সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা জিৎ (Jeet), যাঁকে দর্শক ‘বস’ নামেই বেশি চেনেন, দীর্ঘদিন ধরেই নিজেকে সক্রিয় রাজনীতির বাইরে রেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক এক ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁর নাম ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) -এর শপথ গ্রহণের দিন ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে তাঁর উপস্থিতি এবং তার পর সমাজমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্ট রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তুলেছে। শপথের দিন সকালেই ব্রিগেডে আয়োজিত জনসভায় উপস্থিত ছিলেন জিৎ। সেই উপস্থিতি প্রথম থেকেই নজর কেড়েছিল। যদিও তিনি কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য দেননি, তবুও তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা থামেনি। এর পরেই সমাজমাধ্যমে তাঁর একটি পোস্ট সামনে আসে, যেখানে তিনি বাংলার ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেন।
সেই পোস্টে অভিনেতা লিখেছেন, ‘এই জয় শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক সাফল্য নয়, এটি মানুষের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতার প্রতিফলন।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলার সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং শিক্ষাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে রাজ্যের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আকাঙ্ক্ষা। পোস্টে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)-র ‘মোদীর গ্যারান্টি’ প্রসঙ্গ। জিৎ সেখানে লিখেছেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতির উপর বিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ‘মোদির গ্যারান্টি’ কথাটি তাঁর লেখায় উঠে আসায় অনেকেই মনে করছেন, এটি কেবল সাধারণ মন্তব্য নয়, বরং একটি রাজনৈতিক ইঙ্গিত হতে পারে। জিৎ তাঁর পোস্টে বাংলাকে ‘মেধা ও পরিশ্রমের ভূমি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই রাজ্যকে আবারও ‘সোনার বাংলা’ হিসেবে দেখতে চান। দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক অবস্থান নিয়ে তাঁর মধ্যে যে এক ধরনের হতাশা ছিল, তা-ও তিনি তুলে ধরেছেন।
এই সমস্ত মন্তব্য সত্ত্বেও তিনি সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলে যোগদানের কথা বলেননি। তাঁর বক্তব্যে কোথাও দলীয় সমর্থনের ঘোষণা নেই। কিন্তু পোস্টের শেষে ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান এবং ব্রিগেডে তাঁর উপস্থিতি অনেকের কাছে আলাদা তাৎপর্য বহন করছে। টলিউড মহলেও এই বিষয়টি নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। জিৎ বরাবরই নিজেকে সিনেমার জগতে সীমাবদ্ধ রেখেছেন। তাঁর এই নতুন অবস্থান কি তবে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? নাকি এটি শুধুই একজন নাগরিক হিসেবে তাঁর মতামত, এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কারণ, জনপ্রিয় অভিনেতাদের রাজনীতিতে প্রবেশ নতুন কিছু নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক অভিনেতা সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন এবং গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। সেই প্রেক্ষাপটে জিৎ-এর মতো তারকার নাম উঠে আসা অনেকের কাছেই তাৎপর্যপূর্ণ।
ব্রিগেডের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ছিল নীরব, কিন্তু তা যথেষ্ট নজর কেড়েছে। কোনও বক্তব্য না রেখেও তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছেন। সমাজমাধ্যমে তাঁর পোস্ট সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে। অনুরাগীদের একাংশ এই ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, একজন জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব যদি সমাজের উন্নয়নের বিষয়ে মতামত দেন, তা ইতিবাচক দিকেই যায়। অন্যদিকে, কেউ কেউ মনে করছেন, এটি হয়তো ভবিষ্যতের কোনও বড় সিদ্ধান্তের পূর্বাভাস। জিৎ নিজে এখনও পর্যন্ত এই জল্পনা নিয়ে কোনও স্পষ্ট মন্তব্য করেননি। তিনি কি সত্যিই রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে চলেছেন, নাকি এই ঘটনাটি কেবল একটি সাময়িক আলোচনার বিষয়, তা এখনই বলা কঠিন। তবে এটুকু নিশ্চিত, তাঁর এই পদক্ষেপ টলিউড এবং রাজনীতির সংযোগস্থলে নতুন করে আলো ফেলেছে। একজন তারকার ব্যক্তিগত মতামত কীভাবে বৃহত্তর আলোচনার জন্ম দিতে পারে, তারই উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই ঘটনা।
আগামী দিনে জিৎ কী সিদ্ধান্ত নেন, সেটাই এখন দেখার। রুপোলি পর্দায় তাঁর সাফল্যের পর এবার কি তিনি বাস্তবের ময়দানেও নতুন অধ্যায় শুরু করবেন? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর অনুরাগী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মহল।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Narendra Modi Bengal speech | বেঙ্গালুরু থেকে বাংলার জয়ের গল্প শোনালেন নরেন্দ্র মোদী : ‘৩ থেকে ২০০+ বিধায়ক’, বিজেপির উত্থান ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা



