West Bengal Government, Suvendu Adhikari | সরকারি কেনাকাটায় নতুন নিয়ম, সিভিসি নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করে কড়া বার্তা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অতীতের বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর নেতৃত্বে রাজ্য প্রশাসন এবার সরকারি কেনাকাটার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশন বা সিভিসি (Central Vigilance Commission) -এর নির্দেশিকা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থ দফতরের জারি করা সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এখন থেকে রাজ্যের সমস্ত দফতর, সংস্থা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে ক্রয় প্রক্রিয়ায় এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পণ্য ক্রয়, পরিষেবা গ্রহণ এবং বিভিন্ন প্রকল্পের বরাত দেওয়ার ক্ষেত্রে এত দিন রাজ্যের নিজস্ব আর্থিক বিধি অনুসরণ করা হত। তবে অতীতে একাধিক ক্ষেত্রে সেই প্রক্রিয়াকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছিল। বিশেষ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া, বরাত বণ্টন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে নানা অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই এবার কেন্দ্রীয় স্তরের নিয়মকে অন্তর্ভুক্ত করার পথে হাঁটল রাজ্য সরকার।

আরও পড়ুন : Suvendu Adhikari, Election 2026 BJP Claim | শান্ত থেকে শক্ত বার্তা, প্রথম দফার ভোটেই বিজেপির সাফল্যের দাবি শুভেন্দুর

নবান্নের এক আধিকারিক জানান, ‘সরকারি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী এবং নিরপেক্ষ করতে এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্দেশিকা কার্যকর হলে প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি বাড়বে।’ প্রশাসনের মতে, এই নতুন নিয়ম চালু হওয়ার ফলে সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হবে, যা ভবিষ্যতে কোনও ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের সুযোগ কমিয়ে দেবে। অর্থ দফতরের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে অর্থসচিব প্রভাত মিশ্র (Prabhat Mishra) -এর স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, বিদ্যমান আর্থিক বিধির পাশাপাশি সিভিসির সমস্ত নির্দেশিকাও কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। শুধু নির্দেশ জারি করেই থেমে থাকেনি সরকার, তা অবিলম্বে কার্যকর করার জন্য সব দফতরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের এক কর্তা বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সরকারি কাজে শৃঙ্খলা আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে শুরু থেকেই একটি পরিষ্কার বার্তা দেওয়া যায়।’ তাঁর কথায়, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে এবং অভিযোগের সংখ্যা কমাতে সহায়ক হবে। রাজনৈতিক মহলেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একাংশের মতে, অতীতে সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি, কাটমানি এবং কমিশন সংক্রান্ত অভিযোগ বারবার সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের উপর আস্থা কমে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে এই ধরনের কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ প্রয়োজন ছিল। নতুন নিয়ম চালু হওয়ার ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ভিজিল্যান্স কমিশনের নির্দেশিকা মূলত স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। এই নির্দেশিকা অনুসরণ করলে প্রতিটি ধাপে নথিভুক্ত প্রক্রিয়া বজায় রাখতে হয়, যা ভবিষ্যতে অডিট বা তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ফলে সরকারি অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা বজায় রাখা সম্ভব হবে।

প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই সিদ্ধান্ত শুধু বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য নয়, দীর্ঘমেয়াদী একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করার লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আধুনিক ও নির্ভরযোগ্য করতে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুসরণ একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই নির্দেশিকা বাস্তবে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যায়। কারণ কাগজে-কলমে নিয়ম জারি করা যতটা সহজ, বাস্তবায়ন তার চেয়ে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। তবুও প্রশাসনের দাবি, কঠোর নজরদারি এবং নিয়মিত পর্যালোচনার মাধ্যমে এই ব্যবস্থাকে সফল করা সম্ভব। নতুন এই উদ্যোগ রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় কী পরিবর্তন আনে এবং সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলে, তা সময়ই বলবে। তবে শুরুতেই যে বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal border security, Suvendu Adhikari, BSF land transfer | পশ্চিমবঙ্গে সীমান্ত সুরক্ষায় বড় সিদ্ধান্ত, বিএসএফ-কে ২৭ কিমি জমি দিল রাজ্য

Sasraya News
Author: Sasraya News