প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ মুম্বাই: একসময় যাঁর উপস্থিতি মানেই ছিল বক্স অফিসে সাফল্যের নিশ্চয়তা, সেই মীনাক্ষী শেষাদ্রি (Meenakshi Seshadri) আবার ফিরেছেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। প্রায় তিন দশক আগে বলিউড ছেড়ে আমেরিকায় স্থায়ী হওয়া এই অভিনেত্রী ফের মুম্বইয়ে (Mumbai) এসে কাজের সন্ধান করছেন। তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে ইতিমধ্যেই সিনেমাপ্রেমী মহলে শুরু হয়েছে নতুন করে আলোচনা। আশির দশকের জনপ্রিয় নায়িকা হিসেবে যিনি নিজস্ব জায়গা তৈরি করেছিলেন, তিনি এখন অভিনয়ের জগতে আবার সক্রিয় হতে চান, এই খবরে আগ্রহ বাড়ছে অনুরাগীদের মধ্যে। বলিউডে মীনাক্ষীর উত্থান ছিল অত্যন্ত দ্রুত। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি ছিলেন অন্যতম ব্যস্ত অভিনেত্রী। সেই সময়ের বহু সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছিলেন। পারিশ্রমিকের দিক থেকেও তিনি সমসাময়িক অনেক অভিনেত্রীর থেকে এগিয়ে ছিলেন। তাঁর অভিনয় দক্ষতা, নাচের পারদর্শিতা এবং পর্দায় উপস্থিতি, তিনি হয়ে উঠেছিলেন প্রথম সারির তারকা।

‘ঘায়েল’ ছবির সময় পরিচালক রাজকুমার সন্তোষী (Rajkumar Santoshi) তাঁর অভিনয়ে মুগ্ধ হয়ে ব্যক্তিগত অনুভূতি প্রকাশ করেছিলেন বলেও শোনা যায়। যদিও মীনাক্ষী সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা জল্পনাও ছিল তাঁকে ঘিরে। সংগীতশিল্পী কুমার শানুর (Kumar Sanu) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়েও একসময় চর্চা হয়েছিল। এমনকী সেই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে কুমার শানুর দাম্পত্য জীবনেও প্রভাব পড়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। তবে এই সব বিতর্কের মধ্যেও নিজের কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রেখেছিলেন অভিনেত্রী।নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ‘ঘাতক’ ছবির সাফল্যের পর আচমকাই অভিনয় জগৎ থেকে দূরে সরে যান মীনাক্ষী। ১৯৯৫ সালে হরিশ মায়সুরুকে (Harish Mysore) বিয়ে করে তিনি আমেরিকায় চলে যান এবং সেখানেই দীর্ঘ সময় কাটান। পরিবার এবং ব্যক্তিগত জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে তিনি বিনোদন জগতের বাইরে থাকেন। ফলে ধীরে ধীরে বলিউড থেকেও তাঁর যোগাযোগ কমে যায়।

দীর্ঘ ৩০ বছর পর আবার মুম্বাইয়ে ফিরে এসে কাজ খোঁজার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মীনাক্ষী। তবে তাঁর এই ফিরে আসার কারণ আর্থিক সঙ্কট নয়। বরং তিনি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চান, যা তাঁর কাছে অর্থপূর্ণ এবং চ্যালেঞ্জিং। তাঁর কথায়, ‘আমি এমন কাজ করতে চাই, যা আমাকে আনন্দ দেবে এবং একজন অভিনেতা হিসেবে নতুন কিছু শেখার সুযোগ এনে দেবে।’ তিনি এটাও জানিয়েছেন যে, প্রধান চরিত্র না হলেও সমস্যা নেই, তবে চরিত্রটি যেন গুরুত্ববহ হয়। বর্তমান সময়ে সমাজমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে কাজের সুযোগ খোঁজার প্রবণতা বেড়েছে। কিছু বছর আগে অভিনেত্রী নীনা গুপ্ত (Neena Gupta) প্রকাশ্যে কাজের আবেদন জানিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন। সেই পদক্ষেপের পরেই তিনি ‘বধাই হো’-এর মতো ছবিতে সুযোগ পান এবং নতুন করে নিজের কেরিয়ার গড়ে তোলেন। অনেকেই মনে করছেন, মীনাক্ষীর এই পদক্ষেপও সেই পথেই হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে।মীনাক্ষী জানিয়েছেন, তিনি কোনও ট্যালেন্ট এজেন্সির সঙ্গে যুক্ত নন। নিজের সমাজমাধ্যমের মাধ্যমেই তিনি যোগাযোগ রাখছেন এবং কাজের সুযোগ খুঁজছেন। তাঁর এই সরল উদ্যোগ অনুরাগীদের কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, তাঁর মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীর জন্য বলিউডে এখনও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

ইতিমধ্যেই তাঁর পুরনো সহ-অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ (Jackie Shroff) তাঁর সঙ্গে আবার কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এই প্রতিক্রিয়া ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইন্ডাস্ট্রির ভেতরেও তাঁর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে তাঁকে নতুন কোনও প্রকল্পে দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান সময়ে বলিউডে কনটেন্ট-ভিত্তিক সিনেমার সংখ্যা বেড়েছে, যেখানে অভিজ্ঞ অভিনেতাদের জন্য নানা ধরনের চরিত্র তৈরি হচ্ছে। সেই জায়গায় মীনাক্ষীর মতো অভিনেত্রী নতুনভাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন বলেই মনে করা হচ্ছে। তাঁর অভিজ্ঞতা এবং অভিনয়ের দক্ষতা তাঁকে আবার দর্শকের সামনে তুলে ধরতে পারে।
দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে শুরু করা সহজ নয়, কিন্তু মীনাক্ষীর প্রত্যাবর্তন সেই চ্যালেঞ্জই সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর এই সিদ্ধান্ত শুধু ব্যক্তিগত নয়, যা বলিউডে এক নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দিতে পারে। এখন দেখার, আগামী দিনে তিনি কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেন এবং দর্শক তাঁকে কীভাবে গ্রহণ করেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Uttam Kumar Suchitra Sen last movie | উত্তম-সুচিত্রার শেষ ছবি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল, আর তার নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল মহানায়িকা সুচিত্রা সেনের ডেট-সংকট ও সময়ের নিষ্ঠুর বাস্তবতা



