সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ঝাড়গ্রাম: ভোটের প্রচার মানেই এখন শুধু সভা-মিছিল বা পোস্টার নয়, বরং মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ গড়ে তোলার নানা চিত্র সামনে আসছে। পশ্চিমবঙ্গের ঝাড়গ্রাম (Jhargram) -এর বিনপুর বিধানসভা কেন্দ্রেও দেখা গেল তেমনই এক দৃশ্য, যা ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিজেপি (BJP) প্রার্থী ডাক্তার প্রণত টুডু (Dr. Pranat Tudu) প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই স্টেথোস্কোপ হাতে রোগী দেখতে শুরু করলেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির ফাঁকেই চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার এই ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে আলাদা আগ্রহ। বুধবার বিনপুরের বিভিন্ন এলাকায় জনসংযোগ কর্মসূচীতে অংশ নেন প্রণত টুডু। ঠিক সেই সময়েই সামনে আসে এক অসুস্থ দলীয় কর্মীর বিষয়। খবর পেয়ে দেরি না করে তিনি নিজেই পৌঁছে যান কর্মীর কাছে। জানা গিয়েছে, কেউদিশোল এলাকার বিজেপির সক্রিয় কর্মী অমল মণ্ডল (Amal Mondal) দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রার্থীর কাছে বিষয়টি পৌঁছতেই তিনি স্টেথোস্কোপ নিয়ে রোগী পরীক্ষা করেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে।
প্রণত টুডুর এই পদক্ষেপ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই বলছেন, ‘প্রচারের মাঝেও চিকিৎসকের দায়িত্ব ভুলে যাননি তিনি।’ আবার কারও মতে, এই ধরনের উদ্যোগ মানুষের কাছে আলাদা বার্তা দেয়। তবে রাজনৈতিক ময়দানে এমন দৃশ্য নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন দলের প্রার্থীদের নানা রকম কর্মকাণ্ড নজর কেড়েছে, কেউ রান্নাঘরে ঢুকে পড়েছেন, কেউ চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে চা বানিয়েছেন, কেউ আবার কৃষিকাজে হাত লাগিয়েছেন। ঝাড়গ্রামের এই ঘটনার পর সেই তালিকায় নতুন সংযোজন ‘স্টেথো হাতে প্রচার’। প্রণত টুডুর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তিনি পেশায় একজন চিকিৎসক। ফলে মানুষের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবেই একটু আলাদা। তিনি নিজেও সেই দায়িত্বের কথা অস্বীকার করেননি। এক কথায় তিনি জানান, ‘মানুষের পাশে থাকা আমার দায়িত্ব, সেটা ভোটের সময় হোক বা অন্য সময়।’ প্রচারের পাশাপাশি তিনি ভুলাভেদা অঞ্চলের বারিঘাটি, চিরুগোড়া ও কুশভলা এলাকায় ঘুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। এলাকার সমস্যা, দাবি-দাওয়া শুনে নেন। তাঁর এই সরাসরি যোগাযোগের ধরন ভোটের লড়াইয়ে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রচারে অভিনবত্বের প্রতিযোগিতা নতুন নয়। প্রতি নির্বাচনে দেখা যায়, প্রার্থীরা বিভিন্ন ভাবে মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন। কখনও তা সাধারণ মানুষের জীবনের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রয়াস, কখনও আবার তা নজর কাড়ার কৌশল। তবে এই ঘটনাকে অনেকেই আলাদা করে দেখছেন, কারণ এখানে পেশাগত পরিচয় সরাসরি ভূমিকা নিয়েছে। অন্যদিকে, উলুবেড়িয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) -এর প্রার্থী নির্মল মাজি (Nirmal Maji) -এর প্রচারের সময় চিকিৎসা করার দৃশ্য কিছুদিন আগে ভাইরাল হয়েছিল। সেই স্মৃতিই যেন আবার ফিরে এল ঝাড়গ্রামে, যদিও এবার রাজনৈতিক দল আলাদা। ফলে দুই শিবিরের তুলনাও টানা হচ্ছে বিভিন্ন মহলে।
ভোটের সময় সাধারণ মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে, প্রার্থীরা নির্বাচনের পরও কি এভাবেই তাঁদের পাশে থাকবেন? এই প্রশ্নের উত্তর সময়ই দেবে। তবে প্রচারের ময়দানে মানবিকতার এই ধরনের দৃশ্য ভোটারদের নজর কেড়েছে, তা বলাই যায়। ঝাড়গ্রামের এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা আরও বেড়েছে। কেউ বলছেন, ‘এটা মানুষের কাছে পৌঁছনোর বাস্তব উপায়’, আবার কেউ মনে করছেন, ‘এগুলো নির্বাচনী কৌশলের অংশ।’ কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এই ধরনের মুহূর্ত অনেক সময়েই আলাদা ছাপ ফেলে। প্রণত টুডুর এই উদ্যোগ তাঁর প্রচারকে অন্য মাত্রা দিয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে। চিকিৎসক হিসেবে তাঁর পরিচয় এবং রাজনৈতিক প্রার্থী হিসেবে তাঁর ভূমিকা, দুইয়ের মেলবন্ধন এই ঘটনায় ফুটে উঠেছে। নির্বাচনের উত্তেজনার মাঝেই এই ছবি যেন অন্য এক দিক তুলে ধরল। প্রসঙ্গত, ভোটের লড়াই যত এগোবে, ততই সামনে আসবে নতুন নতুন প্রচারের ধরন। কিন্তু স্টেথোস্কোপ হাতে প্রার্থীর এই ছবি ইতিমধ্যেই ঝাড়গ্রামের ভোট রাজনীতিতে এক বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : WB Assembly Elections 2026, Mamata Banerjee NRC statement | ভোটের মঞ্চে মমতার কড়া বার্তা: ‘মানুষ যদি ভোটই দিতে না পারে, ট্রাইবুনাল রেখে লাভ কী?’ হুগলিতে সরব মুখ্যমন্ত্রী




