সুজয়নীল দাশগুপ্ত, সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : দীর্ঘ বিরতির পর ছোট ফরম্যাটে প্রত্যাবর্তন, আর ফিরেই ম্যাচ জেতানো ইনিংস, বিরাট কোহলি (Virat Kohli) আবারও প্রমাণ করলেন, বয়স তাঁর কাছে কেবল সংখ্যা মাত্র। প্রায় ৯ মাস পর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে (T20 Cricket) নেমে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে (Royal Challengers Bangalore) জেতানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন তিনি। তাঁর ব্যাটিংয়ে শুধু দর্শকরাই নয়, মুগ্ধ হয়েছেন ভারতের অভিজ্ঞ স্পিনার রবিচন্দ্রন আশ্বিনও (Ravichandran Ashwin)। গত শনিবার চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে (M. Chinnaswamy Stadium) সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad) -এর বিরুদ্ধে ২০২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কোহলি খেলেন ৩৮ বলে অপরাজিত ৬৯ রানের ইনিংস। ইনিংসের শেষে একটি চার মেরে ম্যাচ শেষ করার দৃশ্য যেন পুরনো দিনের কোহলিকেই ফিরিয়ে আনল। এতদিন টি-টোয়েন্টি না খেলেও তাঁর ব্যাটিংয়ে ছন্দের ঘাটতি চোখে পড়েনি।
এই ইনিংস দেখে আশ্বিন প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছেন কোহলিকে। একটি ক্রিকেট আলোচনায় তিনি বলেন, ‘বিরাট আবার দেখিয়ে দিল কীভাবে টি-টোয়েন্টি খেলতে হয়। শুরু থেকেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে এগোতে হয়। ওর এই ইনিংস আমার শ্রদ্ধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।’ তাঁর মন্তব্যে বোঝা যায়, কোহলির ব্যাটিং শুধু রানের জন্য নয়, তার ধরন ও ধারাবাহিকতাও নজর কেড়েছে। কিন্তু শুধু শট খেলা নয়, কোহলির আর একটি বিশেষ গুণ আলাদা করে তুলে ধরেছেন আশ্বিন। সেটি হল তাঁর দৌড়ে রান নেওয়ার ক্ষমতা। আধুনিক ক্রিকেটে যেখানে বড় শটের উপর জোর বেশি, সেখানে কোহলির এই গুণ এখনও সমান কার্যকর। আশ্বিন বলেন, ‘ও তখন ৪০ রানে ব্যাট করছে। একটি সিঙ্গলের জন্য দৌড়ল। নন-স্ট্রাইকার এক রান শেষ করার আগেই বিরাট নিজের রান শেষ করে দ্বিতীয় রানের জন্য ছুটে গেছে। এত দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং বাস্তবায়ন করা সত্যিই বিস্ময়কর।’ চিন্নাস্বামীর মতো তুলনামূলক ছোট মাঠেও যেখানে অনেকেই সহজে বাউন্ডারি মারতে চান, সেখানে কোহলির এই দৌড়ে রান নেওয়ার মানসিকতা তাঁর ফিটনেস ও মনোযোগের পরিচয় দেয়। আশ্বিনের কথায়, ‘৫৭ মিটারের বাউন্ডারিতেও ও দু’রান নিচ্ছে, এটা সত্যিই আলাদা করে চোখে পড়ে।’
কোহলির এই পারফরম্যান্স কিন্তু হঠাৎ করে আসেনি। টি-টোয়েন্টি থেকে দূরে থাকলেও এক দিনের ক্রিকেটে (ODI Cricket) তিনি নিয়মিত খেলছিলেন এবং সেখানেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছেন। জানুয়ারি মাসে নিউ জিল্যান্ড (New Zealand) -এর বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের সিরিজে ৯৩, ২৩ ও ১২৪ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার আগে দক্ষিণ আফ্রিকা (South Africa) -এর বিরুদ্ধে সিরিজেও তাঁর ব্যাটে ছিল জোড়া শতরান এবং মোট ৩০২ রান। এই ধারাবাহিক ফর্মই তাঁকে টি-টোয়েন্টিতে ফেরার সময় আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ম্যাচ শেষে কোহলি নিজেও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আবার মাঠে ফিরতে পেরে দারুণ লাগছে। এক বছর আগে এই মাঠেই শেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছিলাম। সাম্প্রতিক এক দিনের সিরিজে যেভাবে খেলেছি, সেটাই আমাকে ছন্দে থাকতে সাহায্য করেছে।’ উল্লেখ্য, নিজের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়েও খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি। কোহলি বলেন, ‘আমি যে ধরনের শট খেলি না, সেগুলো খেলার চেষ্টা করিনি। নিজের শক্তির জায়গায় থেকেই খেলেছি। যতক্ষণ ছন্দ বজায় থাকে এবং ফিটনেস ঠিক থাকে, ততক্ষণ সব ঠিকঠাক এগোয়।’
বর্তমানে ভারতীয় দলের হয়ে কোহলি একটি ফরম্যাটেই নিয়মিত খেলছেন। এই পরিবর্তন তাঁর পারফরম্যান্সে কী প্রভাব ফেলছে, সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে এত ব্যস্ত সূচির মধ্যে খেলতে হয়েছে যে ক্লান্তি একটা বড় বিষয় ছিল। এখন এই বিরতিগুলো আমাকে অনেক সাহায্য করে। আমি মানসিকভাবে সতেজ থাকি এবং মাঠে নামলে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনও শুধু জায়গা ধরে রাখার জন্য খেলি না। দলের জন্য অবদান রাখা আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ শারীরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকব, ততক্ষণ নিজের দায়িত্ব পালন করতে চাই।’ অন্যদিকে, কোহলির এই প্রত্যাবর্তন শুধু একটি ম্যাচ জয়ের কাহিনি নয়, তা তাঁর ফিটনেস, মানসিক দৃঢ়তা এবং খেলার প্রতি দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন। বয়স বাড়লেও যে তিনি এখনও একই তীব্রতায় মাঠে নামতে পারেন, তা তিনি আবারও প্রমাণ করলেন। আইপিএল (IPL) -এর শুরুতেই এই পারফরম্যান্স রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর জন্য যেমন ইতিবাচক, তেমনই ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্যও আশাব্যঞ্জক। সামনে আরও ম্যাচে কোহলি কীভাবে নিজের ছন্দ ধরে রাখেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে সকলের।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Virat Kohli Anushka Sharma New Year | ‘আমার জীবনের আলোর হাত ধরে…’ আদুরে বার্তায় অনুষ্কাকে আগলে নতুন বছরে বিরাট কোহলি, ভাইরাল ‘বিরুষ্কা’ মুহূর্ত




