সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের আগে গণনাকেন্দ্র ঘিরে তৈরি হল নতুন বিতর্ক। নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) দায়ের হল জোড়া মামলা, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। গণনার আগে এই আইনি লড়াই নির্বাচন প্রক্রিয়ার উপর কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। বৃহস্পতিবার আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) এবং আইনজীবী বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য (Biswarup Bhattacharya) পৃথকভাবে দু’টি মামলা দায়ের করেন। দু’টি মামলার মূল কেন্দ্রে রয়েছে গণনাকেন্দ্রের কর্মী নিয়োগ এবং কেন্দ্রের বিন্যাস নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত। প্রথম মামলায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee) অভিযোগ তুলেছেন যে, নির্বাচন কমিশন গণনাকেন্দ্রে সুপারভাইজার হিসেবে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘এই ধরনের সিদ্ধান্ত নির্বাচনী বিধির পরিপন্থী এবং এর ফলে গণনার নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।’ তিনি আরও জানান, ‘গণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়ায় এমন একপাক্ষিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়।’ এই অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
আরও পড়ুন : West Bengal Assembly Election 2026 | ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন – ভোট পর্ব ৮
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গণনাকেন্দ্রে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন স্তরের প্রশাসনিক কর্মীদের অংশগ্রহণ থাকলে স্বচ্ছতা বজায় থাকে বলেই ধারণা। সেই প্রেক্ষাপটে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বিভিন্ন মহলে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করেছেন বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য (Biswarup Bhattacharya)। তাঁর আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু গণনাকেন্দ্রের স্থান পরিবর্তন এবং সংখ্যায় কাটছাঁট। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এবার ভোটারের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হওয়ায় এবং কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানোর লক্ষ্যে গণনাকেন্দ্রগুলিকে একত্রিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াকে ‘সেন্ট্রালাইজেশন’ বলা হচ্ছে। কিন্তু বিশ্বরূপ ভট্টাচার্য (Biswarup Bhattacharya) এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেন, ‘হঠাৎ করে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং স্থান পরিবর্তন করা আইনসম্মত নয়। এতে ভোট গণনার স্বচ্ছতা এবং নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।’ তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিবর্তন আগে থেকেই সুস্পষ্টভাবে জানানো উচিত ছিল।
নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির একাংশ ইতিমধ্যেই কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, গণনা প্রক্রিয়ায় কোনও ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি হলে তা ভোটের ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযোগগুলির জবাব দেওয়া হয়নি। উল্লেখ্য, নির্বাচনের শুরু থেকেই কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক দেখা গিয়েছিল। ভোট গ্রহণের সময়সূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, সব ক্ষেত্রেই একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এবার গণনা পর্বেও সেই বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি, কারণ গণনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে স্পষ্ট নির্দেশ না এলে প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। আদালতের পর্যবেক্ষণ এই ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে, সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও এই বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, গণনা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণে আদালতের সিদ্ধান্তকে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং আদালতের নির্দেশ, দু’টিই আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করতে পারে। গণনার আগে এই আইনি জটিলতা কতটা গভীর হয়, এখন সেটাই দেখার।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : West Bengal Election 2026 Exit Poll : পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬, বুথ ফেরত সমীক্ষার সার্বিক বিশ্লেষণ



