প্রিয়াঙ্কা চতুর্বেদী ★ সাশ্রয় নিউজ, মুম্বাই : বলিউডের অন্যতম সফল অভিনেতা আমির খান (Aamir Khan)। তাঁর নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একাধিক ব্লকবাস্টার ছবি। থ্রি ইডিয়টস থেকে পিকে, প্রতিটি ছবিই বক্সঅফিসে রেকর্ড গড়েছে। কিন্তু এই সাফল্যের মাঝেই এমন এক সময় এসেছে, যখন নিজের কাজ নিয়েই ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেতা। সেই অভিজ্ঞতার কথাই সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে খুলে বললেন আমির। ২০২২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘লাল সিং চাড্ডা’ ছিল তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প। হলিউডের জনপ্রিয় ছবি ফরেস্ট গাম্প-এর হিন্দি রূপান্তর হিসেবে তৈরি হয়েছিল এই সিনেমা। দীর্ঘ তিন বছর ধরে ছবিটির নির্মাণ প্রক্রিয়া চলেছিল। সব দিক থেকেই এটি ছিল বড় মাপের উদ্যোগ। এই ছবির স্বত্ব কেনার জন্য একটি সংস্থা আর্থিক সহায়তা করেছিল, এবং প্রায় ১৮০ কোটি টাকার বিনিয়োগ হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে ছবির নির্মাণে সেই সংস্থার মতামত খুব বেশি গুরুত্ব পায়নি। নিজের অভিজ্ঞতা ও বিশ্বাসের উপর নির্ভর করেই কাজ এগিয়েছিলেন আমির খান। তাঁর ধারণা ছিল, এই ছবি সহজেই ৩০০ কোটির ব্যবসা করবে।
কিন্তু মুক্তির পর ছবির ফলাফল সম্পূর্ণ বিপরীত হয়। দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি লাল সিং চড্ডা। সমালোচনার মুখে পড়তে হয় অভিনেতাকে। বক্সঅফিসেও আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। এই ব্যর্থতা গভীরভাবে আঘাত করে তাঁকে। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা নিয়ে আমির বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম ২০০ কোটির ছবি সহজেই ৩০০ কোটির ব্যবসা করবে। আসলে আমি অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিলাম। এই ধারণাটা ভুল ছিল।’ তিনি আরও জানান, ‘ছবিটা মানুষের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারেনি। এই ব্যর্থতার কথা ভাবলেই আমার চোখে জল চলে আসত।’ এই সময়টাই ছিল তাঁর জীবনের কঠিন অধ্যায়। দিনের পর দিন নিজের কাজ নিয়ে হতাশায় ডুবে থাকতেন তিনি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এমনকি অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলেন। চার বছর ধরে নতুন কোনও ছবিতে অভিনয় না করার সিদ্ধান্তও সেই মানসিক অবস্থারই প্রতিফলন। তবে এই কঠিন সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তাঁর মা, দুই বোন, সন্তান এবং প্রাক্তন স্ত্রী, সকলেই তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করেছেন। আমিরের কথায়, ‘আমার পরিবারই আমাকে সেই পরিস্থিতি থেকে বের করে এনেছে।’ তাঁদের সমর্থনই তাঁকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করে।
বর্তমানে অভিনয়ে পুরোপুরি না ফিরলেও কাজ থেকে দূরে নন আমির খান। তাঁর ছেলে জুনেইদ খান-এর নতুন ছবি ‘এক দিন’ (Ek Din)-এর কাজে ব্যস্ত রয়েছেন তিনি। প্রযোজনা এবং অন্যান্য কাজের মাধ্যমে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তবে কবে আবার বড় পর্দায় তাঁকে দেখা যাবে, তা নিয়ে এখনও নিশ্চিত নন অভিনেতা নিজেই। দর্শকের প্রত্যাশা এবং নিজের মানদণ্ড— এই দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য খুঁজে নিয়েই তিনি ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত নিতে চান। এই অভিজ্ঞতা যেন এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়ে উঠেছে তাঁর জীবনে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস কখনও কখনও বড় ধাক্কা এনে দিতে পারে, তা উপলব্ধি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে, ব্যর্থতার মধ্যেও নতুন করে উঠে দাঁড়ানোর শক্তি যে মানুষের মধ্যেই থাকে, সেটাও তাঁর জীবনের গল্পে ধরা পড়ে। বলিউডের মতো প্রতিযোগিতামূলক দুনিয়ায় সাফল্য যেমন দ্রুত আসে, তেমনই ব্যর্থতাও বড় আঘাত হানতে পারে। আমির খান-এর অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাকেই সামনে এনে দেয়। এখন দেখার, তিনি কবে এবং কীভাবে আবার দর্শকদের সামনে ফিরে আসেন।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Aamir Khan Relationship, Marriage Breakup Reasons | পর পর দু’টি বিচ্ছেদের পর আত্মসমালোচনায় আমির খান: কাজপাগল মানসিকতা ও নিঃসঙ্গতার অভ্যাস কি দাম্পত্যের শত্রু?




