Transgender Bill India, Rajya Sabha Bill Pass | রাজ্যসভায় পাশ রূপান্তরকামী সুরক্ষা সংশোধনী বিল, লিঙ্গপরিচয় নিয়ে নতুন নিয়মে দেশজুড়ে বিতর্ক তীব্র

SHARE:

সাশ্রয় নিউজ ★ নতুন দিল্লি : দেশের সংসদে বড় আইনি পদক্ষেপের মধ্যেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এল রূপান্তরকামী সুরক্ষা সংশোধনী বিল (Transgender Bill India)। লোকসভার পর রাজ্যসভাতেও ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে গেল এই বিল, যা ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও সামাজিক স্তরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে গেলেও এর বিভিন্ন ধারা ঘিরে মতভেদ ক্রমশ বাড়ছে। বুধবার সংসদের উচ্চকক্ষে এই বিল নিয়ে আলোচনা চলাকালীন বিরোধী শিবিরের তরফে ডিএমকে (DMK) -এর সাংসদ তিরুচি শিবা (Tiruchi Siva) বিলটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন। তবে সেই প্রস্তাব গৃহীত হয়নি এবং ধ্বনি ভোটের মাধ্যমেই বিলটি পাশ হয়ে যায়। নতুন সংশোধনী বিলে ২০১৯ সালের রূপান্তরকামী সুরক্ষা আইনে একাধিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিতর্ক তৈরি হয়েছে ‘ট্রান্সজেন্ডার নাগরিক’ -এর সংজ্ঞা নিয়ে। বিল অনুযায়ী, স্ব-স্বীকৃত লিঙ্গপরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে আর ট্রান্সজেন্ডার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। অর্থাৎ, নিজের ইচ্ছামতো লিঙ্গপরিচয় নির্ধারণের সুযোগ থাকছে না, এই অভিযোগেই সরব হয়েছে বিরোধীরা।

আরও পড়ুন : PM Narendra Modi : জ্বালানি ও সারের জোগান নিয়ে বড় বার্তা মোদীর

আরও পড়ুন : Rajanya Haldar Sonarpur, Niamal Nasir Raninagar Independent candidate | সোনারপুরে নির্দল লড়াইয়ে রাজন্যা, রানিনগরে কবি নিয়ামাল নাসির, বিধানসভা ভোটে নতুন সমীকরণে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ

সংসদে এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়নমন্ত্রী বীরেন্দ্র কুমার (Virendra Kumar) বলেন, ‘এই সংশোধনী সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশকে সুরক্ষার আওতায় আনার লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। জৈবিক কারণে যাঁরা বৈষম্যের শিকার হন, তাঁদের জন্য এই আইন কাজ করবে।’ তাঁর দাবি, এই বিলের মাধ্যমে রূপান্তরকামী নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা আরও মজবুত করা হবে। মন্ত্রী আরও জানান, ইতিমধ্যেই দেশের ৩০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ট্রান্সজেন্ডার কল্যাণ বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যাতে সংশ্লিষ্ট সম্প্রদায়ের উন্নয়ন এবং অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা যায়। তাঁর কথায়, ‘সরকার এই সম্প্রদায়ের পাশে রয়েছে এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তবে বিরোধী দলগুলির বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, এই বিল ব্যক্তির মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। সিপিএম (CPM) -এর সাংসদ জন ব্রিট্টাস (John Brittas) এই বিলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ‘এটি এক দুঃখজনক দিন। এই ধরনের আইন আমাদের সমাজকে পিছনের দিকে ঠেলে দিতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের বহু দেশ যেখানে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ করছে, সেখানে আমরা উল্টো পথে হাঁটছি।’ জন ব্রিট্টাস অভিযোগ করেন, এই বিলের মাধ্যমে রূপান্তরকামীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে এবং তাঁদের উপর জোর করে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে। তাঁর কথায়, ‘এত তাড়াহুড়ো করে এই বিল পাশ করানোর কোনও যুক্তি নেই। আরও আলোচনা প্রয়োজন ছিল।’

একই সুর শোনা যায় আম আদমি পার্টি (AAP) -এর সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল (Swati Maliwal) -এর বক্তব্যেও। তিনি বলেন, ‘নতুন বিলে এমন কিছু ধারা রয়েছে, যেখানে কাউকে রূপান্তরকামী হিসেবে পরিচিত হতে উৎসাহিত করাও অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এই ধরনের বিধান অত্যন্ত অস্পষ্ট এবং ঝুঁকিপূর্ণ।’ তাঁর আশঙ্কা, এর ফলে চিকিৎসক, পরিবারের সদস্য কিংবা বন্ধুরাও সমস্যায় পড়তে পারেন। এই বিলের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল লিঙ্গপরিচয় নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন। অভিযোগ উঠেছে, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পরিবর্তে একটি চিকিৎসক বোর্ডের মাধ্যমে লিঙ্গপরিচয় নির্ধারণ করা হবে। ফলে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার প্রশ্ন সামনে এসেছে। এছাড়াও, বিলটিতে জোর করে লিঙ্গ পরিবর্তনের জন্য অঙ্গহানি করানোর বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে, যা একদিকে সুরক্ষার কথা বললেও অন্যদিকে বিভিন্ন শর্ত আরোপের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে।

আরও পড়ুন : West Bengal Voting-politics2026: পশ্চিমবঙ্গের ভোট-রাজনীতি: এগিয়ে কে-বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম না কংগ্রেস? (আজ তৃতীয় কিস্তি)

সামাজিক স্তরেও এই বিল নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। একাংশের মতে, এই সংশোধনী নির্দিষ্ট কিছু গোষ্ঠীকে সুরক্ষার আওতায় আনতে চাইলেও, অন্য অংশের অধিকার সীমিত করতে পারে। আবার অন্য একটি অংশ মনে করছে, আইনি কাঠামোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণের প্রয়োজন রয়েছে। সংসদের দুই কক্ষেই বিলটি পাশ হয়ে যাওয়ায় এখন তা আইনে পরিণত হওয়ার পথে। তবে এর প্রভাব এবং বাস্তব প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিয়ে এখনও প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতে এই আইনকে কেন্দ্র করে আরও বিতর্ক ও আলোচনা সামনে আসতে পারে।

ছবি : সংগৃহীত
আরও পড়ুন : India Fertilizer Stock 163 LMT, Nirmala Sitharaman | ভারতে সারের ভাণ্ডার রেকর্ড উচ্চতায়: ১৬৩ লক্ষ মেট্রিক টন মজুত, আত্মনির্ভরতার পথে বড় পদক্ষেপ সরকারের

Sasraya News
Author: Sasraya News

আরো পড়ুন