US Visa new rules 2026 | সোশ্যাল মিডিয়া না দেখালে মিলবে না আমেরিকার ভিসা! ৩০ মার্চ থেকে নতুন নিয়ম

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ ওয়াশিংটন: আমেরিকায় কাজ বা পড়াশোনার স্বপ্ন দেখা বহু ভারতীয়র কাছে নতুন নিয়ম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে চলেছে। মার্কিন প্রশাসন ভিসা (US Visa) স্ক্রিনিং প্রক্রিয়ায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে চলা এই নতুন ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া (Social Media) অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখা হবে। ফলে শুধু নথিপত্র নয়, ডিজিটাল উপস্থিতিও এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট (US State Department) জানিয়েছে, ভিসা প্রক্রিয়াকে আরও কড়া ও তথ্যভিত্তিক করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নন-ইমিগ্রান্ট ভিসা (Non-Immigrant Visa) আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর আওতায় পড়বে একাধিক ক্যাটেগরি, যেমন এইচ-১বি (H-1B), এইচ-৪ (H-4), এইচ-৩ (H-3), এ-৩ (A-3), সি-৩ (C-3), জি-৫ (G-5) সহ আরও কয়েকটি ভিসা বিভাগ।

ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত

আরও পড়ুন : Rajasthan Royals sale, IPL team sold | ১৫ হাজার কোটিতে বিক্রি রাজস্থান রয়্যালস, আইপিএলে আমেরিকার বড় বিনিয়োগ

প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ভিসা আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের সঙ্গে তাঁর অনলাইন কার্যকলাপের সামঞ্জস্য যাচাই করাই এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য।’ অর্থাৎ আবেদনপত্রে যা বলা হচ্ছে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় যা দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে কোনও অসঙ্গতি থাকলে তা নজরে আসবে সহজেই। এই নতুন নিয়মের ফলে ভারতীয় আবেদনকারীদের উপর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা প্রবল। কারণ প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ভারতীয় ছাত্র, কর্মী ও পেশাজীবী আমেরিকার ভিসার জন্য আবেদন করেন। বিশেষ করে আইটি (IT) সেক্টরে কর্মরতদের মধ্যে এইচ-১বি ভিসার চাহিদা সবচেয়ে বেশি। একজন প্রশাসনিক আধিকারিকের কথায়, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে এমন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা সহজ হবে, যাঁরা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারেন।’ অর্থাৎ শুধু যোগ্যতা নয়, আবেদনকারীর সামগ্রিক আচরণ ও মতামতও গুরুত্ব পাবে ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে।

এই নিয়মে আবেদনকারীদের কোন কোন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম খতিয়ে দেখা হবে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণভাবে ফেসবুক (Facebook), এক্স (X, পূর্বতন টুইটার), ইনস্টাগ্রাম (Instagram), লিঙ্কডইন (LinkedIn) সহ জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলির তথ্য যাচাই করা হতে পারে। আবেদনকারীদের গত কয়েক বছরের পোস্ট, মন্তব্য, লাইক বা শেয়ার করা কনটেন্টও পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেকের মতে, ‘ডিজিটাল পরিচয় এখন ব্যক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে, তাই তা যাচাই করা অস্বাভাবিক নয়।’ তবে এই নিয়ম গোপনীয়তা ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে আবেদনকারীরা কতটা তথ্য শেয়ার করতে বাধ্য হবেন, তা নিয়েও কৌতূহল রয়েছে। কিন্তু এই পরিবর্তনের ফলে ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া আরও সময়সাপেক্ষ হতে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে। কারণ অতিরিক্ত যাচাইয়ের জন্য সময় লাগবে। ফলে যারা দ্রুত ভিসা পেতে চান, তাঁদের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

এছাড়া আবেদনকারীদের জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় কী পোস্ট করা হচ্ছে, কী ধরনের মন্তব্য করা হচ্ছে, সবকিছুই এখন গুরুত্ব পেতে পারে। কারণ একটি পোস্ট বা মন্তব্য ভিসা সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে। এই প্রেক্ষিতে অনেকেই বলছেন, ‘ভিসা আবেদন করার আগে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল ভাল করে পর্যালোচনা করা উচিত।’ কারণ অনলাইন উপস্থিতির ভিত্তিতে আবেদন খারিজ হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করার প্রবণতার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা। আগেও ভিসা স্ক্রিনিংয়ে নানা ধরনের তথ্য যাচাই করা হত, তবে এবার তা আরও বিস্তৃত আকার পেল। ডিজিটাল যুগে যেখানে মানুষের জীবনের বড় অংশ অনলাইনে প্রতিফলিত হয়, সেখানে এই পরিবর্তন একটি বড় ধাপ বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতীয়দের ‘আমেরিকান ড্রিম’ (American Dream) -এর পথে এই নতুন নিয়ম কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত এটুকু পরিষ্কার, ভিসা পাওয়ার লড়াইয়ে এখন থেকে শুধু কাগজ নয়, সোশ্যাল মিডিয়াও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : US Dollar, Donald Trump : মার্কিন ডলারে ট্রাম্পের স্বাক্ষর, ১৬৫ বছরের প্রথা ভাঙল আমেরিকা

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন