West Bengal cabinet 2026 list, Suvendu Adhikari ministers portfolio | নবান্নে দফতর বণ্টন চূড়ান্ত: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর হাতে স্বরাষ্ট্র-বিদ্যুৎ, ৪০ মন্ত্রীর দায়িত্ব ঘোষণা, নজরে কার হাতে কোন দফতর

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকারের প্রশাসনিক কাঠামো এখন সম্পূর্ণ রূপ পেল। নবান্ন থেকে প্রকাশিত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -সহ মোট ৪১ জনের মন্ত্রিসভায় কে কোন দফতরের দায়িত্ব পেলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা। বিশেষ করে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর রাখা এবং শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ভারসাম্য রেখে দায়িত্ব বণ্টন—এই দুই দিকেই নজর রয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাতেই থাকছে স্বরাষ্ট্র, পার্বত্য বিষয়ক, ভূমি ও ভূমি সংস্কার, ত্রাণ ও উদ্বাস্তু পুনর্বাসন, বিদ্যুৎ, তথ্য ও সংস্কৃতি এবং কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দফতর। পাশাপাশি, যে দফতরগুলি অন্য মন্ত্রীদের মধ্যে বণ্টিত হয়নি, সেগুলিও তাঁর তত্ত্বাবধানেই থাকবে। প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখার এই কৌশল যে সরকারের প্রথম পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে, তা নিয়ে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন : Mamata Banerjee Dev statement | তৃণমূল ছাড়ছেন না দেব, ‘দিদির সঙ্গেই আছি’! শুভেন্দুর বৈঠকের পর ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়ে বড় বার্তা

গত ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন ব্রিগেড ময়দানে অনুষ্ঠিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন পাঁচ জন নিশীথ প্রামাণিক (Nisith Pramanik), দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh), অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul), অশোক কীর্তনিয়া (Ashok Kirtania) এবং ক্ষুদিরাম টুডু (Khudiram Tudu)। পরে ১ জুন আরও ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নেন। সেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার দফতর বণ্টনের চিত্র এখন স্পষ্ট। নিশীথ প্রামাণিকের হাতে দেওয়া হয়েছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন ও জলসম্পদ উন্নয়ন দফতর। দিলীপ ঘোষ পেয়েছেন পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি বিপণন দফতর, যা গ্রামীণ অর্থনীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। অগ্নিমিত্রা পালের দায়িত্বে এসেছে পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর, শহুরে অবকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে যার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। অশোক কীর্তনিয়াকে দেওয়া হয়েছে খাদ্য ও সরবরাহ এবং সমবায় দফতর। ক্ষুদিরাম টুডুর হাতে রয়েছে আদিবাসী ও সংখ্যালঘু উন্নয়ন এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর। স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন শারদ্বত মুখোপাধ্যায় (Sharadwat Mukhopadhyay)। কয়েক দিন আগেই নিউ টাউনের রামমন্দিরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তৈরি করেছিল। সেই সময় মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছিলেন, ‘স্বাস্থ্য দফতরের দায়িত্ব শারদ্বতই সামলাবেন।’ বিজ্ঞপ্তিতে সেই ঘোষণাই আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।

পর্যটন দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শিলিগুড়ির শঙ্কর ঘোষকে (Shankar Ghosh)। তাঁর হাতেই রয়েছে পরিষদীয় বিষয়ক দফতরও। শিল্প ও বাণিজ্য দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন তাপস রায় (Tapas Roy)। পাশাপাশি, অচিরাচরিত ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি, সরকারি উদ্যোগ এবং শিল্প পুনর্গঠন দফতরও তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকবে। অর্থ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্বপন দাশগুপ্তকে (Swapan Dasgupta), যা সরকারের আর্থিক নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে বিবেচিত হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা ও কারিগরি শিক্ষা দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় (Jagannath Chattopadhyay)। স্কুলশিক্ষা দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দীপক বর্মণকে (Dipak Barman)। একই সঙ্গে তাঁর হাতে রয়েছে আবাসন, ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্প এবং বস্ত্র দফতর। কৃষিমন্ত্রী হয়েছেন দুধকুমার মণ্ডল (Dudh Kumar Mondal)। শ্রম ও পরিবহণ দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন অর্জুন সিংহ (Arjun Singh)। বন ও পরিবেশ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মনোজ ওরাওঁকে (Manoj Oraon)।

পূর্ত দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন অজয় পোদ্দার (Ajay Poddar)। গৌরীশঙ্কর ঘোষ (Gourishankar Ghosh)-এর হাতে রয়েছে অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন, জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার দফতর। তথ্যপ্রযুক্তি ও বৈদ্যুতিন, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ও জৈবপ্রযুক্তি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প এবং উদ্যানপালন দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন কল্যাণ চক্রবর্তী (Kalyan Chakraborty)। সেচ ও জলপথ দফতরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অরূপকুমার দাসকে (Arup Kumar Das)। স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। মালতি রাভা রায় (Malati Rava Roy)-এর হাতে নারী ও শিশুকল্যাণ, সমাজকল্যাণ, স্বনির্ভর গোষ্ঠী, স্বনিযুক্তি এবং প্রকল্প পর্যবেক্ষণ দফতর দেওয়া হয়েছে। রাজেশ মাহাতো (Rajesh Mahato) প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য দফতরের দায়িত্ব সামলাবেন। ইন্দ্রনীল খাঁ (Indranil Kha)-কে দেওয়া হয়েছে ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ এবং উপভোক্তা বিষয়ক দফতর।

এছাড়া প্রতিমন্ত্রীদের ক্ষেত্রেও দফতর নির্দিষ্ট করা হয়েছে। জুয়েল মুর্মু (Juel Murmu) আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। উচ্চশিক্ষা দফতরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন হরেকৃষ্ণ বেরা (Harekrishna Bera)। অর্থ দফতরের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন আনন্দময় বর্মণ (Anandamoy Barman)। আবাসন দফতরের প্রতিমন্ত্রী কলিতা মাজি (Kalita Maji)। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন সুমনা সরকার (Sumana Sarkar)। স্বরাষ্ট্র দফতরের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে বিশাল লামা (Vishal Lama)-কে। অশোক দিন্ডা (Ashok Dinda) পেয়েছেন কৃষিবিপণন, ক্ষুদ্র-কুটির-মাঝারি শিল্প ও বস্ত্র দফতরের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, এই দফতর বণ্টনের মাধ্যমে সরকার দ্রুত কাজ শুরু করতে চাইছে। নতুন মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও নতুন মুখ—দুইয়ের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে বলা হচ্ছে, এই বণ্টন আগামী দিনে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। নবান্নের এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক চাকা আরও দ্রুত ঘুরতে শুরু করবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন দফতরের দায়িত্ব স্পষ্ট হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়ন, উন্নয়নমূলক কাজ এবং পরিষেবা প্রদান—সব ক্ষেত্রেই গতি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকারের এই প্রথম বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ ঘিরে নজর এখন গোটা রাজ্যের।

ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : West Bengal Cabinet Expansion, Suvendu Adhikari Cabinet | লোক ভবনে শপথ শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রিসভার, ৩৫ জনের অন্তর্ভুক্তি, কারা পেলেন পূর্ণ ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব?

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন