজন সম্পূর্ণ সরে যাওয়ায় এক যুগের পরিসমাপ্তির অনুভূতি তৈরি হয়েছে। উইলিয়ামসনের অবসরের ফলে আগামী এক দিনের বিশ্বকাপে তাঁকে আর দেখা যাবে না, যা নিউজিল্যান্ড দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবেই ধরা হচ্ছে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও স্থিরতা দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন নতুন প্রজন্মের ক্রিকেটারদের উপরেই দায়িত্ব থাকবে সেই জায়গা পূরণ করার।
অন্যদিকে কোহলির এই আবেগঘন বার্তা আবারও দেখাল, প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, ক্রিকেটের বাইরেও এক অন্য সম্পর্ক গড়ে ওঠে খেলোয়াড়দের মধ্যে। মাঠের লড়াই শেষ হলেও সেই সম্পর্ক অটুট থাকে। উইলিয়ামসনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এখনও পরিষ্কার নয়। তবে অনেকেই মনে করছেন, তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট বা কোচিংয়ের মতো ভূমিকা নিতে পারেন। আপাতত ক্রিকেটজীবনের দীর্ঘ অধ্যায় শেষ করে নতুন পথের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন তিনি।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Injury, Kohli Out Afghanistan Series | হ্যামস্ট্রিং চোটে ধাক্কা! আফগানিস্তান সিরিজে নেই বিরাট কোহলি, চিন্তায় ভারতীয় শিবির




