সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি: ভিয়েতনামের (Vietnam) নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তো লাম (To Lam) -এর নির্বাচনের পরই শুভেচ্ছা জানালেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi)। কূটনৈতিক মহলে এই বার্তা দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার দিকেই ইঙ্গিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই গুরুত্বপূর্ণ দেশের সঙ্গে ভারতের কৌশলগত সহযোগিতা আগামী দিনে আরও প্রসারিত হতে পারে বলেই আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সামাজিক মাধ্যম এক্স (X) -এ নিজের প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার জন্য তো লামকে আন্তরিক অভিনন্দন। তাঁর নেতৃত্বে আমাদের দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘দুই দেশের মানুষের উন্নতি এবং আঞ্চলিক অগ্রগতির লক্ষ্যে সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও গভীর করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।’
ভারত ও ভিয়েতনামের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ এবং বহুস্তরীয়। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, প্রতিরক্ষা এবং সাংস্কৃতিক, নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরেই বজায় রয়েছে। বিশেষ করে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Comprehensive Strategic Partnership) গড়ে ওঠার পর এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়েছে। প্রসঙ্গত, তো লাম ভিয়েতনামের রাজনীতিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, তাঁর প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়া দেশটির প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক নীতিতে নতুন দিকনির্দেশনা আনতে পারে বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মহল। তাঁর নেতৃত্বে ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চাইবে, এমনটাই ধারণা বিভিন্ন মহলে। ভারত সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে ভিয়েতনাম একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। বিশেষ করে ইন্দো-প্যাসিফিক (Indo-Pacific) অঞ্চলে কৌশলগত ভারসাম্য বজায় রাখতে দুই দেশের সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই অঞ্চলে বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং সমুদ্রপথের স্বাধীনতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ভারত ও ভিয়েতনাম একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদীর বার্তায় সেই দিকটিই উঠে এসেছে। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হতে পারে। অর্থনীতি, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং অবকাঠামো উন্নয়ন— এই সব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগের সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে, ভারত ইতিমধ্যেই ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। নৌবাহিনীর যৌথ মহড়া, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং প্রশিক্ষণ বিনিময়ের মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। পাশাপাশি, বাণিজ্য ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে লেনদেন ক্রমশ বাড়ছে। অর্থনৈতিক দিক থেকে ভিয়েতনাম দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দ্রুত বিকাশমান দেশ। উৎপাদন, রপ্তানি এবং প্রযুক্তি খাতে তাদের অগ্রগতি আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। বৌদ্ধ ধর্ম এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের মাধ্যমে ভারত ও ভিয়েতনামের সম্পর্ক বহু পুরনো। এই সাংস্কৃতিক বন্ধন আধুনিক কূটনীতিতেও প্রভাব ফেলছে।
তো লামের নেতৃত্বে এই সম্পর্ক আরও এগিয়ে যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তাঁর প্রশাসন ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা বজায় রাখবে এবং নতুন ক্ষেত্রেও কাজ করবে, এমনটাই অনুমান করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ভারত-ভিয়েতনাম সম্পর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বিভিন্ন শক্তির উপস্থিতি বাড়ার ফলে কৌশলগত সহযোগিতা এখন অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা সেই প্রেক্ষাপটেই গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একটি আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন নয়, বরং ভবিষ্যতের সহযোগিতার ইঙ্গিত বহন করছে। দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতার ভিত্তি আরও মজবুত করতে এই ধরনের কূটনৈতিক বার্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। আগামী দিনে ভারত ও ভিয়েতনাম যৌথভাবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজ করতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, এই সব বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তো লামের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ এবং মোদীর শুভেচ্ছা বার্তা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Samrat Samprati Museum Gujarat, Narendra Modi Mahavir Jayanti Speech | মহাবীর জয়ন্তীতে ঐতিহ্যের মহাসংগ্রহ: কোবা তীর্থে ‘সম্রাট সম্প্রতি’ মিউজিয়াম উদ্বোধনে মোদীর জোর, ভারতের জ্ঞান ও সংস্কৃতির বিশ্ববার্তা




