সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নয়াদিল্লি : বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের অবস্থান এখন খুব স্বস্তিদায়ক নয়, তবে আশা ছাড়তে নারাজ দলের প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)। পয়েন্ট তালিকায় আপাতত ছ’নম্বরে থাকলেও বাকি থাকা ম্যাচগুলিকে সামনে রেখে এখনও ফাইনালে ওঠার সুযোগ রয়েছে বলেই মনে করছেন তিনি। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্টের আগে দলের প্রস্তুতি, ব্যাটিং অর্ডার এবং নতুন নিয়ম নিয়ে মুখ খুলে গম্ভীর স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘আমরা এখনও প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে যাইনি।’
বর্তমান চক্রে ভারত ইতিমধ্যেই ৯টি টেস্ট ম্যাচ খেলে ফেলেছে। সামনে রয়েছে আরও ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ যার মধ্যে শ্রীলঙ্কা (Sri Lanka) এবং নিউজিল্যান্ড (New Zealand) -এর বিরুদ্ধে দু’টি করে টেস্ট সিরিজ, পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়া (Australia) -এর বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের বড় সিরিজ। এই সূচীর উপর নির্ভর করেই ভারতের ভাগ্য নির্ধারিত হবে। গম্ভীরের কথায়, ‘যত দিন পর্যন্ত ফাইনালে পৌঁছনোর অঙ্ক বেঁচে আছে, তত দিন আমরা নিজেদের সম্ভাবনায় বিশ্বাস রাখব। একটা-দুটো সিরিজ ভালো না গেলেই সব শেষ হয়ে যায় না।’ ভারতের ব্যাটিং অর্ডারে তিন নম্বর জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। চেতেশ্বর পুজারা (Cheteshwar Pujara) -এর বিদায়ের পর সেই জায়গায় একাধিক ক্রিকেটারকে সুযোগ দেওয়া হলেও কেউ স্থায়ীভাবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। এই প্রেক্ষাপটে গম্ভীর পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, সাই সুদর্শন (Sai Sudharsan) -এর উপরেই আস্থা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাঁর ভাষায়, ‘সাই এখনও খুব বেশি সুযোগ পায়নি। ওর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার শুরু হয়েছে কঠিন পরিবেশে। তাই ওকে সময় দিতে হবে।’
পরিসংখ্যান বলছে, সুদর্শন এখনও পর্যন্ত ছ’টি টেস্ট ম্যাচে ৩০২ রান করেছেন। সংখ্যাটা খুব বড় না হলেও গম্ভীর মনে করছেন, এই পর্বে ধারাবাহিক সুযোগ পাওয়া জরুরি। তিনি বলেন, ‘কয়েকটা ম্যাচের ভিত্তিতে কাউকে বিচার করলে চলবে না। ওর মধ্যে ধারাবাহিকতা আনার জন্য দীর্ঘ সময় দরকার।’ অন্যদিকে, ঘরোয়া ক্রিকেটে নজর কেড়ে থাকা দেবদত্ত পডিক্কল (Devdutt Padikkal) -এর সুযোগ না পাওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এই বিষয়ে গম্ভীরের ব্যাখ্যা, ‘আমরা তো মাত্র ১১ জনকেই খেলাতে পারি। তাই কেউ কেউ অপেক্ষা করবে, সেটাই স্বাভাবিক। সাই এই মুহূর্তে খারাপ ফর্মে নেই। আইপিএলে ওর পারফরম্যান্সও ভালো ছিল। যখন পডিক্কলের সময় আসবে, ওকেও সমান সুযোগ দেওয়া হবে।’
আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট ম্যাচটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে এই ম্যাচকে দল পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবেই ব্যবহার করতে চাইছে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। বিশেষ করে স্পিন বিভাগে চতুর্থ বিকল্প খুঁজে বের করাই এখন লক্ষ্য। মানব সুতার (Manav Suthar) এবং হর্ষ দুবে (Harsh Dubey) -এর মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে। গম্ভীর জানিয়েছেন, ‘দু’জনেই সম্ভাবনাময়। লাল বলের ক্রিকেটে কে বেশি মানিয়ে নিতে পারে, সেটাই দেখার।’ এই টেস্ট ঘিরে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আইসিসি (ICC)-র নতুন পরীক্ষামূলক সিদ্ধান্ত। একই ম্যাচে লাল এবং গোলাপি বল ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে খারাপ আলোর কারণে খেলা বন্ধ থাকার সমস্যা কিছুটা কমানো যায়। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন গম্ভীর। তাঁর কথায়, ‘যদি ম্যাচের ফলাফল বের করার সুযোগ থাকে, তা হলে সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো উচিত। আলো কম থাকলে খেলা থেমে গেলে সেটি হতাশাজনক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ধরা যাক, কোনও গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে জয় পেলেই ফাইনালে ওঠা যাবে, অথচ আলো সমস্যার জন্য খেলা বন্ধ হয়ে গেল, সেটা কেউই চাইবে না। তাই এমন নিয়ম পরীক্ষার মধ্যে রাখাটা যুক্তিযুক্ত।’
ভারতের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ যেমন বড়, তেমনই সুযোগও কম নয়। ব্যাটিং অর্ডারে স্থিরতা আনা, বোলিং বিভাগে সঠিক ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, এই তিনটি বিষয়ই নির্ধারণ করবে ভারতের ভবিষ্যৎ পথ। গম্ভীরের নেতৃত্বে নতুন যুগের শুরুতে দল যে নিজেদের পুনর্গঠন করছে, তা তাঁর বক্তব্যেই প্রতিফলিত। আফগানিস্তান টেস্ট যদিও সরাসরি চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়, তবুও এই ম্যাচে পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য এটি নিজেদের প্রমাণ করার বড় সুযোগ। গম্ভীরের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে পরিষ্কার, দল গঠনের ক্ষেত্রে ধৈর্য এবং ধারাবাহিকতার উপরই জোর দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী সিরিজগুলিতে ভারতের ফলাফল কেমন হয়, তার উপর নির্ভর করবে ফাইনালের পথ। তবে কোচের বক্তব্যে যে আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে, তা দলের ভেতরের মানসিকতারই প্রতিফলন। এখন দেখার, মাঠে সেই বিশ্বাস কতটা বাস্তব রূপ পায়।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Gautam Gambhir record in finals | ফাইনাল মানেই জয়! ক্রিকেটার থেকে কোচ : বিশ্বকাপ ও আইপিএলের ইতিহাসে অনন্য রেকর্ড গৌতম গম্ভীরের



