সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ কলকাতা : রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় বড়সড় অগ্রগতির কথা জানাল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। প্রায় ৬০ লক্ষ ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৪০ লক্ষের তথ্য যাচাই ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন হয়েছে বলে রবিবার জানানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৮ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এখনও প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই বাকি রয়েছে, যা মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমার আগেই সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যে প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৬ এপ্রিল নির্ধারিত। তার আগেই বাকি সমস্ত বিবেচনাধীন নামের বিষয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। কমিশনের বক্তব্য, ‘সমস্ত তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তালিকা সম্পূর্ণ করার কাজ চলছে।’
আরও পড়ুন : মোবাইল রিচার্জের দাম ঊর্ধ্বমুখী: ভারতে বাড়ছে ডিজিটাল খরচের চাপ, বিপাকে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র পরিবার
এই বিশাল প্রক্রিয়ার পেছনে রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশ। সেই নির্দেশ মেনে বিচারকদের তত্ত্বাবধানে চলছে প্রতিটি নামের খুঁটিনাটি যাচাই। জানা গেছে, এই কাজে শুধু রাজ্যের বিচারক নন, ভিন্রাজ্য থেকেও বিচারকদের আনা হয়েছে। মোট ৭০৫ জন বিচারক এই বিশাল দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারির শেষে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকেই এই প্রক্রিয়ার সূচনা। ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারের সংখ্যা ছিল ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫। এরপর ধাপে ধাপে শুনানি ও যাচাইয়ের মাধ্যমে তালিকা আপডেট করা হচ্ছে। কমিশন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এই আপডেটেড তালিকা পর্যায়ক্রমে প্রকাশ করা হবে। এরই মধ্যে সোমবার রাতে প্রথম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যদিও এই তালিকায় কতজন ভোটারের নাম যুক্ত হয়েছে বা বাদ পড়েছে, তার নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়নি। তবে মোট বাদের সংখ্যা যে ক্রমশ বাড়ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে সামগ্রিক তথ্য বিশ্লেষণেই।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চূড়ান্ত ও খসড়া তালিকা মিলিয়ে ইতিমধ্যেই ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ গিয়েছে। প্রথম অতিরিক্ত তালিকা থেকেই প্রায় ১২ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে বলে জানা গেছে। এই সংখ্যা রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধনের ব্যাপকতাকে তুলে ধরছে। এই প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯। খসড়া তালিকা প্রকাশের সময় বাদ পড়েছিল ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯টি নাম। ফলে তখন তালিকায় মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জন। পরে ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকায় আরও ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জনের নাম বাদ পড়ে। সব মিলিয়ে তখনই মোট বাদ পড়া নামের সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২। খসড়া তালিকায় থাকা ভোটারদের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৫২ লক্ষ জনকে শুনানির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ‘নো-ম্যাপিং’ ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হন ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন। কমিশনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই ভোটারেরা ২০০২ সালের শেষ এসআইআর (SIR) রেকর্ডের সঙ্গে নিজেদের তথ্যের মিল দেখাতে পারেননি।
অন্যদিকে, প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে তথ্যগত অসঙ্গতির ভিত্তিতে শুনানির জন্য ডাকা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হয়। এই শুনানির পর ৮২ লক্ষ ভোটারের নথি যাচাই করে ইআরও (ERO) এবং এইআরও (AERO)-দের সঙ্গে একমত হয় কমিশন। কমিশনের একজন কর্তার কথায়, ‘শুনানির ভিত্তিতে যাচাই করে নির্দিষ্ট কিছু নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এই প্রক্রিয়ায় ৫ লক্ষের বেশি নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল প্রথম ধাপেই। এরপর প্রকাশিত হয় প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।
বর্তমান চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। এর মধ্যে এখনও ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল, যার মধ্যে এখন বড় অংশের নিষ্পত্তি হয়ে গিয়েছে। ভোটার তালিকার এই বিস্তৃত পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে উঠে এসেছে। তথ্য যাচাই, শুনানি এবং বিচারকদের সরাসরি অংশগ্রহণ, এসব মিলিয়েই এই প্রক্রিয়া নজর কাড়ছে বিভিন্ন মহলে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বাকি নামগুলির নিষ্পত্তি সম্পন্ন হলে চূড়ান্ত চিত্র আরও পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Rajanya Haldar Sonarpur, Niamal Nasir Raninagar Independent candidate | সোনারপুরে নির্দল লড়াইয়ে রাজন্যা, রানিনগরে কবি নিয়ামাল নাসির, বিধানসভা ভোটে নতুন সমীকরণে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ




