Media restriction officials India, Suvendu Adhikari policy WB | নবান্নের কড়া নির্দেশ: অনুমতি ছাড়া মিডিয়ায় মন্তব্য নিষিদ্ধ সরকারি কর্মচারীদের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: প্রশাসনিক শৃঙ্খলা জোরদার করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর নেতৃত্বে নবান্ন (Nabanna) থেকে জারি হল এক বিস্তৃত নির্দেশিকা, যেখানে সরকারি আধিকারিক ও কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে মন্তব্য করা, তথ্য প্রকাশ বা বিভিন্ন মিডিয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের উপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এই নির্দেশিকা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য প্রশাসনের ভিতরে ও বাইরে তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। মুখ্যসচিব মনোজ আগারওয়াল (Manoj Agrawal) -এর স্বাক্ষরিত এই সার্কুলার ইতিমধ্যেই সমস্ত দফতর, কমিশনারেট, জেলা প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশে বলা হয়েছে, দ্রুত এই নির্দেশিকা অধীনস্থ প্রতিটি স্তরে পৌঁছে দিতে হবে এবং তা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য বাইরে চলে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের ঘটনা সামনে এসেছে, সেই কারণেই এই পদক্ষেপ।’

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari CM: বাংলার নব মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী | ঐতিহাসিক দিন

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আইএএস (Indian Administrative Service), ডব্লিউবিসিএস (West Bengal Civil Service), ডব্লিউবিপিএস (West Bengal Police Service) -সহ রাজ্যের সমস্ত স্তরের সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রেই এই নির্দেশিকা প্রযোজ্য হবে। শুধু সরকারি কর্মচারীই নয়, সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পুরসভা, পুরনিগম, বোর্ড এবং স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের উপরও এই বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনও কর্মচারী কোনও সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য রাখতে পারবেন না বা কোনও মিডিয়া প্রোগ্রামে অংশ নিতে পারবেন না।’ এমনকী বেসরকারি বা স্পনসরড অনুষ্ঠানেও যোগদানের আগে সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে সরকারি কর্মচারীদের জনসমক্ষে উপস্থিতি এখন থেকে আরও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আসছে।

শুধু মিডিয়ায় উপস্থিতি নয়, তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সরকারি নথি, প্রশাসনিক তথ্য বা কোনও ধরনের অভ্যন্তরীণ কাগজপত্র সংবাদমাধ্যম বা বাইরের কারও কাছে সরবরাহ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ বলে নির্দেশে জানানো হয়েছে। কোনও কর্মচারী যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এমন কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকেন, তা হলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। এছাড়াও সংবাদপত্র, সাময়িকী বা অন্য কোনও প্রকাশনায় লেখালিখির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম জারি হয়েছে। সরকারের অনুমতি ছাড়া কোনও সরকারি কর্মচারী প্রবন্ধ লিখতে পারবেন না বা কোনও পত্রিকা সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন না। রেডিও, টেলিভিশন বা অন্য সম্প্রচার মাধ্যমেও বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

নির্দেশিকার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সরকারি নীতি বা সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে মত প্রকাশের সীমাবদ্ধতা। বলা হয়েছে, কোনও কর্মচারী এমন মন্তব্য করতে পারবেন না, যা কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের নীতি সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে এমন কোনও বক্তব্য বা লেখা, যা ভারতের অন্য দেশের সঙ্গে সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিকেও শাস্তিযোগ্য হিসেবে ধরা হবে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, এই নির্দেশিকার ফলে সরকারি কর্মচারীদের জনসমক্ষে মত প্রকাশের ক্ষেত্র অনেকটাই সীমিত হয়ে গেল। আগে ব্যক্তিগত মতামত বা অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে কথা বলতেন, এখন সেই সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে। অন্যদিকে সরকারের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানানো হয়েছে, ‘সরকারি তথ্যের সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য।’

নবান্ন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই নির্দেশিকা বাস্তবায়নের উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে। কোনও কর্মচারী নিয়ম ভঙ্গ করলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হতে পারে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলে সরকারি স্তরে এই নির্দেশিকার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বলেই মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলেও এই পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। একাংশের মতে, প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর জন্য এই ধরনের নির্দেশিকা জরুরি ছিল। অন্যদিকে কেউ কেউ মনে করছেন, এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের স্বাধীন মত প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হতে পারে। তবে সরকার এই বিতর্কের মধ্যে না গিয়ে শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সুসংহত করতে এবং তথ্যের অপব্যবহার রুখতে যে সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, এই নির্দেশিকা তারই প্রতিফলন। এখন দেখার, বাস্তব ক্ষেত্রে এই নিয়ম কতটা কঠোরভাবে কার্যকর হয় এবং প্রশাসনের কাজের ধরণে কী ধরনের পরিবর্তন আনে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন :

নবান্ন নির্দেশিকা, সরকারি কর্মচারী নিয়ম, মিডিয়া মন্তব্য নিষেধ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার, শুভেন্দু অধিকারী, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা,

Nabanna Circular, West Bengal Government Rules, Media Restriction Officials, Suvendu Adhikari Policy, Government Employee Guidelines India,
#নবান্ন, #সরকারি_নির্দেশিকা, #মিডিয়া_নিয়ন্ত্রণ, #পশ্চিমবঙ্গ, #প্রশাসন,
Nabanna media rules, West Bengal govt employee guideline, media restriction officials India, Suvendu Adhikari policy WB,

Sasraya News
Author: Sasraya News