সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দিল্লির রাজনৈতিক অন্দরে আচমকাই চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। সাম্প্রতিক মন্তব্যে দলীয় অস্বস্তি বাড়ানোর পর এবার তাঁর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) আকস্মিক সাক্ষাৎ ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। বঙ্গভবন (Banga Bhavan) প্রাঙ্গণে হওয়া এই সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতাকেই কেন্দ্র করে ‘গোপন বৈঠক’ তত্ত্ব ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক মহলে। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে নিজেই মুখ খুলে বিতর্ক থামানোর চেষ্টা করেছেন ঋতব্রত। দু’দিন আগেই দুর্নীতি প্রসঙ্গে নিজের দলের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘দুর্নীতি নিয়ে কথা না বলতে বলা হয়েছিল।’ এই মন্তব্যের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে চাপানউতোর শুরু হয়। পাশাপাশি আইপ্যাক (I-PAC) নিয়েও তাঁর মন্তব্য নজর কেড়েছিল। সেই আবহেই দিল্লিতে তাঁর উপস্থিতি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে দেখা হওয়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে।
ঘটনাচক্রে, ওই দিনই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (Narendra Modi) সঙ্গে বৈঠক নির্ধারিত ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। তার ঠিক আগে বঙ্গভবনে এই সাক্ষাৎ ঘটে। সূত্রের দাবি, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা সামনে আসতে শুরু করে। কেউ কেউ মনে করেন, এই সাক্ষাৎ কেবল সৌজন্য বিনিময় নয়, এর পিছনে অন্য কোনও সমীকরণ কাজ করছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) এই সমস্ত জল্পনাকে একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুরো ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সময়ের দিক থেকে খুবই সংক্ষিপ্ত। তাঁর কথায়, ‘আমি তখন নামছিলাম। হঠাৎ শুনলাম কেউ বলছেন এমএলএ সাহেব এখানে উঠেছেন। তাকিয়ে দেখি মুখ্যমন্ত্রী। উনি নমস্কার করলেন, আমিও নমস্কার করি।’ এই পর্যন্তই ছিল প্রথম মুহূর্তের বিবরণ। এরপর তিনি আরও বলেন, ‘আমি বললাম, আমার বাংলো ছেড়ে দিতে এসেছি। উনি বললেন, বিরোধী বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হচ্ছে, সেখানে যেন উপস্থিত থাকি। আমি বললাম খবর পেলে যাব।’ এই কথোপকথনের সময়সীমা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছেন, ‘পুরোটা ৪০ সেকেন্ডের বেশি নয়।’ এই সংক্ষিপ্ত সময়কেই কেন্দ্র করে যে এত বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন তিনি।
ঋতব্রতর কথায়, ‘অনেকেই ফোন করে জানতে চাইছেন আমি নাকি গোপনে বৈঠক করতে দিল্লি এসেছি। কিন্তু আমি কেন এসেছি, তার রেকর্ড পার্লামেন্টে রয়েছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘৪০ সেকেন্ডের আলাপচারিতাকে কেউ যদি অন্যভাবে দেখতে চান, সেটা তাঁদের বিষয়।’ তাঁর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও, তিনি নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরেননি। উল্লেখ্য যে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) -এর রাজনৈতিক যাত্রাপথ বহুবার শিরোনামে এসেছে। একসময় সিপিএম (CPM) থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে (Trinamool Congress) যোগদান করেছিলেন তিনি। তৎকালীন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)ব-এর প্রশংসায় বহুবার সরব হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তাঁকে ‘চৈতন্যদেবের উত্তরসূরি’ বলেও উল্লেখ করেছিলেন একাধিকবার। সেই প্রেক্ষিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর মন্তব্য ও অবস্থান নতুন করে রাজনৈতিক বিশ্লেষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই বিভিন্ন নেতা-মন্ত্রী নিজেদের অবস্থান নিয়ে সরব হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে ঋতব্রতর মন্তব্য এবং শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতের সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, শাসক ও বিরোধী দুই শিবিরেই এই ঘটনাকে ঘিরে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদিও কোনও পক্ষ থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে বড় কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থামেনি। দিল্লির এই ৪০ সেকেন্ডের সাক্ষাৎ এখন রাজ্য রাজনীতির আলোচনার অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সময়ে প্রতিটি ছোট ঘটনাই বড় ইঙ্গিত হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee) ও শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) এই সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ নিয়েও নানা ব্যাখ্যা সামনে আসা অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু সব বিতর্কের মাঝেই ঋতব্রত নিজের বক্তব্যে পরিষ্কার করেছেন, বিষয়টিকে অতিরঞ্জিত করার কোনও কারণ নেই। তাঁর মতে, ‘যা হয়েছে, তা খুবই সাধারণ একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ।’ যদিও রাজনৈতিক মহলে এই ব্যাখ্যা কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা সময়ই বলবে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Thailand best season to visit | থাইল্যান্ড ভ্রমণের সেরা সময়, কোথায় কখন গেলে স্বর্গের মতো লাগে এই দেশটি




