সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতীয় ক্রিকেটে এক সময়ের নির্ভরযোগ্য পেসার মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) কী ধীরে ধীরে জাতীয় দলের বাইরে চলে যাচ্ছেন? আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে আসন্ন টেস্ট ও এক দিনের সিরিজ়ের জন্য দল ঘোষণার পর এই প্রশ্ন ফের ঘুরপাক খাচ্ছে ক্রিকেটমহলে। প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর (Ajit Agarkar) সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়ে দিয়েছেন, শামিকে নিয়ে নির্বাচনী বৈঠকে কোনও আলোচনা হয়নি। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দল ঘোষণার পর সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, শামি কি আর ভারতের টেস্ট পরিকল্পনায় নেই? উত্তরে আগরকর বলেন, ‘না, শামিকে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। আমাদের কাছে যে রিপোর্ট রয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, এই মুহূর্তে শামি পাঁচ দিনের ম্যাচ খেলার মতো শারীরিক অবস্থায় নেই।’ তিনি আরও জানান, ‘যদিও শামি প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খেলছেন, তবু যে তথ্য আমাদের কাছে এসেছে, তাতে ও এখন শুধুমাত্র টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে খেলার জন্য প্রস্তুত।’
এই মন্তব্য ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে বিস্ময় তৈরি হয়েছে। কারণ, বাংলার এই অভিজ্ঞ জোরে বোলার দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অন্যতম প্রধান অস্ত্র ছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এবং আইপিএল-এও (IPL) নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে নজর কেড়েছেন। লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants) -এর হয়ে খেলতে নেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বল হাতে সফল হয়েছেন তিনি। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এমন পারফরম্যান্সের পরও কেন তাঁকে জাতীয় দলে বিবেচনা করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। গত বছরের মার্চ মাসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে জাতীয় দলে আর সুযোগ পাননি শামি। সেই সময় থেকেই তাঁর ফিটনেস নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়। নির্বাচকদের তরফে বারবার বলা হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থাই মূল বাধা। যদিও শামি নিজে অতীতে এই বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, মাঠে পারফরম্যান্সই তাঁর ফিটনেসের প্রমাণ হওয়া উচিত।
রঞ্জি ট্রফিতে শামির বোলিং নিয়েও ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা নির্বাচক রুদ্রপ্রতাপ সিংহ (Rudra Pratap Singh)। তাঁর মতে, শামির অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা এখনও ভারতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবুও জাতীয় দলের দরজা তাঁর জন্য বন্ধই রয়ে গিয়েছে। এদিকে, ভারতের পেস বোলিং বিভাগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ়ে দলের বোলিং আক্রমণ ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে, জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)-এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। চোটের কারণে বা ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের জন্য তিনি সব ম্যাচ খেলতে পারেন না। আফগানিস্তানের বিরুদ্ধেও তাঁকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রাক্তন ক্রিকেটার শামিকে দলে ফেরানোর দাবি তুলেছিলেন। তাঁদের মতে, অভিজ্ঞ পেসার হিসেবে তিনি দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারতেন। কিন্তু নির্বাচক কমিটি সেই পথে হাঁটেনি। বরং তরুণ বোলারদের উপর ভরসা রেখেছে তারা। হর্ষিত রানা (Harshit Rana)-এর মতো তরুণ পেসার চোটের কারণে দলে না থাকলেও, শামিকে বিকল্প হিসেবে ভাবা হয়নি। এতে বোঝা যাচ্ছে, নির্বাচকরা ভবিষ্যতের দল গঠনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তরুণ প্রতিভাদের সুযোগ দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।
তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর হবে, তা সময়ই বলবে। কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক সময়ই বড় ভূমিকা নেয়। কঠিন পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞ বোলারদের উপস্থিতি দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়। সেই জায়গায় শামির মতো একজন পেসারকে পুরোপুরি উপেক্ষা করা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। ক্রিকেটমহলের একাংশ মনে করছে, শামির ক্ষেত্রে যোগাযোগের ঘাটতি থাকতে পারে। তিনি ঠিক কোন পর্যায়ে রয়েছেন, বা তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা কতটা, এই বিষয়গুলি নিয়ে পরিষ্কার ধারণা সামনে আসছে না। ফলে জল্পনা আরও বাড়ছে। আগরকরের মন্তব্যে যদিও পরিষ্কার যে বর্তমান পরিকল্পনায় শামি নেই, তবুও ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনের নজির নতুন নয়। অনেক ক্রিকেটারই চোট বা ফর্মের সমস্যার পর আবার দলে ফিরেছেন। সেই দৃষ্টান্ত মাথায় রেখে শামির ক্ষেত্রেও সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন নজর থাকবে আসন্ন সিরিজ়ে তরুণ বোলাররা কতটা নিজেদের প্রমাণ করতে পারেন। যদি তারা প্রত্যাশা পূরণ করতে ব্যর্থ হন, তাহলে অভিজ্ঞতার দিকে ফিরতে বাধ্য হতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট। আর সেই সময় শামির নাম আবার আলোচনায় উঠে আসতেই পারে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rohit Sharma captain IPL 2026 | আইপিএল ২০২৬-এ বড় ধাক্কা: কোহলিদের বিরুদ্ধে মুম্বাইয়ের অধিনায়ক কে? রোহিত শর্মা কি ফের নেতৃত্বে ফিরছেন!




