Assam Uniform Civil Code bill, live-in registration law India, Himanta Biswa Sarma UCC Assam | একত্রবাসে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করতে উদ্যোগ, অসমে অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিল ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ গুয়াহাটি: ব্যক্তিগত আইন সংস্কারের পথে আরও এক ধাপ এগোল অসম (Assam)। রাজ্যের বিজেপি (BJP) সরকার অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (Uniform Civil Code) -এর বিল বিধানসভায় পেশ করেছে, যেখানে একত্রবাস বা লিভ-ইন সম্পর্কের জন্য বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাব সামনে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। কংগ্রেস (Congress), তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) এবং রাইজোর দল (Raijor Dal) -সহ বিরোধী শক্তিগুলি বিলটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং বিস্তারিত আলোচনার দাবি জানিয়েছে। সোমবার অসম বিধানসভায় এই বিলটি পেশ করেন পরিষদীয় মন্ত্রী অতুল বোরা (Atul Bora), মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা -এর (Himanta Biswa Sarma) পক্ষে। বিল অনুযায়ী, রাজ্যে বসবাসকারী যুগল যারা একত্রবাসে থাকবেন, তাঁদের সম্পর্ককে আইনত স্বীকৃতি দিতে হলে তা নথিভুক্ত করা বাধ্যতামূলক হবে। শুধু তাই নয়, বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ এবং উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলিও এই আইনের আওতায় আনা হয়েছে, যাতে ব্যক্তিগত আইনগুলির মধ্যে একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা যায়।

আরও পড়ুন : Narendra Modi Bengal speech | বেঙ্গালুরু থেকে বাংলার জয়ের গল্প শোনালেন নরেন্দ্র মোদী : ‘৩ থেকে ২০০+ বিধায়ক’, বিজেপির উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা

বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব। পাশাপাশি বিবাহের ক্ষেত্রে বয়সসীমাও নির্দিষ্ট করা হয়েছে, পুরুষদের জন্য ২১ বছর এবং মহিলাদের জন্য ১৮ বছর। সরকারের বক্তব্য, এই আইন প্রণয়ন হলে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট নীতি কার্যকর হবে এবং আইনি জটিলতা অনেকটাই কমবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন, ‘এই বিলের মাধ্যমে একত্রবাসের সম্পর্ক প্রথম বার আইনি স্বীকৃতি পেতে চলেছে অসমে।’ তাঁর দাবি, বাধ্যতামূলক রেজিস্ট্রেশনের ফলে সম্পর্কের দুই পক্ষের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে এই ধরনের সম্পর্ক থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানের অধিকারও আইনগতভাবে স্বীকৃতি পাবে। তিনি আরও জানান, এই আইন প্রণয়নের উদ্দেশ্য হল বিবাহ ও পারিবারিক বিষয়গুলিকে একটি সুসংহত কাঠামোর মধ্যে আনা।

এই বিল নিয়ে বিরোধীদের আপত্তি রয়েছে। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাইজোর দলের বিধায়করা দাবি করেছেন, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিল পেশের আগে সমস্ত পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল। তাঁদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত জীবনের নানা বিষয়কে আইন দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। এক বিরোধী নেতা বলেন, ‘এই ধরনের বিল সমাজে প্রভাব ফেলতে পারে, তাই তা নিয়ে বৃহত্তর পরিসরে আলোচনা জরুরি।’ বিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, এটি অসমে বসবাসকারী তফসিলি জনজাতির ক্ষেত্রে কার্যকর হবে না। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ (Amit Shah) সম্প্রতি জানিয়েছেন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কোনও ভাবেই আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতি বা রীতিনীতির উপর প্রভাব ফেলবে না। তাঁর কথায়, ‘এই আইন আদিবাসীদের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না এবং তাঁদের স্বতন্ত্র পরিচয় অক্ষুণ্ণ থাকবে।’ একইসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন যে এই বিষয়টি নিয়ে ভুল ধারণা ছড়ানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অসমে এই বিল পেশের আগে দেশের অন্যান্য রাজ্যেও অভিন্ন দেওয়ানি বিধি নিয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে উত্তরাখণ্ডে (Uttarakhand) এই আইন কার্যকর হয়। পরে গুজরাতেও (Gujarat) এই সংক্রান্ত বিল পাশ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় অসম এখন নতুন করে এই পথে এগোচ্ছে।

রাজনৈতিক সমীকরণের দিক থেকেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। অসম বিধানসভায় মোট ১২৬টি আসনের মধ্যে বিজেপির রয়েছে ৮২ জন বিধায়ক। কংগ্রেসের রয়েছে ১৯ জন প্রতিনিধি। তৃণমূল কংগ্রেসের একজন এবং রাইজোর দলের দু’জন বিধায়ক রয়েছেন। এই সংখ্যার ভিত্তিতে বিলটি পাশ হওয়া নিয়ে খুব বেশি সংশয় নেই বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিরোধীদের আপত্তি এবং আলোচনা দাবি ভবিষ্যতে এই ইস্যুকে আরও রাজনৈতিক রূপ দিতে পারে। আইনটি কার্যকর হলে একত্রবাসে থাকা যুগলদের জন্য নতুন নিয়ম চালু হবে, যা তাঁদের সম্পর্ককে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনবে। অনেকের মতে, এতে সম্পর্কের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং আইনি সুরক্ষা পাওয়া সহজ হবে। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্নও সামনে আসছে, যা নিয়ে বিতর্ক বাড়তে পারে। অসমের এই পদক্ষেপ জাতীয় স্তরেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অভিন্ন দেওয়ানি বিধি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার বিষয়। বিভিন্ন রাজ্যে এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় স্তরে বৃহত্তর সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথও প্রশস্ত হতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমানে নজর রয়েছে, এই বিল নিয়ে বিধানসভায় কী ধরনের আলোচনা হয় এবং তা পাশ হওয়ার পরে কীভাবে বাস্তবায়ন করা হয়। একত্রবাসের মতো ব্যক্তিগত সম্পর্ককে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেটিও আগামী দিনে পর্যালোচনার বিষয় হয়ে উঠবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Mamata Banerjee election allegation | ‘২০ দিন মুখ বুজে সহ্য করেছি’ : ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নিশানায় শুভেন্দু অধিকারী

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন