সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ উত্তর ২৪ পরগনা : সুন্দরবন সংলগ্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandarপ্রকল্পের অধীনে বুধবার হিঙ্গলগঞ্জ (Hingalganj) ব্লকে প্রায় ৫ হাজার মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দ্রুততা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। সরকারি বিশেষ সূত্রে খবর, হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকে মোট ৫১০০ জন মহিলা উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট অর্থ জমা হয়েছে। প্রত্যেক উপভোক্তার জন্য প্রায় ৩ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে বলে জানা যায়। প্রকল্পের আওতায় সরাসরি ব্যাঙ্ক ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা না থাকে। প্রশাসনের এক আধিকারিক জানান, ‘ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।’ এই উপলক্ষ্যে হিঙ্গলগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক আধিকারিকরা। অনুষ্ঠানে হিঙ্গলগঞ্জের বিধায়ক রেখা পাত্র (Rekha Patra) প্রতীকীভাবে কয়েকজন উপভোক্তার হাতে চেক তুলে দেন। তিনি বলেন, ‘এটি শুধুমাত্র একটি প্রতীকী উদ্যোগ। প্রকৃত অর্থ ইতিমধ্যেই সকল উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়েছে।’
বিধায়ক রেখা পাত্র (Rekha Patra) তাঁর বক্তব্যে জানান, ‘অন্নপূর্ণা যোজনায় যাঁরা নাম নথিভুক্ত করেছেন, তাঁদের ধাপে ধাপে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নতুন সরকার গঠনের অল্প সময়ের মধ্যেই আমরা মানুষের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করেছি।’ তাঁর কথায়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই মূল লক্ষ্য। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (Annapurna Bhandar) প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারগুলির মহিলাদের সহায়তা করা এবং খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা। বিশেষ করে সুন্দরবনের মতো অঞ্চলে, যেখানে বহু পরিবার এখনও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, সেখানে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
হিঙ্গলগঞ্জের বিডিও দেবদাস গাঙ্গুলি (Debdas Ganguly) জানান, ‘আমাদের ব্লকে মোট ৫১০০ জন উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কোনও মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরা ডিরেক্ট ট্রান্সফার পদ্ধতি ব্যবহার করছি।’ এদিকে বসিরহাট (Basirhat) মহকুমাতেও এই প্রকল্পের সূচনা হয়েছে। বসিরহাট টাউন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মহকুমাশাসক জেসলিন কৌর (Jeslin Kaur), পুলিশ সুপার অলকনন্দা ভাওয়াল (Alokananda Bhowal) সহ একাধিক প্রশাসনিক আধিকারিক। সেখানে প্রতীকীভাবে ১০০ জন উপভোক্তার হাতে প্রকল্পের শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রশাসনের দাবি, বসিরহাট পুর এলাকায় প্রায় ২৭০০ জন উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির অর্থ ইতিমধ্যেই জমা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় আরও বহু মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে জানানো হয়েছে, পর্যায়ক্রমে আরও উপভোক্তাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই উদ্যোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বহু উপভোক্তা জানিয়েছেন, সরাসরি ব্যাঙ্কে টাকা পাওয়ায় তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। একজন উপভোক্তার কথায়, ‘এই অর্থ আমাদের সংসারের খরচ সামলাতে সাহায্য করবে।’
সুন্দরবনের মতো ভৌগোলিকভাবে চ্যালেঞ্জপূর্ণ অঞ্চলে সরকারি প্রকল্প কার্যকর করা সবসময়ই কঠিন। নদী, দ্বীপ ও দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অনেক সময় পরিষেবা পৌঁছে দিতে সমস্যা হয়। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থা প্রশাসনের কাজকে অনেকটাই সহজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে এই প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা, দুই দিকেই জোর দিয়ে প্রকল্পটি চালানো হবে। বিশেষ করে মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হিঙ্গলগঞ্জ ও বসিরহাটে প্রকল্পের সূচনা হলেও, আগামী দিনে রাজ্যের অন্যান্য জেলাতেও এই প্রকল্প সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রশাসনের মতে, ধাপে ধাপে রাজ্যের বৃহত্তর অংশকে এই উদ্যোগের আওতায় আনা হবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Annapurna Yojana form guide | ১২ পাতার অন্নপূর্ণা ফর্মে দিশেহারা? কোথায় মিলবে সাহায্য জানাল প্রশাসন, কীভাবে সহজে আবেদন করবেন জেনে নিন




