Free Hospital Service: ‘কার্ড নয়, শুধু আধারেই ফ্রি চিকিৎসা’! বেসরকারি হাসপাতালেও ১০% বেডে বিনামূল্যে পরিষেবা, বড় ঘোষণা স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ঘিরে দীর্ঘদিনের অভিযোগ, চাপ এবং অসন্তোষের আবহে এক বড় সিদ্ধান্তের কথা সামনে আনলেন নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukhopadhyay)। সরকারি হাসপাতালে বেড না পেলে রোগীদের আর ফিরিয়ে দেওয়া হবে না, এবার তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে বেসরকারি হাসপাতালও। সবচেয়ে বড় দিক, এই পরিষেবা পেতে কোনও বিশেষ কার্ডের প্রয়োজন হবে না, কেবলমাত্র আধার কার্ড থাকলেই মিলবে ‘ফ্রি’ চিকিৎসা।

আরও পড়ুন : Humayun Kabir Offers Rejinagar Seat to Mamata Banerjee, Bengal Political Twist 2026 | শেষ পর্যায়ে মমতার পাশে হুমায়ুন!

গত কয়েক বছরে রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নানা সমস্যা নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আরজি কর হাসপাতাল (RG Kar Hospital) সংক্রান্ত ঘটনার পর সেই সমস্যাগুলি আরও সামনে আসে। বেডের অভাব, রেফার করার প্রবণতা এবং মধ্যস্বত্বভোগী চক্র নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছিল। এই প্রেক্ষাপটে দায়িত্ব নেওয়ার পরই পরিষেবায় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, ‘সরকারি হাসপাতালে জায়গা না থাকলে রোগীকে আর ফিরিয়ে দেওয়া হবে না। নিকটবর্তী বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে এবং সেখানে নির্দিষ্ট বেডে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হবে।’ তাঁর কথায়, শহরের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে অন্তত ১০ শতাংশ বেড এই উদ্দেশ্যে সংরক্ষিত রাখা হবে। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে রোগীদের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমবে।

এই নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল, পরিষেবা পাওয়ার জন্য আলাদা কোনও স্বাস্থ্য কার্ড বা জটিল নথির প্রয়োজন নেই। শুধু আধার কার্ড দেখালেই রোগীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে এই প্রকল্পে। এতে করে সাধারণ মানুষের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে যাঁরা আগে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এতদিন কাটমানির অভিযোগ ছিল, ফলে অনেক ক্ষেত্রেই বিনামূল্যে পরিষেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এখন প্রশাসনের লক্ষ্য পরিষেবাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’ এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও বাস্তবে কত দ্রুত এই প্রকল্প কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার।

সূত্রের খবর, এই পরিষেবাকে কার্যকর করতে প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। খুব শীঘ্রই একটি টোল-ফ্রি নম্বর চালু করা হবে, যেখানে ফোন করে রোগীর পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় তথ্য জানতে পারবেন। পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে প্রচারের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ এই নতুন নিয়ম সম্পর্কে সচেতন হন। স্বাস্থ্য দফতরের সূত্রে জানা গিয়েছে, সরকারি হাসপাতালে বেডের ঘাটতি বহুদিনের সমস্যা। বিশেষ করে বড় শহরগুলিতে রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে অনেক সময় রোগীদের বাইরে অপেক্ষা করতে হয় বা অন্যত্র পাঠানো হয়। এই পরিস্থিতিতে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে যুক্ত করা একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অতীতে বহুবার অভিযোগ উঠেছে, রেফার প্রথার কারণে রোগীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে বিপদের মুখে পড়েছেন রোগীরা। নতুন ব্যবস্থায় সেই সমস্যা কমবে বলে প্রশাসনের আশা। রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরতে হবে না, বরং নির্দিষ্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি পরিষেবা নিশ্চিত করা হবে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে গেলে বেসরকারি হাসপাতালগুলির সঙ্গে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ, চিকিৎসার খরচ বহন এবং পরিষেবার মান বজায় রাখা, এই তিনটি দিকেই নজর রাখতে হবে সরকারকে। এছাড়া রোগী স্থানান্তরের প্রক্রিয়াটিও স্বচ্ছ ও দ্রুত করতে হবে, যাতে জরুরি ক্ষেত্রে কোনও দেরি না হয়।

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ঘিরে যে চাপ তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে এই ঘোষণা একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে। যদিও বাস্তব চিত্র কেমন হবে, তা নির্ভর করবে এই প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নের উপর। সাধারণ মানুষ এখন অপেক্ষায়, এই নতুন নিয়ম তাঁদের কতটা স্বস্তি দিতে পারে। এই ঘোষণার পর স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি দুই ক্ষেত্রের সমন্বয়ে চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য করা সম্ভব কি না, সেটাই এখন মূল প্রশ্ন। শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের এই পদক্ষেপ সেই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal cabinet 2026 list, Suvendu Adhikari ministers portfolio | নবান্নে দফতর বণ্টন চূড়ান্ত: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর হাতে স্বরাষ্ট্র-বিদ্যুৎ, ৪০ মন্ত্রীর দায়িত্ব ঘোষণা, নজরে কার হাতে কোন দফতর

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন