TMC Opposition Status, Rathindranath Basu Speaker | বিধানসভায় তৃণমূলের মর্যাদা ও ঘর বরাদ্দ নিয়ে জটিলতা, স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুর বার্তায় বাড়ল জল্পনা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল বিধানসভায় বিরোধী দলের মর্যাদা ও ঘর বরাদ্দের প্রশ্ন। তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) -এর বিধায়কদের জন্য নির্দিষ্ট ঘর কবে খোলা হবে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের স্বীকৃতি নিয়ে জট কবে কাটবে, এই প্রশ্নের মুখে নিজের অবস্থান তুলে ধরলেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু (Rathindranath Basu)। মঙ্গলবার নজরুলজয়ন্তী উপলক্ষ্যে বিধানসভায় উপস্থিত থাকার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দেন। রাজ্যের সাম্প্রতিক নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি (Bharatiya Janata Party) -এর বিপুল জয় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে আসার পর থেকেই বিধানসভায় তাদের অধিকার ও পরিকাঠামো নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৮০ জন বিধায়ক নিয়ে তৃণমূল বিরোধী শিবিরে বসেছে, কিন্তু এখনও পর্যন্ত বিধানসভার ভিতরে তাদের জন্য নির্দিষ্ট ঘর বরাদ্দ হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন : PM Matsya Sampada Yojana, fish farming subsidy India | মাছ চাষে ভর্তুকি ও ঋণ সুবিধা, প্রধানমন্ত্রী মৎস্য সম্পদ যোজনায় বড় সুযোগ

এই পরিস্থিতিতে স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসু জানান, ‘ওদের একটি চিঠি আমাদের কাছে এসেছে। আমাদের মনে হয়েছে, সেই চিঠিতে আরও কিছু তথ্য থাকা প্রয়োজন। সেই কারণেই আমরা জানিয়েছিলাম, কিছু বিষয় সংযোজন করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পরবর্তীতে সংশোধন করে আবার চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং আমরা তা গ্রহণ করেছি।’ তবে এখানেই শেষ নয়। চিঠি পাওয়া গেলেও প্রক্রিয়া এখনও সম্পূর্ণ হয়নি বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পিকার। তাঁর কথায়, ‘আমাদের আগে দেখতে হবে যে, যেসব ঘর বরাদ্দ করা হবে, সেগুলির বর্তমান অবস্থা কী। বিধায়কদের কাজের পরিবেশ ঠিক রাখা আমাদের দায়িত্ব। আমরা চাই, ঘরগুলি গুছিয়ে, উপযুক্তভাবে প্রস্তুত করে তবেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হোক।’

এই বক্তব্যে একদিকে যেমন প্রশাসনিক সতর্কতার ছবি ফুটে উঠেছে, তেমনই অন্যদিকে উঠে এসেছে অতীত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ। রথীন্দ্রনাথ জানান, ‘আমাদের সময় যে ঘরগুলি দেওয়া হয়েছিল, সেগুলির অবস্থা ভাল ছিল না। ফলে কাজের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। আমরা চাই না, একই অভিজ্ঞতা অন্যদের ক্ষেত্রেও হোক।’ রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, এতে বোঝা যাচ্ছে যে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নয়, পরিকাঠামোগত প্রস্তুতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও এর ফলে কিছুটা সময় লাগতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

অন্যদিকে, এই গোটা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যে প্রশাসনিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল, তারও কিছুটা আভাস পাওয়া গেছে। বিধানসভার সচিবালয়ের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছিল, তৃণমূলের পাঠানো প্রথম চিঠিতে স্বাক্ষর করেছিলেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। কিন্তু তিনি পরিষদীয় দলের সদস্য না হওয়ায় সেই চিঠি গ্রহণযোগ্য নয় বলে মত দেওয়া হয়েছিল। পরে পরিষদীয় দলের সদস্যদের স্বাক্ষর সহ নতুন চিঠি পাঠানো হয়। সূত্রের খবর, সেই নতুন চিঠিতেও কিছু ত্রুটি ছিল বলে মনে করা হয়েছে। তবুও বিষয়টি সরাসরি নাকচ না করে স্পিকার নিজের পর্যবেক্ষণে রেখেছেন, যা এই পুরো প্রক্রিয়াকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

এদিকে, নজরুলজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay)। যদিও এই প্রসঙ্গে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর নীরবতা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা ঘুরছে। আগামী ১৮ জুন থেকে বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। তার আগে বিরোধী দলের মর্যাদা এবং ঘর বরাদ্দের বিষয়টি মিটে যেতে পারে বলে প্রশাসনের একাংশ মনে করছে। কারণ, অধিবেশন শুরু হলে বিরোধী দলের সক্রিয় ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে এবং সেই সময় এই ধরনের অনিশ্চয়তা থাকা প্রশাসনিক দিক থেকে অস্বস্তিকর হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে স্পিকারের বক্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি একদিকে প্রক্রিয়াগত নিয়মের কথা বলছেন, অন্যদিকে বিধায়কদের কাজের পরিবেশ নিয়েও গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। সামগ্রিকভাবে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসকে বিরোধী দলের পূর্ণ মর্যাদা দেওয়ার পথে কিছু প্রশাসনিক ধাপ এখনও বাকি রয়েছে। চিঠি আদানপ্রদান, নথিপত্র যাচাই, ঘরের অবস্থা পর্যালোচনা, সব মিলিয়ে একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগোচ্ছে বিষয়টি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই এই জট কাটতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly, Sovandeb Chattopadhyay | বিরোধী দলনেতার মর্যাদা না পেয়ে আরটিআই করলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন