সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: বিদেশ সফর শেষ করে দেশে ফিরেই অ্যাকশন মোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর প্রশাসনিক কেন্দ্র ‘সেবা তীর্থ’ (Seva Teerth)-এ বসতে চলেছে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক। এই বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক অস্থিরতা, জ্বালানি বাজারের ওঠানামা থেকে শুরু করে সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা রদবদল, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনায় উঠে আসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। সরকারি সূত্রের দাবি, এই বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সমস্ত সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পূর্ণমন্ত্রীদের পাশাপাশি স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীদেরও ডাকা হয়েছে। এর ফলে বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন রাজ্যের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে আলাদা করে কথাবার্তার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিদেশ সফরের পরপরই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বেশ অস্থির। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ায় (West Asia) চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক বাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় ভারতের অর্থনীতির উপর চাপ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক কেন্দ্রীয় সূত্রের কথায়, ‘বিশ্ব পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, তাই সব দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ এই প্রেক্ষাপটে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার খুঁটিনাটি পর্যালোচনা করা হতে পারে। জ্বালানি খরচ, আমদানি-রপ্তানি এবং মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। কেন্দ্র সরকার আগাম প্রস্তুতি নিতে চাইছে বলেই মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে বেশি চর্চা চলছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে। জল্পনা উঠেছে, একাধিক নতুন মুখকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং বিভিন্ন রাজ্যে সাংগঠনিক পরিস্থিতি বিচার করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। একজন শাসকদলীয় নেতার কথায়, ‘সময় অনুযায়ী দল এবং সরকারে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক বিষয়।’
পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) রাজনীতিও এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই আবহেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র দিল্লি সফর নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে। জানা গিয়েছে, তিনিও রাজধানীতে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নিতে পারেন। যদিও তাঁর সফরের নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে সরকারি স্তরে কিছু জানানো হয়নি, তবুও রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, রাজ্যের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়েই আলোচনা হতে পারে।
দিল্লির বৈঠক ঘিরে নজর এখন রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও। কেন্দ্রীয় সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে চলেছে, মন্ত্রিসভায় কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে শিগগিরই। বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে আন্তর্জাতিক চাপ, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর এই বৈঠক সেই দিক থেকে আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা নিতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi | পশ্চিম এশিয়া পরিস্থিতি : ‘অত্যন্ত উদ্বেগে’ নতুন দিল্লি, শান্তি ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগে তৎপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী




