সাশ্রয় নিউজ ডেস্ক ★ নতুন দিল্লি : নতুন করে কড়া অবস্থান নিল ভারতীয় রেল (Indian Railways)। ট্রেনে পাথর ছোড়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় এবার আর কোনও রকম ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানিয়ে দিল রেল কর্তৃপক্ষ। বিশেষ করে দ্রুতগতির আধুনিক ট্রেন চালু হওয়ার পর এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগ বাড়িয়েছে। গত কয়েক বছরে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস চালু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় ট্রেন লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এতে শুধু ট্রেনের কাচ ভাঙছে না, আহত হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরাও। জানালার পাশে বসা শিশুদের উপর এই আঘাত সবচেয়ে বেশি পড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
আরও পড়ুন : PM Narendra Modi : জ্বালানি ও সারের জোগান নিয়ে বড় বার্তা মোদীর
রেল সূত্রে খবর, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পূর্ব রেল-এর বিভিন্ন ডিভিশনে একাধিক ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। হাওড়া ডিভিশনে ৬টি ঘটনায় মামলা হয়েছে এবং ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইভাবে শিয়ালদহ ডিভিশনে ৪টি ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে আসানসোল ডিভিশনে ৬টি ঘটনার মধ্যে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। মালদহ ডিভিশনে ৫টি ঘটনার মধ্যে ৩ জন গ্রেফতার হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যাচ্ছে, সমস্যা শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে রয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই ধরনের কাজ শুধু অসভ্যতা নয়, এটি গুরুতর অপরাধের আওতায় পড়ে। ভারতীয় রেল-এর আইন অনুযায়ী, ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করলে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। রেলওয়ে আইনের ১৫২ ধারা অনুসারে, ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রেন বা যাত্রীদের ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে পাথর ছোড়া হলে অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এছাড়াও ১৫৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী, যদি অবহেলা বা বেপরোয়া আচরণের ফলে এই ঘটনা ঘটে, কিন্তু এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে। অর্থাৎ যে কোনও অবস্থাতেই এই অপরাধকে হালকাভাবে নেওয়া হবে না। এই বিষয়ে শিবরাম মাঝি, যিনি পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক, জানান, ‘কেউ যেন না ভাবে এই কাজ করে পার পেয়ে যাবে। প্রতিটি রেললাইন, প্রতিটি স্টেশন এখন সিসিটিভির আওতায় রয়েছে। সমস্ত গতিবিধি রেকর্ড করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই ফুটেজ ব্যবহার করেই অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ রেল সূত্রে খবর, নিরাপত্তা বাড়াতে স্টেশন ও ট্র্যাকের পাশে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও শহরতলির কিছু এলাকায় এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়। অনেক সময় কৌতূহল বা অবহেলার কারণে এমন কাজ করা হলেও তার ফল যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। একটি পাথর ছোড়া মানে শুধু একটি কাচ ভাঙা নয়, তা কারও জীবনের ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে।
যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেল এখন প্রযুক্তির উপর বেশি জোর দিচ্ছে। সিসিটিভি ছাড়াও ড্রোন নজরদারি, রেল পুলিশি টহল, সবকিছু মিলিয়ে নজরদারির জাল আরও শক্ত করা হচ্ছে। রেলের এই কড়া অবস্থানের ফলে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা কমবে বলেই আশা করা হচ্ছে। শুধু আইন নয়, সামাজিক সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। কারণ এই ধরনের কাজের পিছনে অনেক সময় অজ্ঞতা বা অবহেলাই প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে ভারতীয় রেল স্পষ্ট করে দিয়েছে, ট্রেনে পাথর ছোড়া কোনওভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। যারা এই কাজে যুক্ত, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই অবস্থায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেলের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে একটাই কথা পরিষ্কার যে ট্রেনে পাথর ছোড়া আর ‘ছোটখাটো দুষ্টুমি’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, এটি সরাসরি আইনের চোখে গুরুতর অপরাধ।
ছবি : প্রতীকী ও সংগৃহীত
আরও পড়ুন : Indian Railways Healthcare Facilities | রেল কর্মীদের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, চাকরিতেও বড় সুযোগ দিল ভারতীয় রেল




