PLI Scheme India investment employment | পিএলআই প্রকল্পে ২.১৬ লক্ষ কোটি বিনিয়োগ, ১৪ লক্ষ কর্মসংস্থান, মেক ইন ইন্ডিয়ার বড় সাফল্য

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : ভারতের শিল্পোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানের মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগ ও পিএলআই (Production Linked Incentive বা PLI) প্রকল্প। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রকল্পগুলির মাধ্যমে ২.১৬ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ এসেছে দেশে, উৎপাদন বেড়েছে ২০.৪১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি এবং ১৪.৩৯ লক্ষেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। এই তথ্য রাজ্যসভায় তুলে ধরেছেন বাণিজ্য ও শিল্প প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদ (Jitin Prasada) সরকারি সূত্রে খবর, ২০১৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ (Make in India) কর্মসূচীর লক্ষ্য ছিল দেশকে উৎপাদন, ডিজাইন এবং উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। বর্তমানে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া ২.০’ (Make in India 2.0) -এর আওতায় ২৭টি ক্ষেত্রে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, যার মধ্যে ১৫টি উৎপাদন ক্ষেত্র রয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার একযোগে কাজ করছে। পিএলআই (PLI) প্রকল্পগুলি এই বৃহৎ কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে। মোট ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এই প্রকল্প চালু রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, আইটি হার্ডওয়্যার, ফার্মাসিউটিক্যালস, অটোমোবাইল, সোলার পিভি মডিউল, টেলিকম পণ্য, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বস্ত্র, ড্রোন এবং বিশেষ ইস্পাত উৎপাদন। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল অতিরিক্ত উৎপাদন ও বিক্রয়কে উৎসাহিত করা এবং দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করা।

আরও পড়ুন : Indian Railways stone pelting law | ট্রেন দেখলেই পাথর ছোড়া? এবার সরাসরি জেল, কড়া সতর্ক করল ভারতীয় রেল

সরকারি সূত্রে খবর, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পিএলআই প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ ২.১৬ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এর ফলে উৎপাদন ও বিক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০.৪১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি। একই সঙ্গে এই প্রকল্পগুলি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে ১৪.৩৯ লক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। অনুমোদিত আবেদন সংখ্যা ৮৩৬, যা বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে কার্যকর হয়েছে বলে উল্লেখ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতিন প্রসাদ (Jitin Prasada) বলেন, ‘পিএলআই প্রকল্প দেশের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।’ তাঁর মতে, এই প্রকল্পের ফলে রপ্তানি বাড়ছে এবং একাধিক ক্ষেত্রে আমদানির উপর নির্ভরতা কমছে। শুধু বড় শিল্প নয়, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (MSME) -এর ক্ষেত্রেও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রোজগার সৃজন উদ্যোগের (PMEGP) মাধ্যমে নতুন ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তুলতে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিমের মাধ্যমে সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।

এছাড়াও ‘আত্মনির্ভর ভারত’ (Aatmanirbhar Bharat) উদ্যোগের আওতায় ৫০,০০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে, যেখানে সরকার ১০,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে এবং বাকি অংশ বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা হচ্ছে। ২০২৬-২৭ বাজেটে এই তহবিলকে আরও শক্তিশালী করতে অতিরিক্ত ২,০০০ কোটি টাকার ঘোষণা করা হয়েছে। ডিজিটাল ইন্ডিয়া (Digital India) কর্মসূচীর মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন পরিষেবা এবং তথ্যভিত্তিক ব্যবস্থাপনা শিল্পের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করছে। একই সঙ্গে জাতীয় শিল্প করিডোর উন্নয়ন কর্মসূচী (National Industrial Corridor Development Programme বা NICDP) -এর আওতায় দেশজুড়ে নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২০টি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে এবং ৩০৬টি প্লাগ-অ্যান্ড-প্লে শিল্প পার্ক তৈরি হয়েছে। আরও ২০টি নতুন শিল্প পার্ক এবং স্মার্ট শহর গড়ে তোলার কাজ চলছে। এছাড়াও উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য ‘উন্নতি’ (UNNATI) প্রকল্প চালু হয়েছে, এর মাধ্যমে আঞ্চলিক শিল্পোন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানে জোর দেওয়া হচ্ছে। অন্য দিকে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য ২৮,৪০০ কোটি টাকার বিশেষ শিল্প উন্নয়ন প্রকল্প চালু রয়েছে, যা নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক।

কর্মসংস্থানের প্রসারে ‘এমপ্লয়মেন্ট লিঙ্কড ইনসেনটিভ’ (Employment Linked Incentive বা ELI) প্রকল্পও চালু হয়েছে। প্রায় ৯৯,৪৪৬ কোটি টাকার এই প্রকল্প আগামী দুই বছরে ৩.৫ কোটিরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১.৯২ কোটি নতুন কর্মী প্রথমবার কাজের জগতে প্রবেশ করবেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী ইন্টার্নশিপ প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের শিল্পক্ষেত্রে বাস্তব অভিজ্ঞতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১.৮১ লক্ষ আবেদন জমা পড়ে এবং ৬০,০০০-এর বেশি প্রার্থী ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেয়েছেন। দ্বিতীয় পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য সাড়া মিলেছে। সরকারি উদ্যোগগুলির মধ্যে ন্যাশনাল সিঙ্গল উইন্ডো সিস্টেম (National Single Window System), জিআইএস-ভিত্তিক ল্যান্ড ব্যাংক (GIS Land Bank), এফডিআই (FDI) নীতির সংস্কার এবং ‘পিএম গতি শক্তি’ (PM Gati Shakti) মাস্টার প্ল্যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এগুলির মাধ্যমে শিল্প স্থাপনে বাধা কমানো এবং বিনিয়োগ সহজ করা হচ্ছে। ভারতের শিল্পক্ষেত্রে এই ধারাবাহিক উন্নয়ন দেশের অর্থনীতিকে নতুন গতি দিচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতি দেশীয় শিল্পের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হচ্ছে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় সরকার। একইভাবে আন্তর্জাতিক বাজারেও ভারতের অবস্থান ক্রমশ মজবুত হচ্ছে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Best chili chicken recipe Bengali, how to make chili chicken crispy | বাড়ির রান্নাঘরেই রেস্তোরাঁ-স্টাইল চিলি চিকেন! স্বাদ না আসার ৫ বড় ভুল জানলে বদলে যাবে আপনার রান্না

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন