work from home Delhi government, fuel saving India | জ্বালানি সাশ্রয়ে বড় সিদ্ধান্ত: সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’, অফিসের সময় বদলে দিল্লি সরকারের নতুন রূপরেখা

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : দেশ জুড়ে জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে আলোচনার মাঝেই বড় পদক্ষেপ নিল দিল্লি সরকার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী -এর আহ্বানের পর এবার বাস্তবায়নের পথে রাজধানী। সপ্তাহে দু’দিন ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work from home) বা বাড়ি থেকে কাজ বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অফিসের সময়সূচিতে বদল, সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমানো এবং গণপরিবহণ ব্যবহারে জোর, একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত -এর (Rekha Gupta) সরকার। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দিল্লি সরকারের অধীনস্থ সমস্ত কর্মচারীদের সপ্তাহে অন্তত দু’দিন বাড়ি থেকে কাজ করতে হবে। এর ফলে প্রতিদিন হাজার হাজার কর্মীর যাতায়াত কমবে, কমবে পেট্রল-ডিজ়েলের ব্যবহারও। প্রশাসনের মতে, এই পদক্ষেপ শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ই নয়, নগর জীবনে যানজট কমাতেও সহায়ক হবে। একই সঙ্গে সরকারি অফিসগুলির অন্তত ৫০ শতাংশ বৈঠক অনলাইনে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে শুধুমাত্র বৈঠকের জন্য অফিসে আসার প্রয়োজনীয়তা কমবে।

আরও পড়ুন : Delhi | স্বচ্ছ দিল্লির ডাক: ‘নো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার

অফিস সময় নিয়েও বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতদিন নির্দিষ্ট সময়েই অধিকাংশ সরকারি কর্মী অফিসে যেতেন, যার ফলে পিক আওয়ারে রাস্তায় চাপ বেড়ে যেত। এখন সেই চাপ কমাতে দফতরভেদে আলাদা সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে একই সময়ে ভিড় এড়ানো সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন। জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি আধিকারিকদের গাড়ির ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আনা হয়েছে। এতদিন মাসিক পেট্রল ব্যবহারের একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকলেও এবার তা আরও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। ফলে সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ির সংখ্যা এবং জ্বালানি খরচ দুই-ই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু প্রশাসনিক স্তরেই নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়াতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিল্লি সরকার ‘মেট্রো দিবস’ পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেখানে নাগরিকদের মেট্রো ব্যবহারে উৎসাহিত করা হবে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত এক দিন ‘গাড়ি বর্জন দিবস’ পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। ওই দিন ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে বাস, মেট্রো বা অন্যান্য গণপরিবহণ ব্যবহারের অনুরোধ করা হবে।

সরকারি কর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। গণপরিবহণ ব্যবহারে উৎসাহ দিতে ৫৮টি বিশেষ বাস চালু করা হবে, যেখানে শুধুমাত্র সরকারি কর্মীরাই যাতায়াত করতে পারবেন। এতে ব্যক্তিগত গাড়ির উপর নির্ভরতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আগামী ছ’মাস কোনও নতুন গাড়ি কেনা হবে না বলেও ঘোষণা করেছে দিল্লি সরকার। এই সিদ্ধান্তও জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করবে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোই প্রধান লক্ষ্য। এই পদক্ষেপগুলির পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাবও। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং তার ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে ভারতের অর্থনীতিতে। দেশের পেট্রল, ডিজ়েল, রান্নার গ্যাস, ভোজ্য তেল, এমনকী সোনা ও সারের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাভান্ডারের উপর চাপ বাড়ে।

এই প্রেক্ষিতেই গত ১০ মে দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) কিছু আবেদন জানান। তিনি পেট্রল-ডিজ়েলের ব্যবহার কমানো, রান্নায় তেলের ব্যবহার সংযত করা এবং অন্তত এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সকলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।’ দিল্লি সরকারের এই পদক্ষেপকে সেই আহ্বানের প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের আশা, এই উদ্যোগ সফল হলে অন্যান্য রাজ্যও একই পথে হাঁটতে পারে। এতে শুধু জ্বালানি সাশ্রয়ই নয়, পরিবেশ দূষণ কমানো এবং নগর জীবনের চাপ কমানোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ফল মিলতে পারে। উল্লেখ্য, রাজধানীর নাগরিকদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, করোনা পরবর্তী সময়ে ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ চালু হওয়ায় কর্মজীবনের ধরণে নতুন পরিবর্তন আসতে পারে। আবার অনেকের মতে, অফিসের সময় পরিবর্তনের ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছুটা সমন্বয় প্রয়োজন হবে। দিল্লি সরকারের এই একাধিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তার প্রভাব শুধু প্রশাসনিক স্তরে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং সামগ্রিকভাবে শহরের জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন আনতে পারে। জ্বালানি সাশ্রয় থেকে শুরু করে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, সব ক্ষেত্রেই এই উদ্যোগ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rekha Aastha movie controversy | ক্যামেরার সামনে রেখার দুঃসাহসিক রূপ ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে ছিলেন এই বলিউড অভিনেতা! নব্বইয়ের বিতর্কিত ছবি ‘আস্থা’ নিয়ে ফের চর্চা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন