সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। তারই মধ্যে কলকাতা বন্দর কেন্দ্রকে ঘিরে তৈরি হল নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। তৃণমূল কংগ্রেস -এর প্রভাবশালী নেতা ও প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim) –এর বিরুদ্ধে বিজেপি (BJP) শেষ পর্যন্ত বাজি রাখল সদ্য জামিন পাওয়া নেতা রাকেশ সিংহ (Rakesh Singh) -এর ওপর। বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নাম ঘোষণা করে পদ্ম শিবির, ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হল এই কেন্দ্রের প্রার্থী তালিকা নিয়ে। কলকাতা বন্দর কেন্দ্র বরাবরই রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই কেন্দ্রে ফিরহাদ হাকিম, দীর্ঘদিন ধরে শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কাকে প্রার্থী করা হবে, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরে জল্পনা চলছিল বেশ কিছুদিন ধরেই। অবশেষে সেই জল্পনার ইতি টেনে দলীয় নেতৃত্ব রাকেশ সিংহকে সামনে আনল।
ঘটনাচক্রে, প্রার্থী ঘোষণার সময়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট রাকেশ সিংহকে অন্তর্বর্তী জামিন দেয়। সেই সিদ্ধান্তের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। ফলে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই দ্রুত সিদ্ধান্ত কি কৌশলগত পদক্ষেপ? অনেকেই মনে করছেন, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহকে কাজে লাগিয়ে জনমনে একটি নির্দিষ্ট বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে বিজেপি। রাকেশ সিংহের নাম সামনে আসার পরই অতীতের একটি বিতর্কিত ঘটনার প্রসঙ্গও নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কলকাতার ট্যাংরা এলাকায় একটি ঘটনার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, বিধান ভবন (Bidhan Bhavan)-এ ভাঙচুর ও উত্তেজনা সৃষ্টির ঘটনায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। সেই সময় বিহারে রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)-এর একটি মিছিলে করা মন্তব্যের প্রতিবাদে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তিনি পলাতক ছিলেন। পরে তদন্তের ভিত্তিতে কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়, যাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর পুত্র শিবম সিংহ (Shivam Singh)। রাকেশ সিংহের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন-সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয় এন্টালি থানায় (Entally Police Station)। সেই মামলাগুলির জেরেই তিনি এতদিন আইনি জটিলতার মধ্যে ছিলেন। তবে সোমবার হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়ার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। জামিন পাওয়ার পরই সমাজমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠেন রাকেশ। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, ‘সত্যের জয় হয়েছে।’ পাশাপাশি আরও একটি বার্তায় দাবি করেন, ‘১৬৩ দিনের সংগ্রামের পর আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ১৬টি মিথ্যা মামলায় আদালত আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছে।’ তাঁর এই মন্তব্য দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এই প্রেক্ষাপটে তাঁকে প্রার্থী ঘোষণা করার সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। একদিকে আইনি লড়াইয়ের পরে মুক্তি, অন্যদিকে সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নামা, এই দুইয়ের সমন্বয়ে বিজেপি একটি আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে চাইছে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সংগঠনের ওপর দখল এই লড়াইকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। কলকাতা পুরসভার গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার পাশাপাশি রাজ্যের প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ফলে এই কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যে সহজ হবে না, তা বলাই বাহুল্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের এই লড়াই শুধুমাত্র দুই প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে। একদিকে শাসক দলের অভিজ্ঞ মুখ, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের নতুন করে উঠে আসা নেতা, এই দ্বন্দ্ব ভোটারদের মধ্যে আলাদা আগ্রহ তৈরি করছে। নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রার্থী নির্বাচন ভোটের গতিপ্রকৃতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে শহুরে কেন্দ্রগুলিতে যেখানে রাজনৈতিক সচেতনতা বেশি, সেখানে প্রার্থীর ব্যক্তিগত ইমেজ এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। প্রসঙ্গত, কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের এই রাজনৈতিক সমীকরণ এখন রাজ্যের অন্যতম চর্চিত বিষয়। রাকেশ সিংহের প্রার্থীপদ ঘোষণা এবং তাঁর সাম্প্রতিক আইনি পরিস্থিতি, এই দুই বিষয় মিলিয়ে নির্বাচনের আগে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। আগামী দিনে এই কেন্দ্রের প্রচার, পাল্টা প্রচার এবং রাজনৈতিক ভাষণ কতটা তীব্র হয়, সেদিকেই নজর থাকবে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : BJP candidate list Assam 2026 | অসম ভোটে বিজেপির প্রথম তালিকায় চমক, জালুকবাড়িতে ফের হিমন্ত, দলবদলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই টিকিট পেলেন প্রদ্যোৎ




