সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : রান্নার গ্যাস নিয়ে বড়সড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। যেসব গৃহস্থালিতে নলবাহিত গ্যাস বা পিএনজি (PNG) ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেখানে আর এলপিজি (LPG) চালিয়ে যাওয়ার অবকাশ রাখা হচ্ছে না। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পিএনজি গ্রহণ না করলে সংশ্লিষ্ট পরিবারের এলপিজি সংযোগ তিন মাসের মধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের তরফে জারি হওয়া ‘প্রাকৃতিক গ্যাস ও পেট্রোলিয়াম পণ্য বিতরণ নির্দেশিকা, ২০২৬’ অনুযায়ী এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। সূত্রের খবর, পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তারই প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ। দেশের রান্নার গ্যাসের বড় অংশ এখনও আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিকল্প ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।
মন্ত্রকের এক উচ্চপদস্থ কর্তা সুজাতা শর্মা ইতিমধ্যেই বহুবার পিএনজি ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘নলবাহিত গ্যাস ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের আরও সহজ এবং ধারাবাহিক পরিষেবা দেওয়া সম্ভব।’ যদিও দেশের বহু অংশে এখনও পিএনজি পরিষেবা পৌঁছায়নি, তবু যেখানে পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে, সেখানে তা বাধ্যতামূলক করার পথে হাঁটছে সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব এলাকায় পিএনজি পরিষেবা প্রযুক্তিগতভাবে চালু রয়েছে, সেখানে এলপিজি-র পরিবর্তে এই ব্যবস্থাই ব্যবহার করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে গ্রাহকরা পিএনজি সংযোগ না নিলে তাঁদের এলপিজি পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাবে। তবে যেসব এলাকায় প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে বা পরিকাঠামো এখনও তৈরি হয়নি, সেখানে এলপিজি চালু থাকবে। এই ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি দেখাতে হবে।
কেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, দেশের মোট এলপিজি চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। এই নির্ভরতা কমাতে এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে পিএনজি-এর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কারণ, নলবাহিত গ্যাস দেশের মধ্যেই উৎপাদিত হয় এবং একাধিক উৎস থেকে সরবরাহ সম্ভব। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতার প্রভাব তুলনামূলক কম পড়ে। পিএনজি ব্যবস্থার আরেকটি বড় সুবিধা হল নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। এলপিজির ক্ষেত্রে সিলিন্ডার বুকিং, ডেলিভারি এবং স্টক সংক্রান্ত ঝামেলা থাকলেও পিএনজি-তে সেই সমস্যা নেই। রান্নার সময় সরাসরি নল থেকে গ্যাস পাওয়া যায়, ফলে ব্যবহারকারীদের জন্য এটি অনেক বেশি সুবিধাজনক বলে দাবি করা হচ্ছে। এই নির্দেশিকার মাধ্যমে কেন্দ্র পিএনজি পরিকাঠামো দ্রুত সম্প্রসারণের দিকেও নজর দিচ্ছে। তৈল সচিব নীরজ মিত্তল জানিয়েছেন, ‘এই উদ্যোগের ফলে জ্বালানি ব্যবস্থায় নতুন গতি আসবে।’ তাঁর মতে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং পরিষেবা চালু করা হলে সাধারণ মানুষের কাছে এই ব্যবস্থা আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে।
নতুন নিয়মে আরও বলা হয়েছে, পিএনজি সংযোগের আবেদন জমা পড়ার তিন দিনের মধ্যে অনুমোদন দিতে হবে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিষেবা চালু করতে হবে। কোনও আবেদন অকারণে বাতিল করা যাবে না। একই সঙ্গে অনুমোদিত সংস্থাগুলিকে চার মাসের মধ্যে পাইপলাইন বসানোর কাজ শুরু করতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমা না মানলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে প্রশ্নও উঠছে। দেশের বহু গ্রামীণ এবং প্রত্যন্ত এলাকায় এখনও পিএনজি পরিষেবা পৌঁছয়নি। সেখানে এই নিয়ম কার্যকর করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। পাশাপাশি, নতুন সংযোগ নেওয়ার খরচ এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা চলছে।
অন্যদিকে, শহুরে এলাকায় অনেকেই ইতিমধ্যেই পিএনজি ব্যবহার করছেন এবং তাঁরা এর সুবিধার কথা তুলে ধরছেন। তাঁদের মতে, রান্নাঘরে ধারাবাহিক গ্যাস সরবরাহ থাকায় দৈনন্দিন জীবনে সুবিধা অনেকটাই বেড়েছে। কেন্দ্রের এই নতুন পদক্ষেপ জ্বালানি ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এলপিজি থেকে ধীরে ধীরে পিএনজি-তে স্থানান্তর ঘটিয়ে ভবিষ্যতে একটি স্থিতিশীল এবং কম আমদানিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই নির্দেশিকার বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।
ছবি : সংগৃহীত ও প্রতীকী
আরও পড়ুন : Shivalik LPG tanker India | গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে এলপিজি বোঝাই ‘শিবালিক’




