সুজয়নীল দাশগুপ্ত ★ সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক, নতুন দিল্লি : বিশ্ব ফুটবলের মহারণ শুরুর আগে জল্পনা তুঙ্গে, কে হবেন এবারের বিশ্বকাপের সর্বাধিক গোলদাতা? আর্জেন্টিনার লিয়োনেল মেসি (Lionel Messi), পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো (Cristiano Ronaldo), ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন (Harry Kane) নাকি ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপে (Kylian Mbappé)? এই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিলেন এমবাপে, আর তাতেই চর্চা শুরু হয়ে গেছে আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে। একটি সাক্ষাৎকারে এমবাপেকে যখন প্রশ্ন করা হয়, মেসি ও কেনের মধ্যে কে বেশি গোল করবেন, তখন তিনি মেসির নাম নেন। আবার মেসি ও রোনাল্ডোর মধ্যে তুলনায় রোনাল্ডোকেই এগিয়ে রাখেন। কিন্তু যখন প্রশ্ন ওঠে তাঁর নিজের সঙ্গে রোনাল্ডোর তুলনা, তখন একটুও দ্বিধা না করে এমবাপে বলেন, ‘আমি।’ তাঁর এই আত্মবিশ্বাসী উত্তরেই ফুটে উঠেছে বিশ্বকাপকে ঘিরে তাঁর প্রস্তুতি ও মানসিকতা।
ফরাসি তারকার এই মন্তব্য যে নিছক কথার কথা নয়, তা প্রমাণ করেছে তাঁর আগের বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে এমবাপে ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। পুরো টুর্নামেন্টে তিনি করেছিলেন আটটি গোল এবং জিতেছিলেন গোল্ডেন বুট। অন্যদিকে মেসি করেছিলেন সাতটি গোল। ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স মুখোমুখি হয়েছিল এক স্মরণীয় লড়াইয়ে। সেই ম্যাচে মেসি করেছিলেন জোড়া গোল, আর এমবাপে করেছিলেন হ্যাটট্রিক, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বকাপের ইতিহাসে গোলদাতাদের তালিকায়ও এখন জমে উঠেছে প্রতিযোগিতা। মেসি এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে করেছেন ১৩টি গোল, রোনাল্ডোর ঝুলিতে রয়েছে ৮টি। অন্যদিকে মাত্র দুই বিশ্বকাপ খেলেই এমবাপে পৌঁছে গিয়েছেন ১২ গোলে। ফলে এই তিন তারকার কাছেই সুযোগ রয়েছে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোজ়ে (Miroslav Klose) -এর ১৬ গোলের রেকর্ড ছাপিয়ে যাওয়ার।
এবার বিশ্বকাপে নামতে চলেছেন মেসি ও রোনাল্ডো তাঁদের কেরিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে। যা নিজেই একটি নজির। এর আগে কোনও ফুটবলার পাঁচ বারের বেশি বিশ্বকাপে অংশ নেননি। ফলে তাঁদের অভিজ্ঞতা নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকা নেবে। অন্যদিকে এমবাপে নামছেন তাঁর তৃতীয় বিশ্বকাপে, কিন্তু ইতিমধ্যেই নিজের ছাপ রেখে দিয়েছেন বিশ্বমঞ্চে। হ্যারি কেনকেও এই দৌড়ে পিছিয়ে রাখা যায় না। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়ক হিসেবে তিনি নিয়মিত গোল করে চলেছেন। ক্লাব ও দেশের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাঁকে অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী করে তুলেছে। তবে এমবাপের মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, তিনি নিজেকেই এগিয়ে রাখছেন এই প্রতিযোগিতায়। বিশ্বকাপ মানেই বড় মঞ্চ, আর সেই মঞ্চে বড় খেলোয়াড়রা নিজেদের সেরাটা উজাড় করে দেন। মেসির ক্ষেত্রে এ বার বিশ্বকাপ হতে পারে কেরিয়ারের শেষ বিশ্বকাপগুলির একটি। অন্যদিকে রোনাল্ডোর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। ফলে দু’জনেই নিজেদের সেরা ছন্দে থাকতে চাইবেন।
এমবাপের সামনে রয়েছে অন্য এক চ্যালেঞ্জ। তিনি ইতিমধ্যেই ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছেন। আবার ২০২২ সালে ফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছেন। এ বার তাঁর লক্ষ্য দলকে আবার চ্যাম্পিয়ন করা এবং ব্যক্তিগত ভাবে আরও একবার গোল্ডেন বুট জেতা। অন্যদিকে মেসিও ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে নিজের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন। ফলে এ বার তিনি অনেকটাই চাপমুক্ত হয়ে খেলতে পারবেন। রোনাল্ডো এখনও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাননি, তাই তাঁর প্রেরণাও কম নয়। হ্যারি কেনও প্রথমবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবেন। ফুটবলপ্রেমীদের কাছে এ বারের বিশ্বকাপ বিশেষ আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে এই চার তারকার লড়াইয়ের কারণে। গোলের দৌড়ে কে এগিয়ে থাকবেন, তা এখনই বলা কঠিন। তবে এমবাপের আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য সেই প্রতিযোগিতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁর কথায়, ‘প্রত্যেকেই নিজের দেশের জন্য সেরাটা দিতে চায়। তবে শেষ পর্যন্ত আমি-ই বেশি গোল করব।’ এই আত্মবিশ্বাসই তাঁকে আলাদা করে তোলে। মাঠে সেই কথার প্রতিফলন দেখা যায় কি না, এখন সেটাই দেখার।
বিশ্বকাপ শুরু হতে আর বেশি দেরি নেই। আর তার আগে এই ধরনের মন্তব্য ফুটবলপ্রেমীদের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। গোলের লড়াইয়ে কে শেষ হাসি হাসবেন মেসি, রোনাল্ডো, কেন নাকি এমবাপে উত্তর মিলবে মাঠেই।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mbappe goals, Haaland World Cup | এম্বাপে না হালান্ড? বিশ্বকাপে সোনার বুটের লড়াইয়ে এগিয়ে কে : নজরে ৫ স্ট্রাইকার




