সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য সামনে আসছে নতুন আর্থিক চাপের আশঙ্কা। দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার্য একাধিক পণ্যের দাম শীঘ্রই বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে এফএমসিজি (FMCG) সংস্থাগুলি। সাবান, বিস্কুট, চা, কফি থেকে শুরু করে প্যাকেটজাত খাদ্য, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শিল্পমহলের বক্তব্যে উঠে এসেছে, মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং কাঁচামালের ব্যয়ের বৃদ্ধিই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। দেশের পরিচিত সংস্থা ডাবর ইন্ডিয়া (Dabur India)-র শীর্ষ কর্তা মোহিত মালহোত্রা (Mohit Malhotra) জানিয়েছেন, চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকের পরবর্তী সময়েই পণ্যের দামে নতুন করে বৃদ্ধি দেখা যেতে পারে। তাঁর কথায়, ‘প্যাকেজিং সামগ্রীর খরচ বাড়ছে, তার প্রভাব পড়ছে উৎপাদনের উপর।’ এর আগেই সংস্থা প্রায় ৪ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে বলে সূত্রের খবর। সেই ধারাবাহিকতায় আবারও মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
শুধু ডাবর নয়, দেশের অন্যান্য বড় সংস্থাও একই পরিস্থিতির মুখে। হিন্দুস্তান ইউনিলিভার (Hindustan Unilever Limited) -এর মতো বৃহৎ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের পণ্যের তালিকায় থাকা সাবান, ডিটারজেন্ট, চা, কফি এবং বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাদ্যের দাম বাড়তে পারে। একইভাবে নেসলে (Nestlé) এবং ব্রিটানিয়া (Britannia)-র মতো সংস্থাগুলিও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব অনুভব করছে। গম, দুধ এবং অন্যান্য কৃষিজ পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে। এই পরিস্থিতির পেছনে আন্তর্জাতিক কারণও রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সাম্প্রতিক অস্থিরতা, বিশেষ করে ইরান (Iran) ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States)-এর মধ্যে উত্তেজনা, বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে প্রভাব ফেলেছে। তেলের দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে পরিবহন খরচে। ফলে পণ্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে দিতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে সংস্থাগুলিকে। হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল পরিবহন হয়। সেখানে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বাড়ছে। তার প্রভাব ভারতেও পড়ছে। গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানির ব্যয় বাড়ার ফলে শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ বেড়েছে।

প্যাকেজিং উপকরণ যেমন প্লাস্টিক, কাগজ এবং ধাতুর দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সমস্ত উপাদান ছাড়া এফএমসিজি পণ্য বাজারজাত করা সম্ভব নয়। ফলে সংস্থাগুলির সামনে দুটি পথ খোলা থাকে, এক, পণ্যের দাম বাড়ানো; দুই, পণ্যের পরিমাণ কমিয়ে একই দামে বিক্রি করা। উভয় ক্ষেত্রেই ভোক্তাদের উপর প্রভাব পড়ে। বাজারে ইতিমধ্যেই কিছু ক্ষেত্রে ‘শ্রিঙ্কফ্লেশন’ বা পণ্যের ওজন কমিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থাৎ, একই দামে কম পরিমাণ পণ্য দেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরাসরি মূল্যবৃদ্ধির পথেই হাঁটতে পারে সংস্থাগুলি। খুচরো বাজারে এর প্রভাব দ্রুত পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শহর ও শহরতলির পরিবারগুলি মাসিক বাজেট সামলাতে নতুন করে সমস্যার মুখে পড়তে পারেন। রান্নাঘরের খরচ, ব্যক্তিগত পরিচর্যার সামগ্রী সব ক্ষেত্রেই বাড়তি ব্যয় ধরা পড়তে পারে।
বণিক মহলের একাংশের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধি ধাপে ধাপে কার্যকর করা হতে পারে। অর্থাৎ একবারে বড় বৃদ্ধি না করে ছোট ছোট ধাপে দাম বাড়ানো হবে, যাতে বাজারে চাহিদার উপর হঠাৎ প্রভাব না পড়ে। তবে ক্রেতাদের জন্য তা দীর্ঘমেয়াদে সমান চাপ সৃষ্টি করবে। সরকারি স্তরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এখনও কোনও নির্দিষ্ট হস্তক্ষেপের কথা ঘোষণা করা হয়নি, তবুও মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি নজরে রয়েছে খাদ্যপণ্য ও দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসের বাজার। কারণ এই ক্ষেত্রেই সরাসরি প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের জীবনে। আগামী কয়েক মাসে বাজারের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, জ্বালানির দাম এবং কাঁচামালের প্রাপ্যতার উপর।
ছবি : প্রতীকী
আরও পড়ুন : CM Suvendu Adhikari cabinet expansion | শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ সোমবার, নবান্নে প্রথম বৈঠকের জোর প্রস্তুতি, কারা পাচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ দফতর?



