Rachna Banerjee allegation, RG Kar case | আর জি কর কাণ্ডে নাম প্রকাশের অভিযোগ, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল (RG Kar Medical College and Hospital) সংক্রান্ত নির্যাতনকাণ্ডকে ঘিরে ফের সামনে এল এক নতুন আইনি বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ এবং পরিচিত অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় (Rachna Banerjee) -এর বিরুদ্ধে কলকাতার চারু মার্কেট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, তিনি সামাজিক মাধ্যমে নির্যাতিতার পরিচয় প্রকাশ করেছিলেন, যা আইনত অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। অভিযোগকারী হিসেবে সামনে এসেছেন এক আইনজীবী। তাঁর দাবি, ঘটনাটি নতুন নয়, বরং ২০২৪ সালেই তিনি বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সেই সময় কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ। বর্তমানে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর পর আবার এই বিষয়টি সামনে এনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, অভিযোগে বলা হয়েছে, আর জি কর কাণ্ড সামনে আসার পর রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ফেসবুক (Facebook) প্রোফাইলে একটি পোস্ট করেন। সেই পোস্টে একাধিকবার নির্যাতিতার নাম উল্লেখ করা হয়েছিল বলে দাবি। অভিযোগকারীর কথায়, ‘যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের মামলায় ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা দণ্ডনীয় অপরাধ। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাঁর এই বিষয়টি জানা উচিত ছিল।’ এই অভিযোগ ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। আইনজীবী জানান, ‘২০২৪ সালে আমি কলকাতা পুলিশের তৎকালীন কমিশনারের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু সেই সময় কোনও তদন্ত হয়নি। এখন আবার সেই বিষয়টি সামনে আনছি।’ তাঁর দাবি, সেই পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও এখনও বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ঘুরে বেড়াচ্ছে, ফলে বিষয়টি এখনও প্রাসঙ্গিক।

তিনি আরও বলেন, ‘একজন সাংসদ হিসেবে তাঁর দায়িত্ব রয়েছে আইন মেনে চলার। কিন্তু সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা উচিত।’ অভিযোগকারীর এই বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, তিনি বিষয়টিকে শুধুমাত্র অতীতের ঘটনা হিসেবে দেখছেন না, বরং বর্তমানেও এর প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন। উল্লেখ্য, চারু মার্কেট থানার পুলিশ অভিযোগটি গ্রহণ করেছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এফআইআর দায়ের হয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তদন্তের প্রাথমিক ধাপ শুরু হয়েছে কি না, তাও স্পষ্ট নয়। তবে বিষয়টি নিয়ে নজর রাখছে প্রশাসন। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনা। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)-এর খারাপ ফলের পর দলের একাধিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিকে ঘিরে নানা অভিযোগ সামনে আসছে। সেই প্রেক্ষাপটে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

উল্লেখ্য, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় শুধু অভিনেত্রী নন, তিনি বর্তমান সময়ের এক জন পরিচিত সাংসদও। এবারের নির্বাচনে তিনি দলের অন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন। বিভিন্ন জনসভা, প্রচার কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতি নজর কাড়ে। বিশেষ করে চুঁচুড়া কেন্দ্রে দেবাংশু ভট্টাচার্য (Debangshu Bhattacharya)-এর সমর্থনে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রচনা জানিয়েছিলেন, ‘জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে আমি আমার দায়িত্ব পালন করব।’ কিন্তু এই নতুন অভিযোগ তাঁর জনজীবনে নতুন প্রশ্ন তুলে দিল। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে করা পোস্টের দায় কতটা বহন করতে হয় একজন জনপ্রতিনিধিকে—এই বিষয়টি আবার আলোচনায় উঠে এসেছে। প্রসঙ্গত, আইন অনুযায়ী, যৌন নির্যাতনের মামলায় ভুক্তভোগীর পরিচয় প্রকাশ করা নিষিদ্ধ। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ধারায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ফলে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ কতটা সত্য এবং তার ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা এখন দেখার।

এই ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়াতেও শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। একাংশের দাবি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, পুরনো ঘটনা সামনে এনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা হচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে প্রশাসনের পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে পরবর্তী পরিস্থিতি। এখন নজর রয়েছে পুলিশের দিকে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় কি না, এবং রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেন কি না, সেই দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজনৈতিক ও সাধারণ মহল।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rachana Banerjee : হুগলিতে লকেট চট্টোপাধ্যায় পরাজিত, জিতলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন