Dhurandhar 2 news, Delhi High Court film case | ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে দিল্লি হাইকোর্টের কড়া নির্দেশ, জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে কেন্দ্রকে রিপোর্ট

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: মুক্তির আগেই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এল আসন্ন অ্যাকশন-থ্রিলার ছবি ‘ধুরন্ধর ২’ (Dhurandhar 2)। দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সংবেদনশীল অপারেশনাল তথ্য সিনেমার মাধ্যমে প্রকাশ্যে চলে আসতে পারে, এই অভিযোগ ঘিরে দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) কড়া অবস্থান নিয়েছে। একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে চলচ্চিত্র জগৎ, প্রশাসনিক মহল এবং প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেছেন সশস্ত্র সীমা বলের (Sashastra Seema Bal) একজন কনস্টেবল। তাঁর অভিযোগ, ছবিতে এমন কিছু দৃশ্য এবং বর্ণনা রয়েছে যেখানে সেনাবাহিনী, আধা-সামরিক বাহিনী এবং সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানের সূক্ষ্ম দিক তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর দাবি, ‘ছবিতে যে ভাবে অপারেশনাল কৌশল দেখানো হয়েছে, তা জনসমক্ষে এলে শত্রুপক্ষ তার অপব্যবহার করতে পারে।’ এই অভিযোগের ভিত্তিতেই আদালত বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে শুনানি শুরু করে। শুনানির সময় বিচারপতি কেন্দ্রের আইনজীবীর উদ্দেশ্যে বলেন, ‘অভিযোগগুলো যথেষ্ট গুরুতর। বিষয়টি পরীক্ষা করে আদালতকে জানাতে হবে।’ আদালত জানতে চেয়েছে, কী প্রক্রিয়ায় ছবিটি সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন পেয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নটি কতটা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে। আদালতের এই মন্তব্যের পরই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলির মধ্যে নড়াচড়া শুরু হয়েছে। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক (Ministry of Information and Broadcasting) এবং কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র শংসাপত্র বোর্ড (Central Board of Film Certification) -এর কাছে এই বিষয়ে রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা ছবির বিষয়বস্তু এবং দৃশ্যপট খুঁটিয়ে পর্যালোচনা করছেন। প্রয়োজন হলে ছবির কিছু অংশে পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও সূত্রের খবর।

আরও পড়ুন : Dhurandhar Review | ধুরন্ধর ধামাকা: অক্ষয় খান্না বনাম রণবীর সিং, কে বাজাল আসল পটকা?

আরও পড়ুন : Why Priyanka Chopra uses security | প্রিয়াঙ্কা চোপড়া কেন নিরাপত্তা বলয়ে থাকেন? ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে খোলামেলা স্বীকারোক্তি অভিনেত্রীর

‘ধুরন্ধর ২’ মূলত একটি অ্যাকশনধর্মী ছবি, যেখানে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সংঘটিত অভিযানের কাহিনি দেখানো হয়েছে। প্রথম পর্ব বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার পর দ্বিতীয় পর্বে নির্মাতারা আরও বড় পরিসরে গল্প বলার চেষ্টা করেছেন। প্রচারে দাবি করা হয়েছে, এতে বাস্তব ঘটনার ছায়া রয়েছে এবং আধুনিক যুদ্ধকৌশলের নানা দিক তুলে ধরা হয়েছে। তবে এই দাবিই এখন বিতর্কের মূল কেন্দ্র। মামলাকারীর বক্তব্য, ‘সীমান্ত নিরাপত্তা, নজরদারি ব্যবস্থা এবং গোপন অভিযানের কিছু পদ্ধতি ছবিতে এতটাই বিশদে দেখানো হয়েছে যে তা জনসমক্ষে থাকা উচিত নয়।’ তাঁর আশঙ্কা, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছবি মুক্তি পেলে এই তথ্য আন্তর্জাতিক মহলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। চলচ্চিত্র মহলের একাংশ অবশ্য এই অভিযোগ মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, সিনেমা একটি সৃজনশীল মাধ্যম এবং বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে গল্প নির্মাণ করা নতুন কিছু নয়। এক প্রযোজকের বক্তব্য, ‘এটি নিছক একটি বিনোদনমূলক ছবি। বাস্তবের সঙ্গে মিল থাকলেও কোনও সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।’ যদিও নির্মাতাদের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

অন্যদিকে প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তাদের একাংশ এই বিতর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁদের মতে, বর্তমান সময়ে তথ্যের দ্রুত বিস্তার বড় উদ্বেগের বিষয়। এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক বলেন, ‘যদি কোনও সিনেমায় বাস্তব অপারেশনের কৌশল বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁটিনাটি উঠে আসে, তা শত্রুপক্ষের হাতে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে উঠতে পারে।’ তাঁর মতে, এই ধরনের বিষয় নিয়ে নির্মাতাদের আরও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আদালতের এই নির্দেশ ভবিষ্যতে সিনেমা সেন্সর প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিশেষ করে যেসব ছবি প্রতিরক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা সংস্থার কাজকর্ম নিয়ে তৈরি হয়, সেগুলির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নজরদারি হতে পারে। আদালতের নির্দেশে কেন্দ্রীয় সরকার কী রিপোর্ট দেয়, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।

সূত্রের খবর, বর্তমানে কেন্দ্রীয় সরকার পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। সেন্সর বোর্ডের অনুমোদন প্রক্রিয়া, ছবির স্ক্রিপ্ট এবং দৃশ্যপট পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। আদালতে আগামী শুনানিতে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা পড়বে। এই পরিস্থিতিতে ‘ধুরন্ধর ২’-এর মুক্তি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদি আদালত মনে করে যে ছবির কিছু অংশ জাতীয় নিরাপত্তার পক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ, তাহলে কাটছাঁট বা নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে নির্মাতারা আশা করছেন, তাঁদের ছবিকে সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে বিচার করা হবে। প্রসঙ্গত, ডিজিটাল যুগে বিনোদন মাধ্যমের প্রভাব ক্রমশ বাড়ছে। সিনেমা, ওয়েব সিরিজ বা অন্যান্য কনটেন্টের মাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় নিরাপত্তা এবং সৃজনশীল স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘ধুরন্ধর ২’ বিতর্ক সেই প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Minakshi Mukherjee, DYFI | নতুন দায়িত্বে ধ্রুব, মুখপত্রে সরোজ: যুব সংগঠন থেকে বিদায় নিলেন মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন